Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ২ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২১-২০১২

সরকারের কাজ হলো বিরোধীদলকে গালাগালি করা:খালেদা

সরকারের কাজ হলো বিরোধীদলকে গালাগালি করা:খালেদা
ঢাকা, ২০ মার্চ:  খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশ ও জনগণের এতো সমস্যা তা নিয়ে কোনো বলা হয় না। তাদের কাজ হলো শূধু বিরোধী দলকে গালাগালি করা। আমরা না থাকলেও গালাগালি হয়। মন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী আমাদের গালাগালি দেন। এতে নবীন সদস্যরা শিখছে। সংসদের ভেতরে বাইরে বিরোধী দলকে বাধা দেয়া হয়। সংসদে কথা বলতে দেয়া হয় না। আমাদের হুইপকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ কিভাবে অত্যাচার করেছে, তা সবাই দেখেছে। এতে শুধু আমরা নয় সকল এমপি অপমানিত হয়েছেন বলে আমি মনে করি।’’
 
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিট ভাষণ দেন।
 
তিনি বলেন, “তিস্তার পানি আমাদের ন্যায্য অধিকার । এ নদীর পানি আমাদের দিতেই হবে। ভারতকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে। আপনারা আওয়াজ তুলুন, আমরাও আওয়াজ তুলব। তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। ৫৭ নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিচ্ছে। এটা হলে দেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। দেশে কোনো ফসল ফলবে।”
 
সাগর-রুনি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। কেন খুনীদের ধরা হয়নি, জানতে চাই। নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুনীদের সময় মতো ধরেছেন। ধরে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কূটনৈতিক জোনে কূটনৈতিক হত্যা হয়েছে। সেই হত্যাকারীদের ধরা হয়নি। আজ বিদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। ইতোমধ্যে সে দেশ থেকে আমাদের অনেক লোককে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা দেশে এসে বেকার হয়ে ঘুরছে।’’
 
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘‘এ সরকার তিন বছরে দেশ ও জনগণের জন্য কিছু করেনি। মহাজোটের নেতা এরশাদ খোদ বলেছে, এ সরকারের সময়ে দেশে হাহাকার চলছে। বিরোধী দল সরকারকে সহায়তা করতে চেয়েছে। কিন্তু সরকার বিএনপিকে পদে পদে কষ্ট দিয়েছে।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘আমার দলের সদস্যরা অল্প বয়সে একাধিক বার এমপি হয়েছেন। শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে ছাত্রলীগের গুন্ডারা কিভাবে অত্যাচার করেছে। সেদিন কিছু লোক তাকে না বাঁচালে তাকে হয়তো সেদিন বাঁচানোই যেতো না। মাননীয় স্পিকার এ অবস্থা রুখতে আমি আপনার কাছে সহায়তা যাই। এ সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করতে দেয় না। বিদেশিদের সঙ্গে অনেক চুক্তি হয়। সংবিধানে থাকলেও আমরা তা জানি না। সংসদে তা উত্থাপিত হয় না। এ হলো বিরোধী দলের প্রতি আচরণ।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় স্পিকার ওনারা মুক্তিযোদ্ধা, আমরাও মুক্তিযোদ্ধা । দেশের যেকোনো স্বার্থ রক্ষায় আমরা একত্রে কাজ করবো। কিন্তু সীমান্তে ভারতের অপকর্ম নিয়ে সরকার কোনো প্রতিবাদ করে না। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির কি অপরাধ, আমরা জানতে চাই। একের পর এক সীমান্তে হত্যা হচ্ছে। সরকার কোনো প্রতিবাদ করে না। ফলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে আলোচনায় সর্বদা বলে থাকে তারা একের পর এক হত্যা চালিয়ে যাবে।’’
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘‘কি আপনার সমস্যা? কেন আপনারা প্রতিবাদ করেন না। আপনারা প্রতিবাদ করেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু তারা নিরব। তাই একের পর এক হত্যা চলছে।’’
 
এ সময় সরকার দলীয় এমপিরা শোরগোল শুরু করলে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘মাননীয় স্পিকার এরা শুধু ডিস্টার্ব করতে পারে।’’
 
পরে স্পিকার নিরব থেকে তাদের বিরোধী দলীয় নেত্রীর কথা শুনার নির্দেশ দিলে তারা চুপ হন।
 
তিনি বলেন, ‘‘ফখরুদ্দীন ও মইনদ্দিনের সরকার দুই বছরে দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। গ্রামে গঞ্জের সব দোকানপাট তারা ছারখার করে দিয়েছে। তারা দেশকে ভিক্ষুক বানাতে চেয়েছে।’’
 
সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘মাছ, মাংস ও ডিমের দাম এতো বেশি যে দেশে দারিদ্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে শিশুরা পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। এ জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুষ্টিহীন প্রজন্ম দিয়ে দেশ এগুতে পারে না।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘আমরাও ক্ষমতায় ছিলাম। শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো কেলেংকারি হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কেন শেয়ারবাজার কেলেংকারি হয়। ৯৬ তে হয়েছে, এবারও হয়েছে। ৯৬ এর চেয়ে অনেক বড় কেলেংকারি। এতে অন্তত ৩৩ লাখ লোক ফতুর হয়েছে। যার সঙ্গে দেড় কোটি পরিবার সরাসরি জড়িত। লোকজন এর প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ দিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বললেন এর প্রতিবেদন দিতে পারবেন না। এর অর্থ এরা অর্থমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাশালী।  এরা এতো উঁচু যে অর্থমন্ত্রী তাদের নাম প্রকাশ করতে পারেন না। দেশের গরীব মানুষকে পথে বসিয়েছে। তারা আজ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘গ্যাস সংকটের ফলে লক্ষাধিক কারখানা চালু করা যায়নি। ফলে কত লোক চাকরি পেতো, বেকারত্ব কমত। কিন্তু সরকার তা করতে পারেনি।’’
 
তিনি বলেন,‘‘সংসদ নেত্রী বলেন আমরা নাকি কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করিনি। কিন্তু রেকর্ড বলে পিডিপির অধীনে সাড়ে ১২ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে আমরা মোট চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। মইনউদ্দীন-ফখরুদ্দিন সরকার এসে আমাদের বাকি প্রকল্পগুলো বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে হরিলুটের ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার নাম দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো কুইক অর্থ আত্মসাৎ হচ্ছে। আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে প্ল্যান্ট করেছে।’’
 
আগে ছুটির দিনে বিদ্যুৎ যেতো। এখন শুক্র-শনি কোনোদিনই বাদ নেই। একই অবস্থা গ্রাম দেশেও। এখন বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘ট্রানজিট দিলে নাকি আমরা অনেক আয় করবো। বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুর-হংকং হয়ে যাবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিনিয়ত দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। দেশ কোথায় সিঙ্গাপুর হয়েছে, তাতো দেখতে পাইনি।  আমরা শুনেছি বন্দর ব্যবহারে সুবিধাও দেয়া হচ্ছে। আমাদের বন্দরের ব্যবহার বেড়েছে শিল্প কারখানা বাড়ার কারণে। নিজেরটা পূরণ না করে অন্যকে সুবিধা দেয়া, সেটা কি?’’
 
তিনি বলেন, ‘‘টিপাইমুখ বাঁধ হলে কি হবে, জানি না। এমনিতেই ফারাক্কার কারণে উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচ থেকে পানি উঠতে চায় না। টিপাইয়ে বাঁধ দিলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। এ বাঁধ প্রকল্প দেখতে সংসদীয় কমিটি ভারত গেছে। তারা পানিতে নামতে পারেননি। এ বাঁধ একটা সর্বনাশা বাঁধ। এটা রুখতে দেশে বিদেশে প্রতিবাদ করেন। আমরা আপনাদেরকে সহায়তা করবো।’’
 
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘সংসদে আসলে কথা বলতে দিবেন না। এটা কি ডাবল স্টান্ডার্ড নয়। ডাবল স্টান্ডার্ড শুধু সংসদে নয়। আদালতেও একই অবস্থা। সরকারের জন্য এ ধরনের নিয়ম, আমাদের জন্য ভিন্ন। বিরোধী দলকে এমন সব মামলায় দেয়া হয়, তা দেখে আমার লজ্জা হয়। বিরোধী দলীয় এমপিকে মোবাইল চুরির মামলা দেয়া কতটা অসম্মানের বিষয়। এটা আমার জন্যও অসম্মানের। মাননীয় স্পিকার এটা আপনার জন্যও অসম্মানের বিষয়। বিচার বিভাগকে সম্পর্ণূ দলীয়করণ করা হয়েছে। ফলে ন্যায়বিচার থেকে আমরা বঞ্চিত।’’ বিচারকরা এমন রায় দেয়, যা দেখে আমরা হতবাক হই বলেও মত দেন তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে