Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ , ২ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৭-২০১৫

হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ব্যবসায়ীকে তলব

হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ব্যবসায়ীকে তলব

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল- ঋণের নামে পাঁচটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী কথিত ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই সঙ্গে তাকে শনাক্তকারী তার স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনসহ মোট ১১ জনকে তলব করেছে দুর্নীতি বিরোধী এ প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়াহিদুর রহমানকে আগামী ১৯ এপ্রিল এবং তার স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজনদের আগামী ২৩ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলী তাদের তলব করে নোটিশ পাঠান। দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।

২৩ এপ্রিল যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন- ওয়াহিদুর রহমানের স্ত্রী মিসেস আসমা খাতুন, তার নিকট আত্মীয় গোলাম কাদির, গোলাম ফারুক, গোলাম হাবিব, গোলাম নবী, গোলাম গাউস, মিসেস রওশন আরা বেগম, গোলাম মোহম্মদ, গোলাম কবির, খন্দকার মেহমুদ আলম নাদিম এবং মনিরা মুন্নী (সাবানী)।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশের চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রতারক ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান। তিনি সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বর্তমানে ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হজম করার পর বেসিক ব্যাংক থেকেও টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, হাত বাড়িয়েছেন কৃষি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও আইডিএলসিতে।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ থাকলে তিনি আর অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ঋণ পাবেন না। তাই তিনি কখনও এক নামে ঋণ নেননি। ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি ঋণ নিয়েছেন। কখনো নিকট আত্মীয়দের নামে, আবার কখনও নিজের ভূয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে এসব ঋণ গ্রহণ করেছেন। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি হিসাবে ধরা পড়েনি।

যেমন ব্যক্তি ওয়াহিদুর রহমান বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ২০১১ সালে। জালিয়াতির দায়ে পদত্যাগী চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর মাধ্যমে তিনি ব্যাংকে ঢুকেন এবং একে একে বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণের নামে জনগণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আর এভাবে তিনি বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক (ওরিয়েন্টাল ব্যাংক) থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৫২ কোটি, সিটি ব্যাংকের ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এসব টাকা তিনি ঋণ নিয়েছেন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে। অথচ এসব ব্যাংকে ঋণের আবেদনপত্রে উল্লিখিত নাম-ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগগুলো দুদকে আসার পর কমিশন তা যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে গতবছর ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে কমিশন। পরে অনুসন্ধানী দলের একজন কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর দুজন মিলেই এ অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করছেন। অনুসন্ধানী দলের অন্যজন হলেন উপ-সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক।

ইতোমধ্যে অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাই এবারে ওয়াহিদুর রহমানসহ তার স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এজন্য গতকাল বুধবার ‘১৪/কে, দিলু রোড, ইস্কাটন, ঢাকা’ নামক ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওয়াহিদুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসার নাম করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে