Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯ , ১২ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১১-২০১৫

রাজধানীতে সক্রিয় ভুয়া ডিবি চক্রের ১২ গ্রুপ

রাজধানীতে সক্রিয় ভুয়া ডিবি চক্রের ১২ গ্রুপ

ঢাকা, ১১ এপ্রিল- রাজধানীতে ভুয়া ডিবি, র‌্যাব ও পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই কাজে সক্রিয় রয়েছে ১০ থেকে ১২টি গ্রুপ। এরা সবাই একই চক্রভূক্ত। র‌্যাব-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত বেশকিছু সদস্য এসব দলে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও।

এসব তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। শুক্রবার আটক ৮ ভুয়া ডিবি সদস্যকে নিয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য দেন। আটক এসব ভুয়া ডিবি পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতি কাজে অংশ নিতো।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার রাতে মগবাজারের নয়াটোলা থেকে রাত সোয়া ১১টার দিকে ভুয়া ডিবি চক্রের সদস্য মো. সিরাজ হাওলাদার, মো. আবু হোসেন ও মো. শাহাবুদ্দিনকে আটক করে। এরপর তাদের দেয়া তথ্য মতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার নাবিস্কোর মোড় থেকে রাত ৩টার দিকে আটক করা হয় ফরহাদ গাজী, আব্দুস সামাদ, মো. তারা মিয়া, মো. নান্নু মিয়া ও মো. আরিফকে। তাদের কাছ থেকে দু’টি ওয়্যারলেস, পুলিশের ব্যবহৃত লাঠি, হ্যান্ডকাফ এবং দু’টি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। এছাড়া ‘ডিবি’ লেখা এবং ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি কাজে নিয়োজিত’ লেখা দু’টি স্টিকারও জব্দ করে পুলিশ।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, রাজধানীতে এরকম ১০ থেকে ১২টি গ্রুপ সক্রিয়। তাদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, তাদের টার্গেট থাকে মূলত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা।

তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহক মোটা অংকের টাকা তুললে চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মচারীদের তথ্য মতে ওই গ্রাহকের পিছু নেয় চক্রের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা। তারপর তারা সুযোগ বুঝে ওই গ্রাহককে র‌্যাব বা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রথমে একটি মাইক্রোবাসে তুলে কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দেয়। তারপর নির্জন কোনো স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। এই চক্রের সদস্যরা কাউকে তুলে নেয়ার সময় দু’টি মাইক্রোবাস সঙ্গে রাখে। একটা ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে। অপরটি ব্যাকআপ হিসেব রাখে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলো সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বন্ধ থাকে। এসব এলাকায় মার্কেট ছুটির দিনটিকে তারা বেছে নেয় ছিনতাইয়ের জন্য। কারণ ওইদিন ওই এলাকায় যানজট থাকে কম। ফলে কাজ করে সহজেই চম্পট দেয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘এসব গ্রুপে ইদানিং র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত লোকজন ভিড়েছে। আটকৃতদের মধ্যে আব্দুস সামাদ তেমনি একজন। ২০০৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে নানা অপকর্মের দায়ে চাকরিচ্যুত হয়। এরপর থেকে ভুয়া ডিবি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। বিভিন্ন সময় এদেরকে আটক করা হলেও আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে আবারো একই কাজে লিপ্ত হয় তারা।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের হাত থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে এ চক্রের লোকজন নানা কৌশল করে থাকে। তার মধ্যে একটা হলো- পুলিশ যখন তাদেরকে ধরতে যায় তারা আসল পুলিশকে ভুয়া পুলিশ বলে উল্টো ধমক দিয়ে থাকে। এতে হকচকিয়ে যায় অনেকে।’

এ ধরনের নাটক যারা করে তাদের কাছে আইডি কার্ড আছে কি না যাচাই বাছাই করে নেয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বা আইনশৃঙ্খ্লা বাহিনীর তরফ থেকেও আইডি কার্ড প্রদর্শন করে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথা হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ এপ্রিল ২০১৫/১১:৫১পিএম/স্নিগ্ধা/

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে