Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২১-২০১২

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন নয়

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন নয়
মহাসমাবেশে সরকারকে ৯০ দিনের আলটিমেটাম দেয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য সংসদেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা  বেগম খালেদা জিয়া। সংসদে ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার সমঝোতার সব পথ বন্ধ করে গায়ের জোরে চলতে চায়। কিন্তু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতিতে এদেশে নির্বাচন হবে না। সে নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো না। বাংলার মানুষ ওই নির্বাচন মেনে নেবে না। তাই ছলচাতুরি করে কোন লাভ হবে না। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সন্দেহ আর অবিশ্বাসের কারণে দলীয় সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এটা আপনারা আগেও দেখেছেন। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি মেনে নিন। আসুন সমঝোতার পথে সমস্যা সুরাহা করুন। দেশের স্বার্থে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। গণতন্ত্র টিকে থাকলে ঘুরে-ফিরে আমাদের মধ্য থেকেই কেউ ক্ষমতায় আসবে। নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। কারচুপির হাতিয়ার ইভিএম পদ্ধতি মেনে নেয়া হবে না। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশে এ পদ্ধতির বাতিল ও অযোগ্য ঘোষণার নানা চিত্র তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্টকে কোন ধন্যবাদ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। তবে সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বিরোধীদলীয় নেতা তিস্তার পানির হিস্যা, টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ, ৭৪টি আন্তঃনদী সংযোগ বন্ধ, সীমান্ত হত্যাসহ নানা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনারা আওয়াজ তুলুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। দেশের জনগণ আপনাদের পাশে থাকবে।
দু’দফায় বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদপত্র ও বইপত্রের বরাত দিয়ে ১৯৭১ থেকে ৭৫ সালসহ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নির্যাতন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লুটপাট ও দুর্ভিক্ষ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিক খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবিভাগসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ বর্তমান সরকারের তিন বছরের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। সেসময়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক দলের নেতা মতিয়া চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রাশেদ খান মেননসহ অনেকের তৎকালীন সরকার বিরোধী প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া তিনি বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি ও জাতীয় বাজেটের আগে সরকারের উদ্দেশে দেয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা বারবার সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, এখনও চাই। এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন ১৮০ জন সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপি। সরকারদলীয় এমপিরা খালেদা জিয়ার বক্তব্য চলাকালে ‘চোর’, ‘ইশ’, ‘নো’, ‘চুপ চুপ’, ‘উপন্যাস বন্ধ করুন’, ‘এত দেখে পড়া শোনা যায় না’সহ নানা কটূক্তি, হাসাহাসি ও হৈ চৈ করেন। বেশ কয়েকজন এমপি বারবার স্পিকারের প্রতি মাইক বন্ধের ইশারা করেন। কেউ কেউ সিট ছেড়ে উঠে হাঁটাহাঁটি করেন। একপর্যায়ে খালেদা জিয়া ট্রেজারি বেঞ্চের এক সদস্যের কথার জবাব দিতে গেলে স্পিকার বলেন, আপনি ওদের কথা শুনবেন না। তখন খালেদা জিয়া স্পিকারকে বলেন, ওরা তো কিছুই পারে না- শুধু ডিস্টার্ব করে। এ সময় স্পিকার সরকারদলীয় এমপিদের হৈ চৈ বন্ধ করে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারদলীয় এমপিরা হৈ চৈ ও নানা কটূক্তি অব্যাহত রাখেন। বিরোধীদলীয় নেতার দ্বিতীয় দফা বক্তব্য শুরু হলে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা অধিবেশনে যোগ দেন। খালেদা জিয়া শেষ করেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় সরকারদলীয় এমপিরা ‘ধর ধর’, ‘চোর চোর’ বলে কটূক্তি করতে থাকেন।
সরকার প্রতিবাদ করলে আমরা সমর্থন দেবো
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সীমান্তে তখন পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশী হত্যা করা হয়। তিনি ফেলানীর ছবি সংবলিত একটি দৈনিক পত্রিকার সংবাদ দেখিয়ে বলেন, কি অপরাধ ছিল এ ফেলানীর? এ কিশোরী মেয়ে কি চোরাকারবারী হতে পারে? এছাড়া চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্তে আমাদের এক বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করেনি, করতে পারেনি। যখন দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের বৈঠক হয়- তখন বিএসএফ বলে গুলি হয়, গুলি হবে। এটা কি বন্ধুত্বের লক্ষণ? খালেদা জিয়া বলেন, মহাজোটের অংশীদারও বলেছে- টিপাইমুখ বাঁধ হলে দেশ মরুভূমি হবে। উত্তরাঞ্চলের কথা দেশবাসী জানে। সেখানে নদী শুকিয়ে গেছে, মাটির নিচ থেকে পানি আসছে না। এখন টিপাইমুখে বাঁধ দেয়া হলে মেঘনা শুকিয়ে যাবে। হাওর-বাঁওড় শুকিয়ে যাবে, মাছ থাকবে না। এছাড়া টিপাইমুখ বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে এমন একটি জায়গায় যেটা ভূমিকম্পপ্রবণ। ভূমিকম্প হলে সিলেটের কিছুই থাকবে না, কোন চিহ্নই থাকবে না। সেখানে যে একটি বিভাগ ছিল তা-ও থাকবে না। আমরা সরকারকে সহযোগিতার কথা বলেছি। সরকার একটি টিম পাঠিয়েছিল তারা তো সংসদীয়, টেকনিক্যাল নয়। তারা কি বুঝবেন? তারা তো হেলিকপ্টার থেকে নিচেই নামতে পারেননি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার চুপ থাকলেও আমরা সবসময় প্রতিবাদ করি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন আলোচনায় তার কাছে প্রতিবাদ করেছি। পরে তাকে চিঠি দিয়েছি। আপনারা টিপাইমুখের প্রতিবাদ করুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। জনগণ আপনাদের সঙ্গে থাকবে।
দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। দেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যতই অস্বীকার করুন দেশে প্রতিদিন গুম, খুন হচ্ছে। আগের কূটনীতিক এলাকা নিরাপদ ছিল, এখন সেটাও নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারও বেডরুম পাহারা দেয়া যায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু করেননি। আমরা মনে করি, খুনিদের ধরা হয়েছিল আবার পাচার করে দিয়েছেন। সৌদি কূটনীতিক হত্যা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব গেছেন, তিনি কি করবেন জানি না। তবে প্রবাসীরা খালি হাতে ফিরলে অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। সেদিকে সরকারকে কড়া নজর দিতে হবে। আমাদের দাবি, খুনিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডারবাজিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। এমন কি মানুষের বাড়িঘর দখল করছে। এটাই কি দিনবদলের নমুনা? ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নমুনা? তিনি বলেন, পুলিশ নিরাপদ নয়। পুলিশকে গুলি করেছে। আমাদের ছেলে হাবিবকে গুলি করেছিল, প্রাণে বেঁচে গেছে। আবারও গুলি করতে গিয়েছিল, তারা ধাওয়া দেয়। পুলিশ ধরতে গেলে, পুলিশকে গুলি করে। একজন এডিশনাল আইজি’র গাড়ি ছিনতাই হয়েছে। তাহলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এমন সময়ে আছি। যখন খুন, গুমের উৎসব লেগেছে। চৌধুরী আলমকে সাদা পোশাকে র‌্যাব ধরেছে। বড় কথা একবার গুম হলে আর রেহাই নেই। নালা ডোবায় লাশ পড়ে থাকে। অনেক সময় লাশ শনাক্ত হয় না। দেশে এমনকি বিদেশেও প্রতিক্রিয়া ঘটেছে। গুপ্ত হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৃটিশ  প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে বৃটেন কথা বলতে ইতস্তত করবে না। খালেদা জিয়া বলেন, এবার ক্ষমতায় এসে ১২ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছে। নাটোরে গামার খুনিদের ও লক্ষ্মীপুরে তাহেরের ছেলেদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের ৩৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তত কয়েক দফায় বন্ধ করা হয়। এর পেছনে রয়েছে সরকারি দলের কর্মীদের টেন্ডারবাজি, যৌন উৎপীড়ন, পদ না পাওয়া, ফ্রি খাবারসহ অনেক কারণ।  
গালাগালি ও গুণকীর্তন শুনতে কি সংসদে আসবো
খালেদা জিয়া বলেন, সংসদ এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, গালাগালির আখড়া। যারা বলেছেন, তারা সত্য কথা বলেছেন। দেশের এত সমস্যা, কিন্তু সে সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলা হয় না। শুধু বিরোধী দলকে গালাগালি করা আর সরকারের গুণকীর্তন করাই যেন একমাত্র কাজ। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। আমরা না থাকলেও আমাদের বিরুদ্ধে গালাগালি হয়। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী খারাপ ভাষায় কথা বলেন। নতুন সদস্যরা খারাপ ভাষা শিখছেন। বিরোধী দল বাইরেও আক্রান্ত হয়, সংসদের ভেতরেও কথা বলতে দেয় না। সংসদে সরকারি দলের আকার অনেক বড়। কিন্তু তারপরও কোরাম পূর্ণ হচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা আসতে সংসদে আগ্রহী নন।  খালেদা জিয়া বলেন, যে সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলা না যায় তবে এসে কি লাভ? জনসমস্যা নিয়ে বিরোধী দল অনেক নোটিশ দিয়েছে। সেগুলো গ্রহণ করলে আলোচনা হতো। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ অর্থবহ হতো। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি একটি নোটিশও গ্রহণ করেননি। তাহলে কি সরকারের গুণকীর্তন ও গালাগালি শুনতে আমরা সংসদে আসবো? বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমার প্রিভিলেজ আছে। আমাকে একটু সময় দেন। সব ইস্যুতে তো আমি বলি না, বলতে চাই না। তারা সুযোগ পেলে বলতে পারতো। আজকেও অনেক আশা নিয়ে আমার দলের ২০ জন এমপি এসেছেন, অন্তত ১০ মিনিট করে সুযোগ পাবেন। আপনারা বলেছিলেন, চলতি অধিবেশন ২৯শে মার্চ পর্যন্ত চলবে। এখন বলছেন, প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনা আজই শেষ। কেন এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন? ক’দিন বাড়ালে কি হতো। সবাই কথা বলার সুযোগ পেতেন। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আমাদের নোটিশ গ্রহণ করবেন না, আবার বলবেন সংসদে আসুন। এটা কি ডবল স্ট্যান্ডার্ড নয়? খালেদা জিয়া বর্তমান সংসদের সমালোচনা করে বলেন, স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ বাদ দেয়া হয়েছে। বিস্‌মিল্লাহ্‌ বাদ দেয়া হয়েছে। বর্তমান এমপিরা ১৫ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা খর্ব করেছেন। ভবিষ্যতে যারা এমপি হবেন তাদেরও অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এটা যৌক্তিক নয়। সংসদ ইতিহাস চর্চার জায়গা নয়, এখানে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে নির্যাতন সংসদের জন্য লজ্জার
খালেদা জিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আমাদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পুলিশ কি রকম নির্যাতন করেছে তা বিশ্ববাসী দেখেছে। পিটুনির পর রক্তাক্ত অবস্থায় টানাটানি করেছে। এ জন্য দীর্ঘদিন তাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হলেও এটা কি পুরো সংসদের জন্য লজ্জার নয়। আরেকজন এমপি শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। অল্প বয়স থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছে। তার ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কি নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করেছিল তা দেশের মানুষ দেখেছে। সেদিন সাধারণ মানুষ না হলে তাকে বাঁচানো যেতো না। মহিলা এমপিরাও রক্ষা পাচ্ছে না। স্পিকার হিসেবে আপনার কাছে প্রতিকার চাইবো। এমপিদের যেন কর্মসূচি পালনকালে লাঞ্ছিত হতে না হয়। আপনি অভিভাবক হিসেবে খেয়াল রাখবেন। এছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও রিমাণ্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিরা কথা বলার সুযোগ পান না। এই হচ্ছে আজ বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের আচরণ।
বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি
খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। কেউ এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারেনি। কেবিনেটের বাইরে সরকারদলীয় এমপিরাও জানেন না সে চুক্তিতে কি আছে। অথচ নিয়ম আছে বিদেশের সঙ্গে কোন চুক্তি করলে তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।  তিনি বলেন, ভারত আন্তঃনদী সংযোগ করছে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তিস্তার পানির চুক্তি হবে বলেছিল। এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। পানি পাচ্ছে না। তিস্তার পানি আমাদের অধিকার। তিস্তার পানি আমাদের দিতেই হবে। আপনারা আওয়াজ তুলুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। তিনি বলেন, ট্রানজিট দেয়া হলে নাকি বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হবে। অনেক প্রচার চালানো হয়েছে। আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? সিঙ্গাপুর তো নয় দেখতে পাচ্ছি দেশ পেছনের দিকে যাচ্ছে। জেনেছি বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। আমাদের বন্দরের প্রয়োজন বেড়েছে। সেখানে আমরা শুল্ক পাচ্ছি না। তাহলে কার স্বার্থে এ বন্দর ব্যবহারের অনুমতি?
ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের সরকার তত্ত্বাবধায়ক নয়
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার ফখরুদ্দীন মইনুদ্দিন সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক দাবি করে মহাজোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছে। কিন্তু সেটা তত্ত্ববাবধায়ক সরকার ছিল না। সেটা ছিল অবৈধ সরকার। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। তারপর জরুরি অবস্থা জারি করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, আমরা ভোট চাইতে সারাদেশে যাই। জনগণের কি এমন ব্যবসা আছে। কিন্তু তারা রাস্তার দুইপাশে দোকান ভেঙেছে। তারা রাস্তার বসিয়েছে মানুষকে। ভিক্ষুক বানিয়েছিল। তারা ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
কুইক রেন্টাল মানে কুইক মানি লুট
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ওয়াদা করেছিল ১০টা সের চাল দেবে, বিনামূল্যে সার দেবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। এখনও মোটা চালের দাম ১০ টাকা নয়। ফখরুদ্দীন, মইনুদ্দিনের আমল থেকে দরিদ্রতা বেড়েছে। সরকারের উচিত সেটা কমিয়ে আনা। দ্রব্যমূল্য সহয়নীয় পর্যায়ে নেমে আনা। বিনামূল্যে সার দেয়া হবে। বিনামূল্যে তো দূরের কথা আমাদের সময়। দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সঙ্কট।  দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না। সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে। গ্যাস সংযোগের বেহাল অবস্থা। লাখো কারখানা গ্যাসের অভাবে চালু করা যায়নি। এতে অনেক লোকের চাকরি হতো তা পারেনি সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সময় ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হয়নি। কিন্তু সরকারি তথ্য আছে ১২শ’ মেগাওয়াট ছিল পিডিপি। সর্বমোট ৪ হাজার। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। মইন-ফখরুদ্দীন বাতিল না করলে দেশের কোন বিদ্যুৎ সমস্যা থাকতো না। তারা তো দেশের জন্য ভাল কিছু করতে আসেননি। তারা অব্যাহত করেনি। সরকার আজ বিদ্যুৎকে হরিলুটের পরিণত করেছে। কুইক রেন্টাল মানে কুইক মানি লুট। কুইক রেন্টাল হচ্ছে না কুইক মানি নিয়ে যাচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। আগে শুক্রবার বিদ্যুৎ কম যেতো। এখন শুক্রবার-শনিবার নেই। এখন গ্রাম দেশে তো বিদ্যুৎ নেই, মাঝে মাঝে আসে। আজ মতিঝিলে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বাণিজ্যিক এলাকায় ৪ ঘণ্টা না থাকলে কি হবে বুঝেন।  
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেয়ারবাজার লুট হয়
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলে শেয়ারবাজারে কোন সমস্যা হয় না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কেন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি হয়। এবার ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। দেড় কোটি পরিবার আজ ক্ষতিগ্রস্ত। তারা এটা প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করে। তারা প্রতিবাদের ভাষাও প্রকাশ করতে পারে না। তিনজন ইতিমধ্যে আত্মহত্যা করেছে। একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করতে পারবেন না। তারা অর্থমন্ত্রীর নাগালের বাইরে বলে পারেনি। দেশের গরিব মানুষকে পথে বসিয়েছেন। তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।
মুখ দেখে বিচারকরা রায় দিচ্ছেন
তিনি বলেন, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এখন আদালতেও। সেখানে বিরোধীদলের জন্য একরকম, সরকারি দলের জন্য অন্যরকম। এমপিদের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি ও গরু চুরির মামলা দিলে কি সংসদের জন্য লজ্জার নয়। তারা এমন রায় দিচ্ছেন। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী বলেছেন- এখন মুখ দেখে রায় দেন। কিছু কিছু রায় দেখে মানুষ হতবাক হয়ে যায়। এটা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বিচারে বিচারপতি নিয়োগ দেয়ায়। বিচারপতিরা চেয়ারে বসে রাজনৈতিক কথাবার্তা বলেন। তারা যদি রাজনৈতিক কথা বলতে চান তবে চেয়ার ছেড়ে রাজনীতির মাঠে আসুন।
মহাসমাবেশে প্রমাণ হয়েছে সরকার জনতার আস্থা হারিয়েছে
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেই। ২৯শে মার্চ আমরা গণমিছিল দিয়েছি দেড় মাস আগে চট্টগ্রামে। সরকারি দল হঠাৎ একটি কর্মসূচি দিল। সরকার কৌশল করে ১৪৪ ধারা জারি করালো। সেদিন প্রশাসন দেড় মাস আগের ও দুইদিন আগের বিষয়টি বিবেচনা করলে তাদের আচরণ হতো নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, আমরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি দিয়েছি। এ ধরনের কর্মসূচি আপনারা এবং আমরা আগেও দিয়েছি। কিন্তু এবার কেন সরকার এত বিরোধিতা করলো বুঝলাম না। তিনদিন ধরে সরকার রীতিমতো হরতাল করলো। ঢাকার সঙ্গে দেশের যোগাযোগ বন্ধ করা হলো। যারা কষ্ট করে এসেছে তাদের হোটেল বন্ধ করা হলো। এটা কি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এটা তো ফ্যাসিস্ট সরকারের আচরণ। এ সময় তিনি একটি পত্রিকা উঁচিয়ে সেখানে প্রকাশিত ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের ছবি দেখান। তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মহাসমাবেশ মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু  টেলিভিশনগুলোকে সরাসরি সম্প্রসার করতে দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার অপপ্রচার করে বিরোধীদল সন্ত্রাস করবে। কিন্তু সন্ত্রাস করল সরকারি দল। এটা কি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নয়? দু’দিন পরই মহাজোটের মহসামাবেশে হলো। সেদিন সারাদেশ থেকে গাড়িতে করা লোক আনা হলো, টাকা, চকলেট, কোকাকোলা দেয়া হয়েছে। তারপরও জনসমুদ্রে রূপ নেয়নি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে