Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৪-২০১২

বিশ্বব্যাংকের টানাপড়েনে অনিশ্চিত ২ বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিশ্বব্যাংকের টানাপড়েনে অনিশ্চিত ২ বিদ্যুৎকেন্দ্র
পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টানাপড়েনের জেরে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিবিয়ানা-১ এবং বিবিয়ানা-২ বিদ্যুৎ প্রকল্প। সময়সীমা শেষ হলেও এখনো এর অর্থসংস্থান করতে পারেনি সামিট পাওয়ার লিমিটেড। কোম্পানিটি পিডিবিকে সম্প্রতি এক চিঠিতে অর্থসংস্থানের জন্য আরো ছয় মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিবিয়ানা-১ এবং ১২ মার্চ বিবিয়ানা ২-এর অর্থসংস্থানের সময়সীমা (ফাইনান্সিয়াল ক্লোজিং) শেষ হয়েছে। সামিটের দেয়া চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান টানাপড়েনকে অর্থসংস্থান না হওয়ার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে। সামিট পাওয়ার লিমিটেড বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিশ্বব্যাংকের আইএফসি, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (ইডকল), বাংলাদেশ ব্যাংকের আইপিএফএফ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে অর্থ প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছিল সামিটের। এর মধ্যে আইএফসি, ইডকল এবং আইপিএফএফ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি তহবিল গড়ে ওঠে। বিশ্বব্যাংক সরাসরি এসব তহবিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক লিড ডোনার হওয়ায় অনিশ্চিত : পৃষ্ঠা ৪ কলাম ১ ধারণা করা হচ্ছে তাদের সিদ্ধান্ত দেখেই এডিবি সিদ্ধান্ত নেবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপড়েন বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির অর্থায়নে প্রভাব ফেলেছে। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে টানাপড়েন চলছে; তা বিদ্যুৎ খাতের কোনো প্রকল্পে প্রভাব ফেলবে না। সূত্র মতে, কেন্দ্র দুটির প্রতিটির জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি থেকে ৬৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কার্যাদেশ দেয়া ৫১ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সব থেকে কম দামে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। সামিটের বিবিয়ানা-১ প্রকল্প থেকে তিন দশমিক ৩২ সেন্ট, বিবিয়ানা-২ প্রকল্পে তিন দশমিক ৩৯ সেন্ট ক্রয় চুক্তি করা হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রতি গিগাজোল গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয় দুই দশমিক চার ডলার। গত বছর ১২ মে বৃহৎ তিনটি আইপিপিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সামিটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় পিডিবি। গত বছর শুরুর দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় সামিটকে। নিয়মানুযায়ী কার্যাদেশ (এলওয়াই) পাওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে চুক্তি না করলে পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করার বিধান রয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সামিট চুক্তি করতেই কয়েক মাস সময় নেয়। মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সম্প্রতি সামিট অর্থসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। সামিটের চেয়ারম্যান আজিজ খান মার্চের মধ্যে বিবিয়ানা-১ এবং বিবিয়ানা-২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থসংস্থান হবে_ এমনটা আশা করলেও গত রোববার দেয়া এক চিঠিতে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করেন। পিডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও সামিট অর্থসংস্থান করতে না পারায় সামিটের পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) বাতিলের অধিকার আছে। সামিট বিদ্যুৎ প্রকল্প দুটির জন্য ১২ মিলিয়ন ডলার পিজি জমা দিয়েছে। তবে পিজি বাতিল নয়, বিদ্যুৎ পাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিজি বাতিল করলে হয়তো ১২ মিলিয়ন ডলার লাভ হবে কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি উৎপাদনে না এলে লাখ লাখ ডলার ক্ষতি হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের প্রকল্প ব্যর্থ হলে বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে না। যাতে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। পিডিবির অপর একজন কর্মকর্তা জানান, বিবিয়ানা-১ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায় থেকে বিশ্বব্যাংক সম্পৃক্ত ছিল। এখন পিছিয়ে যাওয়াটা দুঃখজনক। সরকারের পরিকল্পনায় দেখা যায়, আগামী বছর মে মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু এখন ছয় মাস সময় বাড়ালে সামিটকে আগামী আগস্ট পর্যন্ত সময় দিতে হবে। এরপরও সামিট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারবে_ এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামিট ছয় মাসের মধ্যে অর্থসংস্থান করতে পারলেও নয় মাসের মধ্যে এত বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকার এখন সামিটের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে গেলে দরপত্র মূল্যায়ন করে কার্যাদেশ দিতেই এক বছর সময় লেগে যাবে। এ সবকিছু বিবেচনায় বর্তমান সরকারের মেয়াদে বিবিয়ান-১ এবং বিবিয়ানা-২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে আসার বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিয়তার দিকে এগুচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামিটের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি লিজ দেয়ার চুক্তি হলেও পিডিবি এখন অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য পরিশোধ করেনি। সঙ্গতকারণে, পিডিবির নামে জমি রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ফলে সামিটের পিডিবির লিজ প্রদানের বৈধতা নেই। চুক্তির ধারা অনুযায়ী যতদিন পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রেশন না হবে ততদিন পর্যন্ত সামিট অর্থসংস্থানের জন্য সময় পেতে পারে। জানা গেছে, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে জমির মূল্য প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিশোধ করা হয়নি। তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য হবিগঞ্জে বছরখানেক আগে ৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই দুটি ছাড়াও সরকারি বিবিয়ানা-৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখানে নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ৩৬ বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করা হবে। বাকি অংশে সংযোগ সড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদ হাসান বলেন, জমির জন্য ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মাহবুব সরওয়ার ই কায়নাত সামিটের সময় বৃদ্ধির আবেদন করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তাদের অর্থসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখন সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সামিট সময় পাবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে