Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৫-২০১২

নির্বাচনে যাওয়ার চাপ বাড়ছে বিএনপিতে

নির্বাচনে যাওয়ার চাপ বাড়ছে বিএনপিতে
ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর চাপ বাড়ছে। আগ্রহী প্রার্থী থেকে শুরু করে বেশিরভাগ নেতাকর্মী চান আসন্ন এই নির্বাচনে দল অংশ নিক। অবশ্য প্রকাশ্যে এই নির্বাচনে যাওয়ার বিরোধিতা করলেও দলের হাইকান্ডেরও ইচ্ছা নির্বাচনে অংশ নেয়ার। এ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে প্রস্তুতি। অনেক আগ্রহী প্রার্থী লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দলের নীতি নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ইভিএম পদ্ধতি এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি এখনো মেনে নেয়নি। এজন্য এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। অন্যদিকে জনগণের দল হিসেবে নগরবাসীর সুবিধার বিষয় ও রাজনৈতিক কতৃত্বের ব্যাপারটি মাথায় রেখে নির্বাচনে ছাড় দেয়ারও সুযোগ নেই। তাই নাগরিক কমিটির ব্যানারে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি তাতে মৌন সম্মতি দেবে। সূত্র জানায়, নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে বিএনপি। এক্ষেত্রে যারা নির্বাচন করতে আগ্রাহী তাদের দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের কৌশল নিতে পারে দলটি। তাই যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান তাদের ব্যাপারে আপত্তি করবে না দলটি। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কোনো অবস্থাতেই রাজনীতি প্রতিপক্ষের হাতে ঢাকার কর্তৃত্ব ছেড়ে দিতে রাজি নন বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরা। কিন্তু প্রকাশ্যে এই নির্বাচনে যাওয়ার বিরোধিতা করায় হাইকমান্ডকে রাজি করাতে তারা বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করছেন। দেখাচ্ছেন অনেক যুক্তি। তবে হাইকমান্ডও তাদের একেবারে নিরাশ করেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমতি নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা। শীর্ষ নেতারা তাদের বলেছেন, নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকতে। তবে আগ্রহীদের মধ্যে যাদের দল সমর্থন দেবে না তাদের অবশ্য বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা কম। সূত্র মতে, নির্বাচনে অংশ নিতে প্রভাবশালীরা সরাসরি বিএনপি চেয়ার-পারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই/এক জন গ্রিন সিগন্যালও পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। এরপরও প্রতিযোগিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে আগ্রহীরা তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ দু-একদিনের মধ্যে লন্ডন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে সিঙ্গাপুর, ভারতসহ আশপাশের রাষ্ট্র থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে তারেকের সঙ্গে যোগোযোগ করার চেষ্টা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে অংশ নিতে আগ্রহী ডেমরা এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং উত্তরের সাবেক কমিশনার এম এ কাইউম এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এছাড়া উত্তরের আরেক আগ্রহী প্রার্থী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমও দেশে নেই। সূত্রমতে, মেয়রপ্রার্থীদের পাশাপাশি আগ্রহী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বসে নেই। দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা ১২ মার্চসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সাঁটিয়ে দিয়েছেন নিজ নিজ এলাকায়। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতাদের কাছে তদবির-লবিং করছেন। জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশার প্রমুখ। এছাড়া কারাবন্দি বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএ খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. সাহাবউদ্দিন, ৩৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হারুন অর রশীদও আগ্রহী। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন_ নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমএ কাইউম, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান খোকন ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে দল এ মুহূর্তে কিছু ভাবছে না। তফসিল ঘোষণা করার পর দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। একই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইভিএম পদ্ধতি ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি মেনে নেয়নি। সেক্ষেত্রে সিটি নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এরপরেও জনগণের দল হিসেবে বিএনপি রাজনৈতিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভবনা শতভাগ। এজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা ঠিক হবে না। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে দাবি করে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন প্রয়োজন শুধু দলের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত। ঢাকার অনেক উন্নয়নে নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি নির্বাচনে বিজয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাবেক কাউন্সিলর এম এ কাইউম বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও অনেক দূর এগিয়েছে। নগরবাসীর বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বিষয়টি চিন্তা করে দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি বিএনপির সমর্থিতদের বিজয়ের শতভাগ সম্ভাবনার বিষয়টিও দলের হাইকমান্ড মাথায় রাখবেন। এদিকে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সরকার ইচ্ছা করলেও কারচুপি করতে পারবে না। কারণ রাজধানীবাসী সচেতন আর মিডিয়া এখন অনেক শক্তিশালী। সে ক্ষেত্রে নগর নির্বাচনে এই সরকারের অধীনে অংশ নেয়া যেতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্য উত্তরের সিটি নির্বাচনে আংশ নিতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তের চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকেই বেশি প্রাধান্য দিবেন বলে জানান তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে