Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১২

সর্বোচ্চ ৩১ পয়সা বাড়ছে বিদ্যুতের পাইকারি দাম

সর্বোচ্চ ৩১ পয়সা বাড়ছে বিদ্যুতের পাইকারি দাম
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে এপ্রিলে আবারো বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। শতকরা সর্বোচ্চ ৩১ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। চলতি মাসের শেষ দিকেই নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য বাড়ানোরও ঘোষণা আসতে পারে। বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে সোমবার বিইআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব ইঙ্গিত দেয়া হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে এবং ভোক্তা ও বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। কমিশন চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্যদের মধ্যে কমিশন সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ এবং মো. ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হবে। নতুন মূল্য সমন্বয় করা হলে পিডিবিসহ অন্য পাঁচ বিতরণ কোম্পানিকে আগামী মাস থেকেই বর্ধিত দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। পিডিবি সূত্র জানায়, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম শতকরা ৪১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল তারা। বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি তাদের এই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ইউনিটপ্রতি শতকরা ২১ পয়সা পর্যন্ত ৬ দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। সবদিক বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৩১ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কমিশন চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন। নিজেদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে পিডিবি চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির বলেন, দেশে প্রতিবছর শতকরা ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বর্ধিত এই চাহিদা মেটাতে পিডিবিকে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও জরুরি চাহিদা মেটাতে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করতে না পারায় তরল জ্বালানি তেলে উৎপাদিত রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও আইপিপি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হচ্ছে। আর এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয়। এ অবস্থায় গত ২৯ ডিসেম্বর সরকার সবধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ানোর ফলে গড় প্লান্ট ফ্যাক্টর হিসেবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘাটতি হয়। এছাড়া ২০১১-১২ অর্থবছরে কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় তাদের ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকার পিডিবিকে আর্থিক ভর্তুকি হিসেবে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়েছে ঋণ হিসেবে। বিশাল এ ঋণের বোঝা মাথায় রাখার পরেও চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সেচ লোডসহ গ্রীষ্মকালীন চাহিদা ও নতুন সংযোগের ফলে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। এ কারণে প্লান্ট ফ্যাক্টর আরো বৃদ্ধি পাবে। ফলে তরল জ্বালানি ব্যয় ইউনিট প্রতি বাড়বে ৩১ পয়সা এবং একইসঙ্গে সামগ্রিক পর্যায়ে বাল্ক (পাইকারি) উৎপাদন ব্যয় ৫ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ১৬ পয়সা হবে। যার ফলে ঘাটতি দাঁড়াবে ৪২৩ দশমিক ৯ কোটি টাকা। পিডিবির প্রস্তাবে আরো বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের তরল জ্বালানি ব্যয় চলতি বছরের মার্চ থেকে জুনের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি বেড়ে ৬ টাকা ৬৮ পয়সায় দাঁড়াবে। এ অবস্থায় মূল্য সমন্বয় করা না হলে তাদের ঋণের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের পক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। আর এ কারণে ১ মার্চ থেকেই নতুন মূল্য সমন্বয়ের অনুরোধ জানান তারা। সূত্র মতে, এর আগে গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়নো হয়। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। যা চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়। বর্তমান প্রস্তাবে ৪১ পয়সা বাড়িয়ে ৪ টাকা ১৫ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এদিকে শুনানিতে উপস্থিত প্রায় সবাই পাইকারি মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। তবে কেবল মূল্য বৃদ্ধি না; সেইসঙ্গে সেবার মানও বাড়ানোর দাবি জানান তারা। ভোক্তাদের পক্ষে একমাত্র প্রতিনিধি কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি ও চুয়েটের অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যে তেল ব্যবহার করা হয় তা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, কর উঠিয়ে দেয়া গেলে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও হয়। জবাবে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করা না গেলে বিদ্যুতের দাম কম রাখা সম্ভব নয়। গ্যাস সঙ্কটের কারণে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এদিকে পাইকারি মূল্য বাড়ানোর ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে যাতে লোকসানের মুখে পড়তে না হয় সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন কমিশনের এক সদস্য। পরবর্তীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য সমন্বয় করা হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে