Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (38 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১২

সংসদে ফারুক খানকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ ‘ধর ধর’

সংসদে ফারুক খানকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ ‘ধর ধর’
ঢাকা, ১৯ মার্চ: বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের বক্তব্য চলাকালে ‘চোর’ ‘চোর’ ‘ধর’ ‘ধর’ বলে হৈচৈ জুড়ে দিয়েছেন বিএনপির মহিলা এমপি শাম্মী আক্তার ও সৈয়দা আশিফা  আশরাফি পাপিয়া ও রেহানা আক্তার রানু।
 
বিএনপির এমপিরা ফারুক খান চোর, সামিট গ্রুপ চোর, ধর ধর বাটপার ধর বলে চিৎকার শুরু করলেও বিমানমন্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই তার বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় সংসদে বেশ শোরগোলের সৃষ্টি হয়।
 
এ ঘটনা চলাকালে মন্ত্রী বিদ্যুতের উৎপাদন বর্তমান সরকারের অবদানের কথা বর্ণনা করছিলেন।
 
সোমবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপনকালে এ ঘটনা ঘটে।
 
ফারুক খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমি হলফ করে বলতে পারি আমরা যে দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। এতো কম দামে কারো পক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। চারদলীয় সরকারের সময় এ দেশের বিদ্যুৎ খাতকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমানে আমরা এ খাতকে আবার শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘সংসদে দাঁড়িয়ে মনে করেছি সরকারের সফলতার কথাগুলো তুলে ধরবো। কিন্তু গত দুইদিনে বিএনপি সংসদে যোগ দেয়ার পর যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে তা শুনে কেউ আর আমার বক্তব্য শুনবেনা। কারণ, সংসদ শোনার জন্য যারা রেডিও বন্ধ করে রেখেছে, কেননা, কখন আবার বিএনপির একজন এমপি কোন ধরনের অশ্লীন বাক্য উচ্চারণ করে, যা সে তার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে শুনতে পারবেনা।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘আজকে বিএনপি রাষ্ট্রপতিতে সম্মান দেয়নি। তাদের অতীত ইতিহাস খারাপ। অতীতে আমরা দেখেছি তারা কিভাবে বঙ্গভবন থেকে তাদের রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দৌজা চৌধুরীকে বের করে দিয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি নিয়ে তাদের এমন বক্তব্য নিয়ে আমরা কিছু মনে করিনা। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আমরা জানি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে সোজা বঙ্গভবনে গিয়ে সব কিছু রাষ্ট্রপতিতে অবহিত করেন।’’
 
এ সময় বিএনপির এমপিরা টেবিলে চাপড়ে ফারুক খানের এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুনরায় সংসদের বৈঠক উত্তপ্ত করে তোলে।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘‘সরকার শুধু তার সফলতার কথাগুলো প্রচার করছে। কিন্তু সীমান্তে ভারতের বাড়াবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় ভর্তি ও নিয়োগ, শেয়ারবাজার ধ্বংস, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় আমাদের জেলেরা মাছ ধরতে পারেনা, ভারতীয় বাহিনী গুলি করে তাদের হত্যা করে। সরকার একটু প্রতিবাদ পর্যন্ত জানায় না। এটা কেমন কথা। মেধাবী ছেলেগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ভাল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনা।’’
 
বিএনপির স্থানীয় কমিটির আরেক সদস্য এম কে  আনোয়ার বলেছেন, ‘‘সরকার ক্ষমতায় এসেই সাড়ে সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে মামলাগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ডজন খানেক মামলা ছিল। মামলাগুলো প্রত্যাহার করে অপরাধীদের গ্রামেগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছে তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য।’’
 
তিনি আরো বলেন, ‘‘আপনাদের তিন বছরে অন্তত ১০০ দিন হরতাল ডেকেছেন। কিন্তু আমরা তা করিনি, কারণ হরতাল ডাকলে জনগণের কষ্ট হয়। আমরা জনগণকে নিয়ে গণজমায়েত করেছি। কিন্তু আপনারা বাঁধা দেয়ার জন্য যা করলেন তা অতীতে কেউ দেখেছে বলে জানা নেই।’’
 
আওয়ামী লীগের এমপি জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন (নরসিংদী-২) বলেন, ‘‘বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিএনপি ১২ মার্চ গণজমায়েত করেন। বিএনপি টিপাইমুখ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন। অথচ টিপাই মুখের কাজ তাদের সরকারের সময়ই শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় থাকলে তারা ভারতপ্রীতি আর ক্ষমতা হারালে তারা ভারত বিরোধী হয়ে যায়।’’
 
এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেন, ‘‘জামায়াতকে নিয়ে অনেকের গাত্রদাহ রয়েছে। এর আগে যখন আওয়ামী লীগ জামায়াত নিয়ে ঘর করেছে যখন তাদের গাত্রদাহ ছিলনা। এখন আমি, জামায়াত ও ঐক্যজোট নিয়ে গাত্রদাহ চলছে। আমার গাণম্যান প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে জনগণের অবস্থা।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযোদ্ধাদের কারা হত্যা করেছে তা সবাই জানে, বিএনপির সময় কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়নি। সব মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সময়ে।’’
 
এ সময় সরকার দলীয় এমপিরা অলি আহমেদের বক্তব্য টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ জানান।
 
অলি আহমেদের পর ফ্লোর নিয়ে আওয়ামী লীগের এমপি শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘তাদের ক্ষমতাকালে অলি আহমেদ চট্টগ্রাম রেলওয়ের কতটুকু জায়গা নিজ আত্মীয় স্বজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন তা সংসদের সামনে তুলে ধরলে জাতি জানত।’’
 
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রেন্টাল পাওয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই ইউরোপ থেকে কেনা হয়েছে। বিরোধী দল চাইলে আমরা তা দেখাতে পারি। আর চীন থেকে যন্ত্রাপাতি কেনার অর্থ মানে সব কিছু খারাপ যন্ত্রপাতি নয়।’’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে