Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-১১-২০১৫

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র’

নোমান আবদুল্লাহ


উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র’
প্রতিষ্ঠার ৯৩ বছর পর উন্মোচিত হতে যাচ্ছে তোরণটি

ঢাকা, ১১ এপ্রিল- ‘গণতন্ত্র’ যে কোনো জাতিসত্তার প্রাণ। ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তানি শাসকবর্গ যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে শোষণ নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি জাতি তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে ভুল করেনি। নয়মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে দেশকে উপহার দিয়েছে একটি স্বাধীনতা।

বাঙালির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রগতি যাই বলা হোক না কেন, এসব মহান অর্জনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু স্বাধীনতা কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে তারঅবদান সীমিত থাকেনি। পরাধীনতার ‍শৃঙ্খল মুক্তি থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো না কোনো ভূমিকা রয়েছে। আর সেই প্রেক্ষাপটে তোরণটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র’। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯৩ বছর পর উন্মোচিত হতে যাচ্ছে তোরণটি।

তোরণটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজের কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের স্মারক। তিনি জানান, ঢাবি যেমন আমাদের গর্বের জায়গা, তেমনি এর তোরণটি আমাদের অহঙ্কারের প্রতীক। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের সময়েই গেইটটি উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গর্বের তোরণটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন (ডিইউএএ)। আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক। তোরণটি নির্মানে খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে আগামী ৫০ বছরেও তোরণটির কোনো ক্ষতি হবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯৯ ফুট দৈর্ঘ্য, ১৩ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ৩৭ ফুট উচ্চতার এ তোরণের কাজ পুরোটা শেষ। চলছে নিখুঁত করা আর সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ। কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজের তেমন বাকি নেই। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত প্রবেশমুখে তোরণটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের ১৬ মে। গত বছরের বিজয় দিবসে এটি উন্মোচনের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু নানান কারণে ওই তারিখের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সেই তারিখেও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ঢাবির প্রথম তোরণ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অফিস থেকে দিন নির্ধারণ করলেই এটির উদ্বোধন করা হবে। সেক্ষেত্রে চলতি মাসের যে কোন দিন তোরণটির উদ্বোধন হতে পারে।

এ ব্যাপারে অ্যালমনাই অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি রকীব উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমাদের গর্ব। আমি ঢাবির একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এই গেইটটির মাধ্যমে আমি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনুভব করি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। ওদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘুরে দেখলাম তাদের কতো সুন্দর করে গেইট করা। আমার মনে হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এমন একটি গেইট করা যেত। মূলত, এটি আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নের বাস্তবায়নে আমি আনন্দিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয়ের সক্রিয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া একাজ সম্ভব হতো না।

তোরণটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, যে অবস্থান সেসব কিছু বিবেচনায় রেখেই আমরা ফটকটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনও বটে। আমাদের প্রথম তোরণটির কাজ শেষের পথে।’

তোরণের নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের, জনগণের মুক্তি ও আন্দোলনে সবসময়ই সাহসী ভূমিকা রেখেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেসব কিছু মাথায় রেখেই আমরা আমাদের প্রথম তোরণটির নাম দিয়েছি ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র’।

শিগগিরই তোরণটি উদ্বোধন করা হবে বলে নিশ্চিত করেন উপাচার্য। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই এটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে