Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৯ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২১-২০১২

বিএনপি’র পাঁচ বছর লুটপাটের

বিএনপি’র পাঁচ বছর লুটপাটের
সংসদে দেয়া বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্যেকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিথ্যার ফুলঝুড়িতে ভরা বিরোধীদলীয় নেত্রীর অসত্য বক্তব্যের জবাব দিতে চাই না। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সংসদে কোন কথা বলেননি, স্বাধীনতা বিরোধীদের লিখে দেয়া একটি মুখরোচক উপন্যাস পাঠ করে চলে গেছেন। তাই তার বক্তব্যের আমি জবাব দিতে চাই না।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বক্তব্যে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি তুলে ধরেন। বিরোধী দলের নেতা এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী নেত্রীর তত্ত্বাবধায়ক দাবির সরাসরি কোন জবাব দেননি। ৪৯ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা ও বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বিএনপি’র ৫ বছর ছিল লুটপাটের। খুন হত্যা ও জঙ্গিবাদের। সংসদে যোগ দেয়ায় বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আসলে বেতন ভাতা রক্ষা করার জন্য সংসদে এসেছে। তার পরও তারা এসেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। বিরোধী নেত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী নেত্রী এত সময় কথা বলেছেন। আমি যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলাম তখন আমাকে কখনও এত সময় দেয়া হয়নি।
হাসিনা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় সব কিছু ছিল স্থবির। মানুষ ছিল ভীত-সন্ত্রস্ত আতঙ্কিত। সেই সময়ে দেশের রাজনীতিবিদরা ছিলেন কারাগারে। আমি নিজে ও বিরোধী দলের নেতাও কারাগারে ছিলেন। ব্যবসায়ীরা হয় বিদেশে না হয় কারাগারে ছিলেন আর না হয় ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। দুর্নীতিতে পঙ্গু অবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়কের সেই আতঙ্কের মধ্যেই সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে মেরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যা দেশের মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। তারা সে সময় কতো হাজার লোক হত্যা করেছিল। নিজের দলের লোক হত্যা করে তারা আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়েছিল। নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দলের লোক হত্যার পর তারা তা আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের সর্বত্র উন্নয়ন হচ্ছে- এটাই হচ্ছে বিরোধীদলীয় নেত্রীর বড় যন্ত্রণা। ধর্মের কল আজ বাতাসে নড়ে- তা আজ প্রমাণ হচ্ছে। শুধু নিজের দুই পুত্রের দুর্নীতি, অর্থ পাচার নয়, পরাজিত শক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের তথ্যও আজ ফাঁস হয়ে গেছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের শাসনামল যে ছিল বাংলাদেশের জন্য অভিশপ্ত তা  দেশের মানুষ কোনদিন ভুলবে না। সংসদ নেতা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক কে তা উচ্চ আদালতের রায়েই প্রমাণিত হয়েছে। রেডিও-টিভিতে অনেকেই ঘোষণা করেন। আপনারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেন, আর যে দেশকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, যে দেশের হানাদার বাহিনীরা আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে- সেই পরাজিত শক্তির কাছ থেকে আপনাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) টাকা নিয়েছেন! এতে আপনাদের লজ্জা হয় না?
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের তদন্ত রিপোর্টে ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যারা দেশের মানুষকে নির্যাতন করেছেন তাদের রেহাই নেই। তাদের বিচার হবেই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের নির্যাতন করার সাহস না পায়।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সময় সংসদ নেতা অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেয়ার জন্য দাঁড়ানো মাত্রই সংসদ অধিবেশন থেকে চলে যান খালেদা জিয়া। সংসদে যোগ দেয়ার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, এক বছর পর সংসদে এসে বিরোধীদলীয় নেত্রী প্রায় দু’ঘন্টা বক্তব্য দিলেন। তবে এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন? তাকে সংসদে আসতে কে নিষেধ করেছিল? এতদিন আসেননি, এখন যখন সংসদ সদস্যপদ চলে যাবে, তখনই উনি সংসদে এলেন। বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া যত অঘটনের জন্য বেছে নিয়েছেন বিজয়ের মাস ডিসেম্বর ও স্বাধীনতার মাস মার্চকে। কারণ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জনকে সহ্য করতে পারেন না। পাকিস্তানের আদালতেই আজ সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-র কাছ থেকে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার অর্থ গ্রহণের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। আইএসআই’র সাবেক প্রধান আদালতে হলফনামা দিয়ে ওই অর্থ প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে হলফনামা দিয়ে কোন কিছু বলা, কাউকে দিয়ে আর্টিক্যাল লেখানোর মধ্যে তফাৎ রয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ইয়াজউদ্দিন-মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনরা কার লোক? খালেদা জিয়াই ভোট চুরির জন্য সেনাবাহিনীর ৯ জনকে ডিঙিয়ে নিচের থেকে এনে মইনউদ্দিনকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। ফখরুদ্দীনকে জাতিসংঘ থেকে এনে গভর্নর বানিয়েছিলেন বিনা বাধায় অর্থ পাচারের জন্য। আর ইয়েসউদ্দিন কে ছিলেন তা দেশের মানুষই জানে। আর আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন করে এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে তালিকা বানিয়ে ভোট চুরি করে খালেদা জিয়া তার লুণ্ঠিত অর্থ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশের মানুষ তা হতে দেয়নি। তিনি বলেন, ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু’বছরে পুরো দেশেই ছিল আতঙ্ক। কোন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঘরে থাকতে পারেনি। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে খালেদা জিয়া বিনা বিচারে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন এবং বিনা বিচারে ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়। খালেদা জিয়াই র‌্যাব সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের প্রায় দু’শ’রও বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করে। এমনকি তার দলের নেতা জামালউদ্দিনকে হত্যা করে লাশ গুম করে।  বিএনপি-জামায়াত জোটের ৫ বছরের শাসনামলকে ‘অভিশপ্ত সময়’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ওই পাঁচ বছর ছিল জাতির জন্য অভিশপ্ত সময়। খালেদা জিয়া বলেন, ওই পাঁচ বছরে নাকি উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন! কিন্তু দেশের মানুষ কোন জোয়ার দেখেনি, দেখেছে শুধু ভাটার টান। হত্যা, নির্যাতন, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, গ্রেনেড ও বোমা হামলা, শিশু-নারীদের ইজ্জত কেড়ে নেয়া এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের উন্নয়নের জোয়ার দেখেছেন দেশের মানুষ।
সংসদে তার পুত্র-কন্যাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যেমন সে তেমনই বলার চেষ্টা করে। আমি আমার ছেলেমেয়েদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছি। ছেলে জয় হাভার্ড থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স, মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছে। শেখ রেহানার পুত্ররাও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি বলেন, যারা আমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন, তার দলের নেত্রীর (খালেদা) দুই পুত্রের যোগ্যতা কি? ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করে খালেদা জিয়া জরিমানা নিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। আর তার দুই পুত্রের লুণ্ঠিত অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনা দেশে নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্ট এবং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতার পুত্রদের দুর্নীতির বিষয়ে। এর থেকে লজ্জার আর কি থাকতে পারে?
শেখ হাসিনা বলেন, বিচারপতিদের নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা যে অশোভন কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, যারা এসব অশোভন উক্তি করেছেন, তারা তো প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছেন, ভুয়া সার্টিফিকেটধারীকে বিচারপতি বানিয়েছিলেন।
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু তিস্তার পানি আনতে পারেননি কেন? আমরা তো গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি, আপনি ক্ষমতায় থাকতে তো ভুলেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আসলে আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সবকিছু ভুলে যান, বিরোধী দলে এলে তার সবকিছু মনে পড়ে। বিএনপি’র আমলে সীমান্তে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তখন তো বিরোধী দলীয় নেত্রী তো টু-শব্দটিও করতে পারেননি। আমরা প্রতিবাদ করেছি বলেই ভারতের বিএসএফ সদস্যদের শাস্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেত্রী কথাও বলতে পারেন না, কথা বলার সাহসও দেখাতে পারেননি। সমুদ্র বিজয় অর্জনকে বর্তমান মহাজোট সরকারের অন্যতম সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াই করে আমরা সমুদ্র জয় করেছি। ইন্‌শাআল্লাহ আগামীতে জনগণ ভোট দিলে, ক্ষমতায় আসতে পারলে ইন্‌শাআল্লাহ ভারতের সঙ্গেও সমুদ্রসীমা নিয়ে বিজয়ী হবো। কারণ আমরা মাথা উঁচু করে চলি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে