Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৫-২০১২

বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখে বাঁধ হতে দেয়া হবে না- সিলেটের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখে বাঁধ হতে দেয়া হবে না- সিলেটের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখে বাঁধ হতে দেয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যে ভারতকে বলে দিয়েছি টিপাইমুখ বাঁধে যৌথ সমীক্ষা চাই। গতকাল বিকালে সিলেটের আলীয়া মাদরাসা ময়দানে বিশাল সমাবেশে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আপনারা আবার নির্বাচিত করুন, নতুন নতুন উন্নয়ন উপহার দেবো। আমরা তিন বছর ধরে দিয়েই যাচ্ছি। আরও দেবো। আগামী নির্বাচনে আবার ভোট দিন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে ভোট দিলে সিলেটের একগুচ্ছ উন্নয়ন করার কথা জানিয়ে বলেন, এবার ক্ষমতায় এসে মিয়ানমারের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা এনেছি।
আগামীতে ক্ষমতায় এলে ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা আনবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথা দিয়েছিলাম সিলেটের উন্নয়ন করবো। আপনারা না বললেও আমি সিলেটের উন্নয়ন করছি। এবার এসে শাহজালাল সারখানা উদ্বোধন করলাম। এছাড়া দু’টি বিদ্যুৎ প্ল্যান্টসহ সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। তিনি বলেন, আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি। শিক্ষার হার বাড়িয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। সাড়ে ৭ লাখ মানুষকে চাকরি দিয়েছি। সিলেটে সরকারের তিন বছরের সিলেটের উন্নয়নের বিভিন্ন ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং সিস্টেমের কাজ শুরু করেছি। লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট চালু করবো। আগামীতে ক্ষমতায় এলে সিলেটের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করবো। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। জনগণকে দিই। আর বিএনপি বোমা, সন্ত্রাস, খুন ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি কি দিয়েছে ৫ বছর। বিদ্যুতের পরিবর্তে দিয়েছে খাম্বা। যেখানেই যাবেন সেখানেই পাবেন খাম্বা। খাম্বা নিয়ে ব্যবসা করেছে। ২০০৪ সালে সিলেটের মাজার প্রাঙ্গণে বোমা হামলা করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি বোমা হামলা করা হয়। বিএনপি বোমা হামলা করে বহু মানুষকে খুন করেছে। তাদের ৫ বছরে চলেছে খুন ও হত্যার রাজনীতি। তিনি বলেন, আমরা মানুষকে শান্তি দিয়েছি। দেশকে উন্নয়নে এগিয়ে নিচ্ছি। উন্নয়ন করছি। দেশে এখন উন্নয়নে জোয়ার বইছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ আশাব্যঞ্জক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করেছে মহাজোট সরকার। তিনি সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আগামীতে এর ধারা বজায় রাখতে মুক্তিযোদ্ধের পক্ষের সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন- তিনি খুব মুশকিলে আছেন, পাকিস্তানের টাকা খেয়ে ধরা পড়েছেন। তিনি বলেন, সিলেটের ১৪ দলের জনসভায় লাখ লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে সিলেটের মাটি শেখ হাসিনার ঘাঁটি। রেলমন্ত্রী মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনেই আপনাকে উপহার দেয়া হয়েছে তাই এ অঞ্চলের উন্নয়নে মানুষ ১৬ আনাই দাবি করতে পারে। সুরঞ্জিত সেন সিলেট মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে রূপান্তর, সিলেট-ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইন চালুকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ দেওয়ান ফরিদ গাজীর আসনে উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনের তথ্য তুলে ধরে বলেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারয়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণ হয়েছে। তত্ত্বধবায়ক সরকার গণতন্ত্রের পরিপন্থি মন্তব্য করে আশরাফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আবারও শেখ হাসিনার সরকারকে বিজয়ী করতে তিনি সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময় এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত দেশে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের লাল-সবুজের পতাকা ব্যবহার করতে দিয়েছেন।  ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা তাদের বিচার করছেন- এতেই প্রমাণ হয় কারা স্বাধীন দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার ভাষণে সিলেটের শিক্ষা সেক্টরে বিগত ৩ বছরের বিবরণ তুলে ধরেন। স্থানীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ তথ্য দিয়ে নাহিদ বলেন, সরকার দেশের সব বিভাগেই উন্নয়ন করছে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া মহাজোট সরকার দেশের গণতন্ত্র রক্ষার সরকার উল্লেখ করেন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি জামায়াতকে কাছে টেনে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। চারদলীয় জোট মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে মন্তব্য করে ইনু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান পরিপন্থি এবং এর ৫টি কারণ তুলে ধরেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত যেখানে রায় দিয়ে যা বাতিল করেছে তা নিয়ে আন্দোলন করে কোন লাভ হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।  তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা জয় করে মহাজোট সরকার তথা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তিনি টিপাইমুখ নিয়ে ভারতকেও কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলে উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন। ওয়ার্কার্স পাটির রাশেদ খান মেনন বলেন- নিজামী, সাঈদীর বিচার প্রতিহত করার স্বপ্ন পূরণ হবে না। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে মেনন সংসদে গিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা প্রমাণ করে খালেদা নির্বাচন নিয়ে মহাচক্রান্তে ব্যস্ত। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান। এরপর ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দেন অপু উকিল এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ধনঞ্জয় পুরকায়স্থ, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান সোহাগ, জাসদ সিলেট শাখার সভাপতি কলমন্দর আলী, ওয়ার্কার্স নেতা সিকান্দর আলী, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, আবদুল মান্নান এমপি, জৈবুন্নেছা হক এমপি, সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নুরুল হুদা মকুট, মৌলভীবাজারের নেসার আহমদ, হবিগঞ্জের ড. মুসফিক হোসেন চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ড. শহীদুল্লা হক সিকদার, এডভোকেট এনামুল হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জনসভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এমপি, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদসহ সিলেট-১৯ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, জাসদ এবং  ওয়ার্কার্স পার্টির সিলেটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে ১৪ দলের নাম দিয়ে জনসভা হলেও জাতীয় পার্টি সভায় যোগ দেয়নি। ফেঞ্চুগঞ্জের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে সিলেটে এসে পৌঁছান।
তিনি সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন ভবনের, আলমপুরে পাসপোর্ট অফিসের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। আলীয়া মাদরাসা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। দলীয় নেতারা বাধা ডিঙিয়ে মূল মঞ্চ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেত্রীর সমালোচনা করে আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী বিগত দিনে কালো টাকা সাদা করেছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রীও কালো টাকা সাদা করেছেন। তার ছেলেরা মানি লন্ডারিং করেছে। এখন আমেরিকা থেকে এসব অভিযোগ আসছে। তিনি বলেন, এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখবো। চোরের মার বড় গলা যেমন আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রীর অবস্থাও তেমন। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি করে তিনি যে দুর্নাম কুড়িয়েছেন তা আমরা মুছছি। আমরা সীমান চিহিৃত করেছি। স্থল সীমার পাশাপাশি সমুদ্র সীমা নিয়ে মামলা করে জয়ী হয়েছি। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ভারতের বিরুদ্ধেও মামলায় লড়বো। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎনীতি চালু করবো। নতুন নীতিতে যে এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, সে এলাকার চাহিদা আগে মেটানো হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করতে দেশে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু ওই খুনিরা পার পায়নি। তিনি বলেন, এবারও যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে না। যারা গণহত্যা, নারী ধর্ষণ করেছে, তাদের বিচার হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা পরাজিত শক্তির কাছ থেকে টাকা খায় তারা দেশের উন্নয়ন করবে কিভাবে। তারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি। শেখ হাসিনা সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে আগামী দিনে তার দলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
হাসান চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন হয়। দেশে ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল ফার্টিলাইজার নামে নতুন একটি সারকারখান তৈরি করছে। দেশের বাকি ৬টি সারকারখানা পুরনো হওয়ায় সেগুলোর মেরামত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নতুন আরও ৩টি সারকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় নিজস্ব উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে, যাতে খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পরমুখাপেক্ষী না হয়ে আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, ২০১০ সালে আমার চীন সফরের সময় শাহজালাল সারকারখানা নির্মাণের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চীন সরকার ১৬০০ মিলিয়ন আরএমভি ইউআন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ ৩৮ মাসে শেষ হবে। এ সারকারখানা বাস্তবায়নের জন্য যারা সহায়তা করেছেন আজকের এই শুভ দিনে আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সকালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের নির্মাণাধীন শাহজালাল সারকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নব্বই মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্যদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত, এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই- এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম। শিল্প সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি-জুন, স্থানীয় সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিদ্যুতের চাহিদা মাথায় রেখে দেশে আরও ৩০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যাদেশ প্রদান করা হচ্ছে। দেশের সোয়া কোটি লোক বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। সরকার ইতিমধ্যে ৩৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। যেসব স্থানে  বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে সেসব স্থানের উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয় লোকের জন্য এক ভাগ বরাদ্দ থাকবে। এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা মাঠে অবতরণের পর শাহজালাল সারকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ফলক উন্মোচন করেন। এসময় মোনাজাত পরিচালনা করেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজিম উদ্দীন চৌধুরী। উল্লেখ্য, ফেঞ্চুগঞ্জে বর্তমান সারকারখানার পাশে ১৬৫ একর জমির ওপর নির্মিতব্য নতুন শাহজালাল সারকারখানা স্থাপনে ব্যয় হচ্ছে ৫৪০৯ কোটি টাকা। তম্মধ্যে চীন সরকার অর্থায়ন করছে ৩৯৮৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ১৪২২ কোটি যোগান দেবে। শাহজালাল সারকারখানায় দৈনিক ১৭৬০ টন হিসেবে বার্ষিক ৫,৮০,৮০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হবে। ইউরিয়ার পাশাপাশি ১ হাজার টন হিসেবে বার্ষিক ৩,৩০০০০ টন এমোনিয়া উৎপাদন হবে। নব্বই মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শতভাগ উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাসভিত্তিক ওই কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয় ৭১৭.২৩ কোটি টাকা।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে