Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৭-২০১১

নেতা মেসি পারবেন?

নেতা মেসি পারবেন?
আজ শুরু হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের ?ম্যারাথন?। হ্যাঁ, ম্যারাথন খেলাটা অ্যাথলেটিকসেই হয়। ফুটবলের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেওয়ার কারণ, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব চলে লম্বা সময় ধরে। এখানে খেলাটা গ্রুপ পর্বে হয় না। সবাই সব দলের সঙ্গে খেলে হোম-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে।
ব্রাজিল স্বাগতিক হওয়ায় তাও এবার ম্যাচের সংখ্যা কমেছে। ব্রাজিলকে বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে না। এ ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের নয়টি দল খেলবে একে অন্যের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ। প্রতি দলের মোট ম্যাচের সংখ্যা ১৬। দুই বছর ধরে চলবে এই বাছাইপর্ব। ম্যারাথন নয়তো কী!
দীর্ঘ সময় ধরে হয় বলেই তাতে নাটকের জন্মও হয় অনেক বেশি। গতবারই যেমন শেষ দিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তার দোলাচলে ছিল আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের মধ্যে ৮৪ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে গোল এনে দিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উতরে দেন মারিও বোলাত্তি। কোচ ম্যারাডোনার তখন সে কী ?পাগলামো?! উরুগুয়ে ওই ম্যাচে হেরে গেলেও পরে প্লে-অফ খেলে জায়গা করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে।
সব সময় সব দলের ফর্ম তো আর ভালো যায় না। তা ছাড়া বলিভিয়া, পেরুর মতো দেশগুলো নিজেদের ভেন্যুতে বড় প্রতিপক্ষগুলোর ঘামও ছুটিয়ে দেয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে বলে সেখানে খেলতে গিয়ে দম হারিয়ে ফেলে এই অঞ্চলের শক্তিধরেরা। ফলে ব্রাজিল না থাকলেও এবারও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এই অঞ্চলে নাটক কম হবে না। গত কোপা আমেরিকা এরই প্রমাণ।
গত কোপা আমেরিকা নতুন শিক্ষাও দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় শুধু ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে আর প্যারাগুয়ের দাপটের দিন শেষ। নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে কলম্বিয়া, পেরু, চিলি; এমনকি এই অঞ্চল থেকে কখনোই বিশ্বকাপে না খেলা একমাত্র ভেনেজুয়েলাও।
ফলে আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ের মতো দলগুলোর জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অবশ্য ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপ বসার কারণে এই অঞ্চল থেকেই সর্বোচ্চ ছয়টি দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ। স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে সবার আগে। বাছাইপর্ব থেকে সেরা চারটি দল যাবে। পঞ্চম দলটি এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে পঞ্চম হওয়া দলের সঙ্গে খেলবে প্লে-অফ।
ব্রাজিলের অনুপস্থিতিতে ফেবারিটের তকমাটি আর্জেন্টিনার পাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি পাচ্ছে উরুগুয়ে। গত বিশ্বকাপে শেষ চারে ওঠাটা যে অঘটন ছিল না, সেটি এবার কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি। দলে তারকার ভিড় নেই। তার পরও অস্কার তাবারেজ এই দলটাকে গড়ে তুলেছেন তিলে তিলে। এরই ফল পাচ্ছেন। আজ বলিভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে বাছাইপর্ব শুরু করতে যাওয়ার আগে তাবারেজ অবশ্য ফেবারিটের তকমা উড়িয়ে দিয়েছেন, ?সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের অর্জনের কারণেই যদি বলা হয় বাকিদের তুলনায় আমরা অনেক ভালো দল, সেটা হবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ।?
চিলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া আর্জেন্টিনা অবশ্য এতে স্বস্তিই পাবে। কিন্তু তার পরও নজর থাকবে তাদের ওপরেই বেশি। সবাই যেমন আবারও উন্মুখ হয়ে থাকবে, লিওনেল মেসি এবার কী করেন দেখার জন্য। তিনি কি পারবেন বার্সার হয়ে তাঁর দুর্দান্ত খেলাটা জাতীয় দলেও অনূদিত করতে? নাকি ব্যর্থ হবেন?
মেসির জন্য দায়িত্বটা বাড়ছে। কারণ এবার দলের অধিনায়ক তিনিই। যদিও কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ?সবাইকে বুঝতে হবে আমার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে না। আমি একাই কোনো ম্যাচ জেতাতে পারব না। বার্সেলোনার হয়েও যেমন আমি একা কোনো ম্যাচ জেতাই না।?
তা না পারুন, তবে দলকে উজ্জীবিত করার কাজটি তো নেতা মেসিকেই করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার ঘুম ভাঙানোর সোনাকাঠি, রুপাকাঠি তো তাঁরই হাতে!

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে