Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১২

আন্দোলন সামাল দিতে বেসামাল আইন-শৃঙ্খলা

আন্দোলন সামাল দিতে বেসামাল আইন-শৃঙ্খলা
রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাল দিতে পুলিশ বেশি ব্যস্ত থাকায় বেসামাল হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। মামলার তদন্তসহ অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রম থমকে আছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানেও ভাটা পড়েছে। ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকরা তা মানতে না চাইলেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য- বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচি আর সরকারি দলের শোডাউনের নিরাপত্তা দিতেই পুলিশ দিশেহারা; রুটিন ওয়ার্কের সময় কোথায়? গত কয়েক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দুই-তিনদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকছে। এসব কর্মসূচি সামাল দিতে পুলিশকে অন্তত দুইদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ছিনতাই, দস্যুতা, অপহরণ ও গুম বিভিন্ন অপরাধ প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে। নারী-শিশু পাচার, ধর্ষণ, নানা ধরণের নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতা আতঙ্কজনক পর্যায়ে পেঁৗছেছে। একই সঙ্গে কমেছে সন্ত্রাসী-সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র-গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে খুন হয়েছে ৭১৪ জন। একই সময়ে ১০৫টি বড় ধরনের ডাকাতি, ১৬৫টি দস্যুতা, ৩২৫টি চাঁদাবাজি, ১ হাজার ৩১৭টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪ হাজার ৭৫ জন নারী ও শিশু। অপহৃত হয়েছে ১৫১ জন। এ সময় রাজনৈতিক আন্দোলনের নিরাপত্তা ও সহিংসতা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। থানায় রেকর্ডকৃত এ পরিসংখ্যানের চেয়ে আরো কয়েক গুণ বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, খুন ছাড়া অন্য সব অপরাধের এক তৃতীয়াংশ থানায় নথিভুক্ত হয়। এদিকে গত দুই মাসে ৩৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৪৮টি অন্যান্য অস্ত্র, ২ হাজার ৫৪৩ রাউন্ড গুলি, ২৪৩টি বোমা-ককটেল-রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন বিস্ফো-রক উদ্ধার করা ২ হয়েছে। একই সময় হেরোইন, ফেনসিডিল, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আটকের পরিমাণও অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক কম। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে মাত্র ১ লাখ ৩৬ হাজার বোতল ফেনসিডিল, ২৩ হাজার পুরিয়া হেরোইন, ৫৬ হাজার লিটার মদ ও ৭ হাজার ১১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে পুলিশ এর প্রায় দ্বিগুন অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে থাকে বলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, জনসভা, সমাবেশ-মহাসমাবেশ, রোডমার্চ ও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি সামাল দিতে গিয়েই পুলিশ রুটিন ওয়ার্কে নজর দিতে না পারায় এই দুর্গতি। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ২৯ মার্চের হরতাল সফল করতে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়েই পুলিশকে নিয়মিত কাজকর্ম ফেলে রণাঙ্গনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। তিনি জানান, বিএনপির ডাকা ২৯ মার্চের হরতালকে সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক ফোর্স ঢাকায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ও বড় শহরগুলোতে পুলিশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হরতালে নাশকতা-বিশৃঙ্খলা ঠেকিয়ে কীভাবে সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে দূরে রাখা যায় তার কৌশল নির্ধারণে পুলিশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এপ্রিল-মে মাসজুড়ে যে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তা সামাল দিতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরাপত্তার ছক সাজাতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচি সামাল দিতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্তু এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি। খুন, ডাকাতি, রাহাজানি কখনো কিছুটা বাড়ে, আবার কখন কমে- এটাই স্বাভাবিক বলে দাবি করেন আইজিপি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে বিএনপি রোডমার্চ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে পুলিশ মামলা তদন্ত, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারসহ অপরাধ দমনের নিয়মিত কার্যক্রম আগের গতিতে চালাতে পারছে না। এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষ্য- মনিটরিং সেলে নথিভুক্ত দেশের চাঞ্চল্যকর ২৪টি মামলার তদন্তই ঠিক মতো এগুচ্ছে না; সেখানে সাধারণ মামলার তদন্তের কী গতি তা সহজেই বোঝা যায়। মনিটরিং সেল সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে তদন্তে অগ্রাধিকারযোগ্য সিরাজগঞ্জে ট্রেনে আগুন, শেরাটন ক্রসিংয়ে দোতলা বাসে অগি্নসংযোগ, কনস্টেবল মঞ্জুরুল হত্যা মামলা, রমনার আয়েশা আক্তার টুম্পাকে অহরণের পর খুন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কলেজছাত্রী মরিময় সুইটিকে বিবস্ত্র মামলা, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন হত্যা মামলা, ধানম-ির অ্যাডভোকেট নাজির হায়াত খান হত্যা মামলা, খুলনার ফুলতলার দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলা, রংপুরের গঙ্গাচড়া থানায় দায়েরকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার গত তিন মাসে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এছাড়াও পঞ্চগড়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলা, সিরাজগঞ্জের ডাক্তার বাকী মির্জা হত্যা মামলা, সাভারের সাবেক এমপি প্রয়াত সামছুদোহা খান মজলিসের স্ত্রী সেলিমা খান মজলিস হত্যা মামলা, ঝিনাইদহের ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. মিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলা, বরিশালের আগৈলঝাড়ার স্কুল শিক্ষিকা শারমিন জাহান সুমু হত্যা মামলা, বাকেরগঞ্জের স্কুলছাত্রী সেজুতি অপহরণ চেষ্টা মামলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজছাত্র আবিদ হত্যা মামলা, সিলেটে কলেজছাত্র শিহাব হত্যা মামলা, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মডেল কন্যা আদৃতা হত্যা মামলা ও শেরে বাংলা নগরে যুবদল নেতা মিল্টন হত্যা মামলাসহ ২৪টি মামলা গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর তদন্তে পুলিশ আশানুরূপ সাফল্য দেখাতে পারেনি। রাজধানীর বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক আন্দোলন সামাল দিতে ব্যস্ত থাকায় তারা তদন্তে যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি। মামলার সুপারভাইজিং কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা ছক তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় তারাও ঠিকমতো তদন্ত মনিটর করতে পারছেন না। ডিএমপির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, সরকারের মেয়াদের শেষদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার রেওয়াজ রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাল দেয়ার ফাঁকে অপরাধ দমন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে পুলিশের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠোর হবে। এদিকে বিএনপির ডাকা ২৯ মার্চের হরতাল কর্মসূচিকে সামনে রেখে তালিকাভুক্ত বোমাবাজ, ভাড়াটে পিকেটার, অস্ত্রধারী পলিটিক্যাল ক্যাডার এবং যানবাহন ভাংচুর-অগি্নসংযোগ ও চলাচলে বাধাদানকারীদের ধরপাকড়ে ২২ মার্চ থেকে মাঠে নামছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ডিএমপিসহ ছয় মহানগরের পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং সব জেলার এসপিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হরতালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা চালালে তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রোববার মধ্যরাত থেকে রাজধানীতে অন্তত ৩০টি মোবাইল চেকপোস্টসহ ১০৪টি পয়েন্টে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ৪১ থানার ওসিকে নিজ নিজ এলাকার টহল জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে থানার সিভিল টিমকে এলার্ট করা হয়েছে। ডিএমপির মুখপাত্র, গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, বিরোধী দলের ডাকা হরতাল বা অন্য কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেবে না পুলিশ। তবে আন্দোলনের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালালে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, অগি্নসংযোগ ও বোমাবাজিসহ যে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের প্রস্তুতির আভাষ পাওয়া মাত্র অ্যাকশনে নামবে পুলিশ। ডিবি ডিসি মনিরুল জানান, একটি ষড়যন্ত্রকারী চক্র আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। এ মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি ইন্ধনদাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের ধরতে গোয়েন্দা জাল ফেলা হয়েছে বলে জানান তিনি।আন্দোলন সামাল দিতে বেসামাল আইন-শৃঙ্খলা

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে