Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১২

সংসদে আবারও অশালীন বক্তব্য, হাতুড়ি পিটিয়ে থামালেন স্পিকার

সংসদে আবারও অশালীন বক্তব্য, হাতুড়ি পিটিয়ে থামালেন স্পিকার
ঢাকা, ২০ মার্চ- কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্যে গতকাল আবারও উত্তপ্ত ছিল সংসদ। খিস্তি-খেউর, ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি, অশালীন ভাষা আর একে অপরের দিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসানো ছিল সংসদ অধিবেশনের চিত্র। দুই দলের এমপিদের মারমুখো আচরণে একপর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ সময় স্পিকারকে হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়। এমপিদের বেশির ভাগ বক্তব্যে চুপ, কোলে ওঠা, লং ড্রাইভে যাওয়া, চিরকুমারী’, দুর্নীতিতে  চ্যাম্পিয়ন, বেয়াদব, মাতাল, মেরুদণ্ডহীন প্রেসিডেন্ট, কুখ্যাত কুশ্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ পল্লী শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।
তাদের  এ ধরনের বক্তব্যের মাঝে বাধ্য হয়ে স্পিকারকে বেশ কয়েকবার অশালীন ভাষা এক্সপাঞ্জ করতে হয়। সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পরস্পরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিলেন সবচেয়ে সরব। প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্যবহার করা হয় এসব অশ্লীল ভাষা। একপর্যায়ে স্পিকারও বলেন, সংসদে ব্যবহার হওয়া ভাষা নিষিদ্ধ পল্লীতে ব্যবহার হয় কিনা তা তদন্ত হওয়া উচিত। যদিও এটা আমি বলতে পারি না। গতকাল সংসদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিরোধী দল সংসদে যোগ দেয়ার পর এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া অনুপস্থিত ছিলেন। রোববার সংসদে যোগ দেয়ার পর মাগরিবের বিরতির সময় তিনি সংসদ থেকে চলে যাওয়ার পর আর যোগ দেননি।
উত্তপ্ত সংসদ: অধিবেশনের শুরুতে বিএনপি’র এমপিদের রোববারের বক্তব্যকে নিষিদ্ধ পল্লী, ঝাড়দারদের ভাষা  ও বস্তির আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন আওয়ামী লীগের এমপি বেগম নাজমা আক্তার। এরপর ফ্লোর নিয়ে বিএনপি’র এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার আক্রমণাত্মক পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জ যাদের বাস তারাই ভাল জানেন নিষিদ্ধ পল্লীর কথা। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে এরশাদের সঙ্গে হাসিনা লং ড্রাইভে গেছেন। ৯৬ নির্বাচনের আগে গোলাম আযমের কোলে উঠে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। জিয়ার বিচারের পরিবর্তে সত্যিকার বিচার চাইলে খালেদ মোশাররফের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সুর আর আওয়ামী লীগের সুর যখন একই হয়, তখন মানুষ ভাবে দেশ কোথায় যাচ্ছে? প্রেসিডেন্টের সংসদে দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। যত্রতত্র পড়ে থাকা লাশের সংখ্যা বাড়ছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে বারবার টাকা ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি দুই ডিজিট ছাড়িয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির খেলা, শেয়ারবাজার লুটপাটের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে আসেনি। তাই আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত। পরে শব্দটি স্পিকার এক্সপাঞ্জ করে নেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়জেদ জয় মদ পান করে রাস্তায় গাড়ি চালিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।  পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে একদিনের কারাদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেয়। সে খবর দেশের মানুষ জানে। এ সময় সরকারদলীয় মহিলা এমপিরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাপিয়াকে উদ্দেশ্য করে ‘এই চুপ চুপ’ ‘বস’ করে প্রতিবাদ জানিয়ে চেঁচামেচি শুরু করেন। প্রত্যুত্তরে বিএনপি’র সংসদরাও টেবিলে চাপড়ে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের অন্য সদস্যরাও হৈ চৈ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকার হাতুড়ি পিটিয়ে এমপিদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। এ সময় স্পিকার সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার মাইক বন্ধ করে দিয়ে বলেন, আপনি সংসদে মেরুদণ্ডহীন প্রেসিডেন্ট ও ‘নিষিদ্ধ পল্লী’ নিয়ে কথা বলছেন। আপনি অশ্লীল কথা বলবেন না। আপনি অখ্যাত বা কুখ্যাত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শব্দটি বলবেন না। আপনি আবার সুন্দর করে কথা সাজিয়ে নিন, তখন আমি আবার কথা বলার সুযোগ দেবো। তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল একে অপরের সমালোচনা করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু শ্লীল ভাষায় কথা বলতে হবে। রোববারের ঘটনায় আপনারা কি পত্রিকা দেখেননি। আপনারা ভাল কথা বললে জনগণ প্রশংসা করে। তা দেখে স্পিকার হিসেবে আমারও ভাল লাগবে। পাপিয়ার চালিয়ে যাওয়া বক্তব্যকে বিএনপির এমপিরা টেবিল চাপড়ে উৎসাহ দিতে থাকেন। আর সরকারদলীয় সংসদরা হৈ চৈ করতে থাকেন।
নিষিদ্ধ পল্লীর সদস্য কিনা তদন্ত করা উচিত- স্পিকার: এদিকে সংসদে এমপিদের অশালীন বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ জানান স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ। গতকাল সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় মহিলা এমপিদের বক্তব্য শেষে এ ক্ষোভ জানান। বলেন, সংসদে এ ধরনের ভাষায় বক্তব্য রাখা যায় না। অনেকে আবার বলছেন এসব কথাবার্তা নিষিদ্ধ পল্লীতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্পিকার হিসেবে আমি তো বলতে পারি না- বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত। এখন দেখছি আসলেই তদন্ত করা উচিত। সেটা করতে হলে এমপিদের দিয়েই তো করতে হবে। এর আগে বিরোধীদলীয় দুই এমপি রাশেদা বেগম হীরা ও সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়ার বেশ কয়েকটি অশালীন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার। স্পিকার আরও বলেন, আমি বিরোধী দলের চিফ হুইপকে অনুরোধ করেছিলাম, তিনি যেন সিনিয়র সদস্যদের নাম দেন বক্তব্য দেয়ার জন্য। যাতে সংসদ উত্তপ্ত না হয়। কিন্তু তিনি আমার কথা রাখেননি। রোববার সংসদে যেসব ভাষায় বক্তব্য রাখা হয়েছে তা সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্পিকার হিসেবে আমার জন্যও লজ্জাকর। এসব কথা সমস্ত মিডিয়ায় এসেছে। তিনি বলেন, আমরা সুন্দরভাবে কথা বললে সংসদের ভাবমূর্তি বজায় থাকবে।
ডিজিটাল দুর্নীতি: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি’র সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আমি আজ সরকারের কিছু ডিজিটাল দুর্নীতির কথা বলবো। দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে শেয়ারবাজার সম্পর্কে প্রথমে বলতে হয়। জেড ক্যাটিগরির শেয়ার যাদের তাদের এক একটি কোম্পানি ১৮০০ থেকে ২০০০ কোটি টাকা করে উঠিয়ে নিয়েছে। অনেক কিছু দেখছি। সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ওই সিসি ক্যামেরা ওইখানে না বসিয়ে কালপ্রিটগুলোর বাসার সামনে লাগানো হলো দেখা যেতো টাকাগুলো কোথায় গিয়েছে। তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর  ড. আতিউর রহমানকে ইন্দিরা গান্ধী পদক দেয়া হচ্ছে। ইন্দিরা পুরস্কার নয়, শেয়ারবাজার ধ্বংস করার জন্য তাকে ধ্বংসাত্মক অ্যাওয়ার্ড দেয়া উচিত ছিল। তিনি গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফকে খুশি করার জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে তাদের অনুগত ব্যবসায়ীরা আমাদের শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেয়, তছনছ হয়ে গেল শেয়ারবাজার। ধ্বংস হয়ে গেলে মধ্যবিত্তরা। এমন কোন আইন করা উচিত তারা যেন এমন কাজ করতে না পারে। সর্বস্ব হারিয়েছে এক কোটি মানুষ। অনেকে রাস্তায় এসেছে। আরও আর্মি অফিসার, পুলিশ কর্মচারী আছেন যারা লজ্জায় রাস্তায়ও বের হতে পারছে না। মন্ত্রিসভায় এমন লোক রাখা উচিত  যিনি শেয়ারবাজার বোঝেন। কারণ, এর সঙ্গে এক কোটি লোক সম্পৃক্ত। পার্থ বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিলো বিদ্যুৎ দেবে। এটা নিয়ে এক বছর নড়াচড়া হলো কিছুই হলো না। তাদের পছন্দমতো দিতে অনেক ভাল প্রতিষ্ঠান এলেও তাদের দেয়নি। ইনডেমনিট পাস করা হলো। কুইক রেন্টাল দিয়ে দেশকে কুইক ডেস্ট্রয় (ধ্বংস) করে দেয়া হলো। ফার্নিচার, চানাচুর মার্কা কোম্পানিকে কুইক রেন্টাল দেয়া হলো। চায়নার ভাঙাচোরা মেশিন আর নেই। সব বাংলাদেশে চলে এসেছে। ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যেতো। তিনি বলেন, ড. ইউনূসকে নিয়ে যে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তার কারণে বিশ্বব্যাংক ও  আইএমএফ তাদের  দরজা আটকে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও বিমানের সঙ্গে সুন্দর মিল রয়েছে। বিদ্যুৎ নিজস্ব প্ল্যান্ট বন্ধ রেখে রেন্টাল বিদ্যুৎ চালায়। আর বিমান আমাদের নিজস্ব বিমান বসিয়ে রেখে লিজের বিমান চালায়।  আন্দালিব বলেন, শুনতাম আওয়ামী লীগ গরিবের সরকার। এখন দেখি তারা ব্যাংকারদের সরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায়  ব্যাংক দেয়া হলো। ব্যাংক করতে হলে ৪শ’ কোটি টাকা জামানত দিতে হয়। ফার্মার্স ব্যাংকের যে মালিকানা  তার হিসাব সম্পদের হিসাব সর্বসাকুল্যে ৩৯ কোটি টাকা। আরেক ব্যাংকের মালিকের সম্পদ ২৭ কোটি টাকা।  দুর্নীতি অনেকে লুকিয়ে করে। কিন্তু  এখানে দেখছি খুল্লাম খুল্লা দুর্নীতি। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ধিক্কার জানাই। আওয়ামী লীগ মহাসচিব বলেন, বর্ডারকে নিয়ে আমি চিন্তিত না। তার এই বক্তব্যকে ধিক্কার জানাই। আমরা সমুদ্র করি। ভারত  জয় করি না কেন? সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এখনও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ব্যাপারে কিছু করতে না পারলে  সৌদি আরব ২০ লাখ লোককে দেশে পাঠিয়ে দেবে।   আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি সৌদি আরবের ভিসা পান না। আমি দাবি করবো সৌদি গিয়ে সমাধান করে আসা হোক। তিনি বলেন, মমতা বললেন তিস্তা হবে না। তখন বলা হলো ট্রানজিটও হবে না। অথচ দু’টোই পৃথক। কিন্তু এখন দেখছি ট্রানজিট হয়ে গেছে। তিনি  বলেন, ১২ই মার্চ  গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভাল না।  দুই নেত্রী যখন  জেলে, তখন এই গণমাধ্যমই আন্দোলনের চেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে।  তিনি বলেন, কৌশলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। জনগণ  চায়  তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে।  বড় দুই দলের একে-অপরের প্রতি সম্মানবোধ আগেও ছিল না এখনও নেই। তাই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। এর বাইরে হলে  গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকার কেন ইভিএম নিয়ে কথা বলছে।  এটা হলে দেখা যাবে ভোলায় ভোট দিলো তা গোপালগঞ্জে গিয়ে নৌকায় পড়েছে। আমরা এই ইভিএম-এর  জন্য রেডি নই। আমরা ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন চাই। অনেকে বলেন, কেয়ারটেকার রাখা হলে আবার  আর্মি এসে যাবে। এটা সিস্টেমের দোষ না, সিস্টেমে যারা থাকে তাদের দোষ। অনেক এমপি মন্ত্রী  দুর্নীতি করে। তাই বলে  এমপি-মন্ত্রী হবে না ? দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন কোনদিন হবে না। দেশ আরও খারাপের দিকে যাবে। তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যার ব্যাপারে  মিডিয়া নিয়ে সরকারের  পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক কমেন্ট করা হলে মিডিয়া প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে, গণতন্ত্র  দুর্বল হয়ে যায়। কেউ মিডিয়াকে স্পর্শকাতর বানাবেন না। এটা করলে  মিডিয়ার ওপর এটাক করবে অন্যরা। এটা গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণ হবে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের  বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি সরকারে পরিপূরক। সরকার  সরকারই। দল সরকারের পরিপূরক হতে পারে না। সরকারদলীয় নেতারা যেভাবে কথা বলছেন, তাতে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই যে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব ছাত্রলীগকে দেয়া হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ১২ই মার্চ  ইটিভি,  বাংলা ভিশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটি দলের  মহাসমাবেশের ব্যাপারে যদি সরকারি দলের এমন মাইন্ড সেট হয়  তাহলে কিভাবে এই দলের সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে পারি।  
প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে অসত্য তথ্য দিয়ে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন: এমকে আনোয়ার বলেন, এ সরকারের তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। অথচ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোন কাজই করেনি এ সরকার। দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনার কথা ছিল, ১০ টাকা কেজি চাল, বিনামূল্যে সার ও ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তারা কোন ওয়াদা পূরণ করতে পারেননি। বরং প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে অসত্য তথ্য দিয়ে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাঁসির আসামিদের দণ্ড মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি। ওই খুনিরাই আবার নাটোরের বাবুকে খুন করে এখন জামিনে আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নিজ স্ত্রী হত্যার বিচার চাইছেন, অথচ এডভোকেট নুরুল ইসলামের সন্তানরা আজ তাদের বাবা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না। আজ কারাগার থেকে খুনি-সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিয়ে বিরোধী দলকে নির্যাতন দমন কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শুধু ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই দেশের টেন্ডারবাজি ও অরাজকতা বন্ধ হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। ১২ই মার্চ বিরোধী দলের সমাবেশ নিয়ে সরকারের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার সে সময় যা করেছে- পৃথিবীতে এর চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু হতে পারে না। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে গণতন্ত্রের পথেই ফিরে আসুন। নির্বাচন হলে হতে হবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আজ এটাই জনগণের দাবি।
দুর্র্নীতির  দুর্গন্ধ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে: বিরোধীদলীয় এমপি রাশেদা বেগম হীরা বলেন, মানুষ অবাধ বিস্ময়ে দেখছে   প্রেসিডেন্ট খুনি সন্ত্রাসীদের রক্ষা করছে। তাহের পুত্র বিপ্লবসহ কয়েকজনের  প্রেসিডেন্টের ক্ষমার কথা উল্লেখ তিনি বলেন,   প্রেসিডেন্ট নিজের  মান-সম্মানের তোয়াক্কা না করে সাজা মওকুফ করে সাংবিধানিক  ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, এখন নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। লাশ পাওয়া যায়।  গলাকাটা, বন্দি লাশ অলি-গলিতে, ড্রেনে-বেডরুমে পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অন্যদের নিরাপত্তাহীন করে দিয়েছে। এটা জনগণের সঙ্গে হঠকারিতা, মুনাফেকি। বেগম জিয়ার আইএসআই’র থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসত্য তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের  প্রমাণ  দিয়েছেন। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আদালতে এফিডেভিট দিয়েছেন। যেখানে বাংলাদেশের কোন কথা নেই। ভারতের  সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়জন অসত্য তথ্য প্রচার করেছে। ইকনোমিস্ট-এ শেখ হাসিনার বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপার যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তার কাউন্টার দেয়ার চেষ্টায় এটা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে  এই অসত্য  কথার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। দলটি যখন মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রতি দেয় তা ভঙ্গ করে। তারা মুনাফেক। তিনি বলেন, হিটলার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল কিন্তু সংবিধান ধ্বংস করেনি। এই সরকার গণতন্ত্র ও  সংবিধান দু’টোই ধ্বংস করেছে।  জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া কিভাবে  তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলো। এটা কি একনায়কতন্ত্র নয়। প্রশাসনে হিন্দুদের বসিয়ে এরশাদকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে গণতন্ত্র নস্যাতের ষড়যন্ত্র করছে এই সরকার। সংবিধান থেকে আল্লাহ্‌র নাম মুছে দিয়ে  নামকাওয়াস্তে বিস্‌মিল্লাহ্‌ রেখে ধর্মভীরু মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এই সরকার বাঙালি জাতীয়তাবাদেও বিশ্বাস করে না।   আওয়ামী লীগ নামটিই উর্দু ও ইংরেজির মিশ্রণ। নামটি পরিবর্তন করুন। তিনি  বলেন, বন্দর দিয়ে আবার ফি নিতে গেলে আমরা নাকি অসভ্য হয়ে যাবো। ভারত আমদের দেশকে পরিপূর্র্ণ মরুভূমি বানাতে টিপাইমুখ বাঁধ দিচ্ছে। আমি বলি, আপনাদের প্রতীক ‘নৌকা’ পরিবর্তন করুন। না  হয় মানুষ এই নৌকা গঙ্গায় বিসর্জন দেবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য জামায়াতকে নিয়ে ৯৬টি হরতাল করেছে আওয়ামী লীগ। গুলি চালিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে। এখন এই তত্ত্বাবধায়ক কেন বাতিল করছেন? সংসদে আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তত্তাবধায়ক বিল আনুন। আমরা  দিল্লি-পিণ্ডির গোলামির   জন্য লড়াই করিনি। ১০ই জুনের আগে ক্ষমতা নয়, জনতার মতকে প্রাধান্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক বিল আনুন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবার  দুর্নীতির রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে মন্তব্য করে ভারতের আসামে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানাকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত একটি পত্রিকার অংশবিশেষ পড়ে শুনান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দুর্নীতি করেন না। ওই খবরে বলা হয়েছে শেখ রেহানার যুক্তরাজ্যে রাশি রাশি সম্পদ। সেই দুর্র্নীতির  দুর্গন্ধ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দুর্নীতির কথা আমরা আস্তে আস্তে মানুষের কাছে উপস্থাপন করবো।
আপনারা তো পড়ালেখা করেন না
 সরকারি দলের নাজমা আক্তার বলেন, স্বাধীনতার মাসে মিথ্যা ঘোষক শুনতে শুনতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। উইকিপিডিয়া, সংবিধান পড়ুন। আপনারা তো পড়ালেখা করেন না। এসব পড়লে ওয়েবসাইট ঘাঁটলে জানতে পারবেন কে ঘোষক।  উনারা ইতিহাসের কাঙাল। এভাবে ‘ঘোষক  ঘোষক’ না বলে রাস্তায় নামুন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। দু’হাত তুলে বলুন,  কিছু ইতিহাস ভিক্ষা দিন। জনগণ ভিক্ষা দেয় কিনা দেখুন। উনারা আবোল-তাবোল বকছেন। খালেদা জিয়া  আইএসআই-এর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তারা বলছেন, পত্রিকার কথা সঠিক নয়। আইএসআই সাবেক প্রধান আসাদ দুররানী  স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশের  বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচনে এবং জঙ্গি সৃষ্টি করে আইএসআই-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সেই অর্থ কাজে লাগিয়েছেন। পাকিস্তানের দল  ও জনগণ আইএসআইকে ঘৃণা করে। মুক্তিযুদ্ধে যাদের আমরা পরাজিত করেছি যারা ৩০ লাখ  মানুষ হত্যা করেছে,  ২ লাখ  মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে সেই হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে টাকা খেতে লজ্জা করে না?  তিনি  জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, একজন মাতাল নেতা, ৭ মার্ডারের আসামি  দুই সন্তানের জননী বেগম  জিয়াকে কিভাবে চিরকুমারী বলেন। তার দুই সন্তান  দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। মানি লন্ডারিং করেছেন।  বিদেশে তাদের বিচার হচ্ছে। যদি প্রমাণ করতে হয়  বিদেশী আদালতকে চ্যালেঞ্জ করবেন। আমাদের ভারতের দালাল বলা হয়। অথচ ভারত স্বাধীনতার সময় এক কোটি লোককে আশ্রয়  দিয়েছে। সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেছিল। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ভারতের সঙ্গে যে সব বিরোধ ছিল শেখ হাসিনা সেগুলো মীমাংসা করেছেন। আপনারা কি করেছেন? তিনি সংসদে আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ এনে বলেন, কোন ভদ্রলোকের সন্তান হলে এভাবে বক্তব্য রাখতে পারতেন না। আমার বাসার কাজের মেয়ে বলেছে, সুইপারের ভাষাও নাকি এর চেয়ে ভাল। তিনি ব্যারিস্টার আন্দালিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এখন বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলছেন। আপনাদের সময় কি হয়েছিল? তারেক জিয়ার টাকা লুটপাট করা নিষেধ করতে পারেননি?  আপনারা কে কেমন সবাই জানে। এদিকে গতকাল প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, সরকার দলীয় এমপি জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন ও শাহরিয়ার আলম।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে