Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০ , ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৯-২০১২

পাক-ভারত মহারণে ভারতের জয়

সেকান্দার আলী


পাক-ভারত মহারণে ভারতের জয়
ঢাকা, ১৯ মার্চ- ভারতের অনেক খ্যাতিমান ক্রিকেটারও পাকিস্তানের বিপক্ষে অত রান করতে পারেনি। বিরাট কোহলির ১৮৩ পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন ভারতীয় ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সেরা।

কাঁধে জোয়াল পরিয়ে দেওয়ার পর সংসারের বেশ অভিভাবক হয়ে উঠেছেন কোহলি। সহ-অধিনায়কত্বের অভিষেক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেললেন ১০৮ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের কাছে হারের ম্যাচেও অর্ধশতক (৬৬ রান) হাঁকিয়েছেন। রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে বাঁচামরার লড়াইয়ে তার ব্যাটেই জিতে ভারত।

ভারত পাকিস্তান মহারণ দেখার যে আনন্দ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তা উপভোগ করলেন দর্শকরা। পাকিস্তান ৩২৯ রানের সুন্দর দর্শনের পর তা টপকে যেতেও দেখলেন। খেলাটা বোলারদের দখলে না থাকায় এত উপভোগ্য করে তোলেন ব্যাটসম্যানরাই। দিনশেষে ক্রিকেট তো রানেরই খেলা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রানের দৌড়ে পাল্লা দিয়ে খেলাটাকে জমিয়ে তোলে।

গৌতম গম্ভীর ক্রিজে দাঁড়িয়ে কোন মতে একটা বল খেললে দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ হাফিজের কাছে এলবিডব্লু হয়ে গেলেন। তখনও ভারত রানের খাতা খোলেনি। তারাই পরের জুটিতে ১৩৩ রান তোলে। বল তো পাকিস্তানের বোলাররাই করেছেন! তাহলে ক্রিকেট বোদ্ধারা গত কয়েক দিন ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে যে বিশ্লেষণাত্মক মতামত দিয়েছেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়। তারা দুই দলের তুলনা দিতে গিয়ে বারবারই বলেছেন, ভারত খেলবে ব্যাটিংয়ে আর পাকিস্তান বোলিংয়ে। উইকেট বোলারদের জন্য কিছু না থাকায় খেলাটা ব্যাটসম্যানদেরই হয়ে যায়।

আইজাজ চিমা, উমর গুল, ওহাব রিয়াজকে নিয়ে পাকিস্তানের পেস বিভাগ সমৃদ্ধ। মোহাম্মদ হাফিজ, শহীদ আফ্রিদি আর সাঈদ আজমলকে নিয়ে স্পিনেও বিশ্বের কোন ক্রিকেট শক্তির চেয়ে পিছিয়ে নেই। তাদের বল খেলেই জয় পেয়েছে ভারত। কোহলি এবং শচীন টেন্ডুলকারের মধ্যে যে জুটি হয়, তাতে ৪৮ বলে ৫২ রান শচীনের। আজমলের একটি বল তুলে মারতে গিয়েই তো বিপত্তিটা ঘটে। ইউনুস খানের হাতে ধরা পড়েন। তা না হলে ক্রিকেটবিশ্ব শচীনের ১০১তম শতক উদযাপন করতে পারতো রোববার রাতেই।

রহিত শর্মকে নিয়ে কোহলি স্কোরবোর্ডে আরও ১৮০ রান যোগ করেন তৃতীয় উইকেটে। এবারও সহ-অধিনায়ককে রেখে সহযাত্রী ফিরে গেলেন ৬৮ রান তুলে। কোহলি যখন ফিরলেন তখন জয় থেকে ১২ রান দূরে ভারত। ৪৭.৫ ওভারে লক্ষ্য পেয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

লেখা দিয়ে কোহলির ইনিংসের বর্ণনা শেষ হবে না। ইনিংসটা উপভোগ করতে হবে চোখ দিয়ে। যাদের ভারত পাকিস্তানের মহারণ দেখা হয়নি, তারা হাইলাইটসটা দেখে নিতে পারেন। কোথা দিয়ে তিনি বল সীমানর বাইরে পাঠাননি! যে ২৪ বার বল সীমানা ছাড়া করেছেন, তাতে ২২টি চার ছিলো। দর্শনীয় ইনিংস!
 
পরাজিত দলের ব্যক্তিগত অর্জনগুলো আড়াল করে দেয় বিজয়ী দলের পারফরমেন্স। পাকিস্তানের ৩২৯ রানের ইনিংসে হাফিজ এবং নাসির জামশেদের অপূর্ব দুটি শতক আছে। ভারতীয় বোলারদের নাকানিচুবানি দিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ২২৪ রান তোলেন তারা দু’জন। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের যে কোন জুটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৯৮ সালে ঢাকাতেই উইলস লিটলস কাপে তাদের দুই পূর্বসুরি সাঈদ আনোয়ার এবং ইজাজ আহমেদ ২৩০ রান তুলেছিলেন। তবে ওপেনিং জুটিতে হাফিজ-জামশেদের জুটিই সেরা। ইউনুস খানও স্বভাব বিরুদ্ধ ইনিংস খেলেছেন। দেখেশুনে যার খেলার অভ্যাস, তিনিই কিনা ৩৪ বলে করলেন ৫২ রান। সব কিছুর ফল পাকিস্তানের ছয় উইকেটে ৩২৯ রান।

টুকটাক পরিসংখ্যান তুলে দিলে জমবে। দুই দলের সর্বশেষ তিনবারের মুখোমুখিতে ভারতই জিতেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও আছে তাতে।

এশিয়া কাপের সমীকরণটা এখন অন্যরকম হয়ে গেলো। ভারত জিতে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কার কোন আশা থাকলো না। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকতা। তবে ওই ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের কাছে অলিখিত ফাইনাল। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলেই হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বোনাস পয়েন্ট পাওয়ায় পাকিস্তানের ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে আছে। নয় পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ৯২- এ’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুই জয়ে ভারতের চার পয়েন্ট। বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে বোনাস পয়েন্ট ছাড়া জিতলেও ফাইনালের টিকিট পাবে লিগ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে দেওয়ায়।

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে