Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৪-২০১২

দ্বিখ-িত ডিসিসিতে নাগরিক সেবা এখন সোনার হরিণ

দ্বিখ-িত ডিসিসিতে নাগরিক সেবা এখন সোনার হরিণ
নাগরিক সুবিধার দোহাই দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দ্বিখ-িত করা হলেও নাগরিক সেবার মান বাড়েনি। কাউন্সিলরবিহীন ওয়ার্ড আর নগরপিতাবিহীন নগরে নাগরিক সেবা এখন সোনার হরিণ। নগরীতে রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও মেরামত, মশক নিধন, সড়কের বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে রীতিমতো অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেই তাই চাকরি, ব্যাংকে হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন কাজে মিলছে না 'নাগরিকত্ব সনদ'। এদিকে ডিসিসির দ্বিখ-নের সুযোগে মশককুল রাজধানীতে রামরাজত্ব কায়েম করেছে। রাতের বেলায় তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসী। সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরা ভালোমন্দ মিলিয়ে এলাকার বিভিন্ন কাজকর্মে একটা ভূমিকা রেখেছেন। নগরীর যেকোনো এলাকায় কোনো উন্নয়ন কিংবা অন্যকোনো সমস্যা দেখা দিলে কাউন্সিলররা বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে এনেছেন। এখন নাগরিকদের ভালোমন্দ খোঁজখবর নেয়ার কেউ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবিভক্ত ডিসিসির প্রধান অফিস 'নগর ভবন' এখন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় হলেও উত্তর সিটি করপোরেশনের অনেক কর্মকর্তা এখনো এই ভবনেই অফিস করছেন। এছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে একই কর্মকর্তা দুই করপোরেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণের প্রশাসনিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেওউত্তরের অবস্থা এলোমেলো। উত্তরের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বসছেন গুলশান এভিনিউতে অবস্থিত মেয়র ভবনে। আর কমিউনিটি সেন্টারে স্থাপন করা হয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশনের আরো কিছু দপ্তর। আনুষ্ঠানিক বিভক্তির পর তিন মাস কেটে গেলেও নতুন দুই সিটি করপোরেশনের জনবল কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিষ্পত্তি হয়নি সম্পত্তি এবং দায়-দেনার বিভাজন। বেশিরভাগ বিভাগীয় প্রধানের পদে প্রেষণে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়াই অবিভক্ত করপোরেশনের শ'খানেক কর্মকর্তাকে উত্তরে বদলি করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকজনকে বেআইনিভাবে পদোন্নতি প্রদানেরও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিল না থাকায় চাকরি, ব্যাংকে হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন কাজে পাওয়া যায় না 'নাগরিকত্ব সনদ'। ভুক্তভোগীরা নাগরিকত্ব সনদ কিংবা কাউন্সিলরের সার্টিফিকেটের জন্য প্রতিদিনই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে গিয়ে ভিড় জমান। কিন্তু তিনি সার্টিফিকেট দিতে পারবেন না এটা শুনে অনেকেই চলে যান। সরেজমিন দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি কাউন্সিলর অফিসে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন। কেউ কেউ দায়িত্বরতদের কাছে বলছেন সার্টিফিকেট না হলে চাকরি হবে না কিংবা ভোটার আইডি কার্ড হবে না। 'নাগরিকত্ব সনদ' না পেলে ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন না ইত্যাদি। এদের একজন শেখ মুরাদ জানান, চাকরির জন্য স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হবে। তিনি কয়েকদিন ধরেই সার্টিফিকেটের জন্য নিয়মিত কাউন্সিলর অফিসে আসছেন। তবে সার্টিফিকেট পাননি। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছের একজনের মাধ্যমে পরে ব্যাক ডেটে (পেছনের তারিখ) দিয়ে একটা সার্টিফিকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে ডিসিসির দ্বিখ- হওয়ার সুযোগে মশককুল রাজধানীতে রামরাজত্ব কায়েম করেছে। এবার সময়মত মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নিতে পারেনি ডিসিসি। এ কারণে মশা এখন রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সবারই অভিযোগ মশার উপদ্রবে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, মিরপুর, গাবতলী, বাসাবো, খিলগাঁও, বনশ্রী, গোড়ান, মাদারটেক, জেলেপাড়া, টিটিপাড়া, মদিনাবাগ, আহাম্মদবাগ, মায়াকানন, মোহাম্মদপুর, পূর্ব রাজারবাগসহ আশপাশের এলাকায় মানুষের অভিযোগ দিনেরাতে মশার সমান উপদ্রব। পল্টন, মতিঝিল, গোপীবাগ, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, শাখারি বাজার, নবাবপুর, সদরঘাট এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মশার উপদ্রব আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। শ্যামপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনেরাতে সব সময়ই মশার সমান উপদ্রব। এর আগে এত মশা কখনো দেখেননি। নাগরিক সেবাকে 'জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিসিসি ভাগ করা হলেও কেউ কথা রাখেনি বলে অভিযোগ করেন পুরান ঢাকার একরামপুরের বাসিন্দা হান্নান ঢালী। তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে এখন ভোগান্তি আরো বেড়েছে। আগে অভিযোগ জানানোর জায়গা ছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। এখন ডিসিসির কোনো 'মা-বাপ' নেই। উত্তরার উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, তারা যারা কপাল দোষে উত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশনের নাগরিক তাদের কপাল খারাপ। অফিসে গেলে কাউকে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলে বলেন, এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, বিভাজন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হওয়াই স্বাভাবিক। নগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে তারা চেষ্টা করছেন। প্রসঙ্গত রাজধানীতে নাগরিক সেবাকে 'জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়ার কথা বলে, গত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে চারশ বছরের পুরনো ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়। সংসদে এ সম্পর্কিত আইনটি পাস হওয়ার পর বিদায় নেন অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। নতুন দুই করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিযুক্ত হন সরকারের দুই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। প্রথমে প্রণীত আইনে বলা হয়েছিল, প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সীমা ১৮০ দিন করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন আগামী ২৪ বা ২৫ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ সংক্রান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে। ডিসিসির দুই নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে