Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.1/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১২

গ্রেফতারের ক্ষমতা পাচ্ছে দুদক

মিজান মালিক


গ্রেফতারের ক্ষমতা পাচ্ছে দুদক
দুর্নীতি মামলার যে কোন আসামিকে গ্রেফতারের ক্ষমতা পাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক্ষেত্রে আদালত থেকে আগাম গ্রেফতারের আদেশ নিতে হবে না। এছাড়া দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সব ধরনের আসামির মামলা হবে জামিন এবং আপস অযোগ্য। এতদিন দুর্নীতি মামলার আসামিরা নিু আদালত থেকে গণহারে জামিন পেয়ে আসছিল। কিন্তু দুদক আইনে নতুন যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তাতে আইনটি জামিন অযোগ্য করা হচ্ছে। কেউ যদি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করেন বা কারও প্ররোচনায় বানোয়াট মামলা করেন এবং আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে মামলা দায়েরকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫ বছরের শাস্তির বিধান থাকছে নতুন আইনে। ২০০৪ সালে তদানীন্তন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। দুদক গঠন করা হয় ওই বছরের ২০ নভেম্বর। বিচারপতি সুলতান হোসেন খানকে চেয়ারম্যান করে এবং প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিঞা ও মনিরউদ্দিন আহমেদকে কমিশনার করে তখন দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুর্নীতি দমন ব্যুরো ভেঙে আইন পরিবর্তন করে দুদক গঠন করা হলেও দুদকের জন্য বিধি না থাকায় ওই সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে পারেনি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে জরুরি আইনে দুদককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। অধ্যাদেশ জারি করে তখন দুদককে সন্দেহভাজন যে কোন দুর্নীতিবাজকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়। সেই ক্ষমতাবলে দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্সের সহায়তায় দুদক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। জরুরি সরকার চলে গেলে তাদের আইন ও অধ্যাদেশের কার্যকারিতাও স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সরকার নতুন করে দুদককে কার্যকর করার অংশ হিসেবে তাদের আইনে বেশকিছু ধারা সংযোজন করতে চায় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তিনি দুদকের তিন নির্বাহীকে আশ্বাস দিয়েছেন, দুদক থেকে তাদের আইনে নতুন করে সংযোজনের জন্য যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো নীতিগতভাবে সংসদে বিল আকারে তোলা হবে এবং আইনে রূপ দেয়া হবে।
আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে দুদক এখনও সরকারের প্রসিকিউশনের মুখাপেক্ষী। উচ্চ আদালতে দুর্নীতির মামলার নথিতে এখনও লেখা হয়Ñ ‘আসামি বনাম রাষ্ট্র’। এতে করে দুদক তাদের মামলার বিষয়ে অনেক কিছুই জানে না। এই প্রেক্ষাপটে দুদক সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছে, তাদের মামলার নথিতে ‘আসামি বনাম দুদক’ লেখা থাকতে হবে। এতে করে দুদক থেকে নিয়োজিত আইনজীবীরা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ ও শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন। রাষ্ট্রপক্ষের বা অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর দুদকের মামলায় পক্ষ হয়ে কোন ধরনের পক্ষপাত করতে পারবে না। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় মামলা চলছে, এতে করে আসামিরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিশেষ করে সরকারদলীয় লোক পরিচয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। তাই নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, দুদকের মামলার বিরুদ্ধে যে কোন আদালতে বিশেষ করে উচ্চ আদালতে কেউ প্রতিকার চাইলে যিনি রিট করবেন বা প্রতিকার চাইবেন, তাকে অবশ্যই দুদককে পক্ষ করতে হবে। দুদক জানায়, দুদককে মামলায় পক্ষ না করায় অনেক অর্ডার হয়ে যাচ্ছে, অথচ দুদক কিছুই জানে না। দুদকের বক্তব্য বা শুনানি গ্রহণ না করে কোন অর্ডার হলে সেটা দুদকও মানতে পারছে না।
অপরদিকে দুদকের বর্তমান আইন অনুসারে সরকারের যে কোন উচ্চ পর্যায়ের আমলা বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমনকি মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে বা চার্জশিট দিতে হলে সরকারের কাছ থেকে কোন ধরনের পূর্বানুমোদন নিতে হয় না। সরকারের হাইপ্রোফাইলদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ শুরু করতেও অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সরকারের একটি আমলা প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, দুদক আইনে পরিবর্তন এনে সরকারি কর্মকর্তা-আমলাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে হলে সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পাঠানো হয় সংসদে। সেখানে নানাভাবে যাচাই-বাছাই করে আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করেছে, দুদক বর্তমানে যেভাবে মামলার অনুমোদন দিচ্ছে সেভাবেই তা বহাল থাকবে। এ ক্ষমতা সরকারের কাছে ফিরিয়ে নিলে দুদকের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। আইন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশটিও ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে নতুন করে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না। সংশোধিত আইনে এ বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকছে।
এদিকে দুদকের ক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানের আইনের ওপর দুদক আইনের প্রাধান্য থাকছে। রাজনৈতিক সরকারের গত তিন বছরে এ ধরনের বিধান না থাকায় দুদক ব্যাংকের কাছ থেকে দুর্নীতিবাজদের ব্যাংক হিসাব চেয়েও পায়নি। সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে এনবিআরের কাছে নথি চেয়ে পায়নি। এমনি করে বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান দুদককে নানাভাবে অসহযোগিতা করে আসছিল। এই বাস্তবতায় আইনে পরিবর্তন এনে অন্য আইনের ওপর দুদকের আইনটিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
দুদক আইনে আরও যেসব সংশোধনী আসছে তার মধ্যে রয়েছেÑ কারও বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চলাকালীন ওই ব্যক্তি অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। এর ওপর দুদক থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল ২০১১-এর ওপর আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ৪৭তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিনার সেসব বিষয় নিয়ে পরপর দুই দফায় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আইনে বড় ধরনের সংশোধন আনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশাবাদী আইনে নতুন সংশোধনী এনে দুদককে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, আমরা আইনমন্ত্রীকে অনেক বিষয়ে সংশোধনী আনার পরামর্শ দিলে তিনি তা মেনে নেন। এখন অপেক্ষার পালা, কবে তা আইনে রূপ পাবে। তিনি আরও জানান, দুদক যে স্বাধীন তা যেন আইনটিতে স্পষ্ট করে লেখা থাকে সে বিষয়টি নিয়েও আমরা সুপারিশ করেছি। ‘এই কমিশন একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ কমিশন হইবে’ মর্মে নতুন ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মানবাধিকার কমিশন, মহা পুলিশ পরিদর্শক, এবং সব সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান কর্তৃক দুর্নীতির বিষয় উদ্ঘাটিত হলে দুদককে অবশ্যই রিপোর্ট করবেন মর্মে বিধান সংবলিত নতুন একটি ধারা দুদক আইনে সংযোজনের প্রস্তাব করেছি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে