Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ , ৬ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৭-২০১১

দেখা হলো না দুর্গোৎসব

দেখা হলো না দুর্গোৎসব
প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গেল। অথচ ঢাকায় এসেও মা দুর্গাকে দেখা হলো না! দেখা হলো না পূজা!
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ?এ? দলের সঙ্গে এসে মহেন্দ্র নাগামুটু-বিশাল নাগামুটু ভ্রাতৃদ্বয় ঘুরে গেছেন ঢাকেশ্বরী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি। বাংলাদেশে এবার আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্রিকেটার আছেন তিনজন?রবি রামপল, দেবেন্দ্র বিশু আর দিনেশ রামদিন। ঢাকায় তাঁরা এমন একটা সময়ে এলেন যখন পূজার ঢাক বাজছে। সেই ঢাক শুনতে মন্দিরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। টিভি খুললেই দেখা গেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছবি, পত্রিকার পাতা খুললেই বিজয়া দশমীর খবর।
পূজা-অর্চনা ওয়েস্ট ইন্ডিজেও হয়। কিন্তু স্থান-কাল-পাত্রভেদে তার রং-রূপ যায় বদলে। ঢাকায় এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর আগ্রহ জন্মাল বাঙালি হিন্দুদের দুর্গোৎসব দেখার। কিন্তু হলো না। দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের খবর, পরশু পূজা দেখতে যাওয়ার অনুমতি চেয়েও নিরাপত্তার কারণে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সেটা পাননি গায়ানার এই ক্রিকেটার। তার পরও কাল অপেক্ষায় ছিলেন...যদি একবার যাওয়া যায়। বিফলে গেছে সেই অপেক্ষাও। ?আমাদের ওখানেও উৎসবের আমেজে পূজা হয়। কিন্তু ঢাকায় এসে পূজা দেখা হলো না??দল ঘনিষ্ঠদের কাছে আক্ষেপ বিশুর। বাংলাদেশ সফরে একটু অপূর্ণতা বোধ হয় থেকেই গেল!
দুর্গাপূজা নিয়ে সীমাহীন কৌতূহল দেখা গেল উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিনের মধ্যেও। কাল অনুশীলন শেষে পূজার প্রসঙ্গ তুলতেই এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চাইলেন, ?পূজা কোথায় হচ্ছে? আমি দেখতে যেতে চাই...।? ঢাকার কোথায় কোথায় বড় পূজামণ্ডপ হয়েছে জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেই বাদ দিলেন ইচ্ছাটা, ?অনেক ক্লান্ত। মনে হয় না যাওয়া হবে।? চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলে ভারত থেকে পরশু বিকেলেই পৌঁছেছেন ঢাকায়। ক্লান্তি থাকতেই পারে। তা ছাড়া কাল ছিল দশমী, দেবী বিসর্জনের দিন। দুপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অনুশীলন শেষ হতে হতে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তুতিও যে শুরু হয়ে গেছে!
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জজুড়েই হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা কম নয়। সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে। দুই দ্বীপের এই দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকই নাকি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু! বাংলাদেশের পূজা দেখার সৌভাগ্য না হলেও ত্রিনিদাদে পুজোৎসবটা তাই রামদিনদের জীবনের সঙ্গে গাঁথা। বাংলাদেশের দুর্গোৎসবের মতোই মহা ধুমধামে কালীপূজা হয় সেখানে, হয় হনুমান পূজাও। দীপাবলির উৎসবের দিন থাকে সরকারি ছুটি।
রামদিনের কথা শুনে মনে হলো, উপমহাদেশের পূজার সঙ্গে খুব একটা অমিল নেই সেখানকার পূজার। মিরপুরের একাডেমি মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে যেতে যেতে বললেন, ?উৎসবে আমাদের ওখানেও মূর্তি পূজা হয়। আমরা হিন্দি গানের তালে নাচি, নিজেরাও গাই। বেশির ভাগ সময় হিন্দি সিনেমার গান বাজানো হয়।? সে রকম একটা গান দুই লাইন গেয়েও শোনাতে চেষ্টা করলেন রামদিন, ?মা তেরি...মা তেরি...।? গানটা কোন সিনেমার, সেটা অবশ্য মনে করতে পারলেন না।
ত্রিনিদাদেরই আরেক ক্রিকেটার রবি রামপল। পূজা দেখতে না পারার আক্ষেপের কথা সরাসরি শোনা হয়নি এই পেসারের মুখ থেকে। তবে রামদিন ত্রিনিদাদের পূজা-সংস্কৃতির যে বর্ণনা দিলেন, তাতে বাংলার শারদীয় দুর্গোৎসব সে দেশ থেকে আসা যেকোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্যই হতে পারে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
দুর্ভাগ্য বিশু-রামদিনদের। পূজার মধ্যে এসেও মিলল না পূজার ছুটি!

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে