Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (86 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৫-২০১৫

সোহাগপুরের বিধবাদের সঙ্গে ইমরানদের পান্তা-ইলিশ

কাজী মোবারক হোসেন


সোহাগপুরের বিধবাদের সঙ্গে ইমরানদের পান্তা-ইলিশ

শেরপুর, ১৫ এপ্রিল- নববর্ষে সোহাগপুরের সেই বিধবা পল্লীতে গিয়ে পান্তা-ইলিশ আর মুড়ি-মুড়কির স্বাদ ভাগাভাগি করলেন যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।

শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরের এই নারীদের স্বামীহারা করেই ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন যুদ্ধকালীন আল বদর কমান্ডার মুহাম্মদ কামারুজ্জামান।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা করে বেলা আড়াইটার দিকে সোহাগপুরে পৌঁছান গণজাগরণ মঞ্চের প্রায় একশ কর্মী।

সেখানে পৌঁছেই মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে মঞ্চের কর্মীরা একাত্তরের শহীদদের স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে স্বামীহারা নারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন গণজাগরণ কর্মীরা। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন তারা।

পরে ৩২ জন বিধবার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন ইমরান। এছাড়াও শতাধিক শহীদ ও নির্যাতিতদের পরিবারের কাছে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।

এরপর ওই নারীদের সঙ্গে বসে পান্তা-ইলিশ খান গণজাগরণ কর্মীরা।

করিমান বেওয়া (৬৮) নামের এক বিধবা জানান, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তার আট বছরের এক ছেলে ও তিন বছরের এক মেয়ে ছিল। গর্ভে ছিল আরেক সন্তান।

“একদিন কামারুজ্জামানের লোকেরা বাড়িতে এসে আমার স্বামী হোসেন মিয়াকে বুকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর পাঁচ মাস বেঁচে ছিলেন। কিন্তু ঘর থেকে বেরোনোর ক্ষমতা ছিল না তার।”

সাহারা খাতুন (৬৪) জানান, তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে সবার বিয়ে হয়ে গেছে।


“যুদ্ধের সময় পাঞ্জাবিরা আমার জামাইকে (স্বামী) ঘর থেকে উঠোনে নিয়ে মেরে ফেলে। এরপর থেকে অসহায় জীবন-যাপন করছি।”

তার স্বামীকে হত্যার পিছনে কামারুজ্জামানের হাত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করেছি যাতে কামারুজ্জামানের বিচার হয়। তার ফাঁসি হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেছি।”

একাত্তরে স্বামীহারা মমতা বেগম (৭০) বলেন, “পাকিস্তানিরা নয়, এদেশের লোকেরাই আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরেছিল।”

তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে ছিল হাতেম আলী ও মজুরা দেউয়ার সংসার।

একাত্তরে স্বাধীনতার ডাক আসার পরপর স্বামী যুদ্ধে যান জানিয়ে মজুরা বলেন, “এরপরে সে  আর ফিরে আসেনি। সে সময় শুনেছিলাম কামারুজ্জামানের লোকেরা তাকে মেরে ফেলেছে।”

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত শনিবার রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের আল বদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর এই নেতার বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার অভিযোগে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করে তার ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন, যা রিভিউ আবেদনেও বহাল থাকে।

একাত্তরের ২৫ জুলাই ভোরে তার নেতৃত্বে সোহাগপুর গ্রামের ১২০ জন পুরুষকে হত্যা ও গ্রামের নারীদের ধর্ষণ করা হয়।

এক গ্রামে একসঙ্গে এতজন পুরুষকে হত্যার পর গ্রামের অধিকাংশ নারীকে অকালে বৈধব্য নিতে হয়েছিল, যে কারণে সোহাগপুর ‘বিধবাদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

১৫ এপ্রিল ২০১৫/০৪:২৬পিএম/স্নিগ্ধা/

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে