Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৮-২০১২

নগর সরকার হচ্ছে রংপুর ও গাজীপুরে

নগর সরকার হচ্ছে রংপুর ও গাজীপুরে
দেশে প্রথমবারের মতো রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নগর সরকার ব্যবস্থা (সিটি গভর্নমেন্ট) চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ ব্যবস্থায় একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এটি হবে পরীক্ষামূলক। এর ফল ইতিবাচক হলে বা জনসেবা নিশ্চিত হলে তবেই পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরশনে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে নগর সরকারের ক্ষমতা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে অর্থের সংস্থান হলে রংপুর ও গাজীপুরে নগর সরকার ব্যবস্থার আদলে সেবা দেয়া শুরু করা হবে। আর এটি সফল হলে অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতে তা চালু হবে। সূত্র জানায়, ঢাকায় নাগরিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নানারকম অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। বড় শহরে সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ভালো সেবা দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেই চিন্তা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি এর সীমা-বদ্ধতা আমলে নিয়েও কাজ চলছে। সরকার ইনক্লুসিভ সিটি ডেভেলপমেন্ট করতে মহা-নগরের সবকিছুই একটি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালনা করতে চায়। এ জন্য রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষমতা ও সক্ষমতা দুটোই বাড়ানো হবে। পানি সরবরাহ কিংবা উন্নয়নের মতো কাজগুলো করবেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তবে রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হাতে পুলিশি ব্যবস্থা দেয়ার বিষয়টি এখনো ভাবনার মধ্যে নেই সরকারের। তবে পৌর পুলিশ গঠনের চিন্তা করছে সরকার। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। পৌর পুলিশের একটি কাঠামো খুব শিগগিরই দেখা যাবে। জানা গেছে, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রথমে আইন অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সঠিক পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন যে, সিটি করপোরেশনগুলোর মাধ্যমে নগরবাসীকে সেবা দিতে হলে স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপরে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটি কেবল দাবিই ছিল না- বরং তিনি মনে করেন এটি আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকারও। সরকার যদি সত্যিই এই পদক্ষেপটি নেয়, তাহলে তিনি মনে করেন স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে একটি অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার কোনো বিকল্প নেই। সিটি গভর্নমেন্ট ধারণা : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এমন একটা সৃজনশীল ধারণার ওপর জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন তৎকালীন ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। দুই মেয়র মিলে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এমনকি ২০০৫ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রাক্কালে মেয়র পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী আবারো তার স্বপ্নের নগর সরকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। ঢাকার সদ্য বিদায়ী মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও একই দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু কোনো দাবিই বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত রংপুর ও গাজীপুরে সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম : নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা নিধন, সড়ক, ফুটপাত, ড্রেন সংস্কার ও উন্নয়ন, সড়ক বাতি, স্বাস্থ্যসেবা, কবরস্থান সংরক্ষণ, শ্মশান ঘাট সংরক্ষণ, বিপণি বিতান পরিচালনা, শরীরচর্চা কেন্দ্র, জাদুঘর, কমিউনিটি সেন্টার, আন্তঃবাস টার্মিনাল, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সিটি করপোরেশন। তারা দেশি-বিদেশি প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন সেবাও প্রদান করে থাকে। কিন্তু পানি, বিদ্যুৎ, ভবন নির্মাণ ও উন্নয়ন, যানজট নিরসন ইত্যাদি সেবাখাতের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। নগরীর সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও মূল সেবা কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিচ্ছিন্ন সিটি করপোরেশন। নগর উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভবন বা ইমারতের নকশা অনুমোদন, নতুন প্রকল্পের আওতায় শহর সমপ্রসারণ ইত্যাদি কাজ করে ঢাকার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অনুরূপভাবে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আবার এই সংস্থার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নগরীগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মেট্রোপলিটন পুলিশের। এই বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত। একইভাবে নগরের পরিবহন ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষমতা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুটি সংস্থা ডিটিসিবি ও বিআরটিএর হাতে। অন্যদিকে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের মতো স্পর্শকাতর নাগরিক সেবার দায়িত্ব পালন করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাজে সমন্বয় নেই। জানা গেছে, রংপুর ও গাজীপুর নগর উন্নয়ন, পানি সরবরাহসহ স্থানীয় উন্নয়নে আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে না। এ সব দায়িত্ব নগর সরকার তথা সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বিশ্বের কয়েকটি বড় শহরের চিত্র : বিশ্বের বিভিন্ন শহরে নির্বাচিত নগর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্ট আছে। উপমহাদেশে দিলি্ল, কলকাতা ও করাচিতেও আছে। শহরকে একাধিক পৌরসভায় ভাগ করা হয় এবং তা নগর সরকারের অধীনে কাজ করে। নগর সরকার একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। লন্ডন, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, দিলি্ল, কলকাতা, টোকিও কিংবা অটোয়া মেগাসিটিতে নগর কর্তৃপক্ষ একটি। একক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণেই এসব শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নগর সরকারই করছে। যার ওপর কেন্দ্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নগর সরকার আর্থিকভাবেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। নগরীর যে কোনো বিষয়ে স্বাধীন ও স্বাতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা। কলকাতার নগর সরকার : কলকাতা পৌরসংস্থা বা কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন শহরের গণতান্ত্রিক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। একজন রাজনৈতিক প্রশাসকের নেতৃত্বে এই সংস্থা কলকাতার ৩৭ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি অঞ্চলে নাগরিক পরিসেবা দান ও উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে। এ রাজনৈতিক প্রশাসকই হলেন কলকাতার মেয়র। কলকাতা পৌরসংস্থা স্থাপিত হয় ১৯১২ সালে। এর কর্তাব্যক্তিরা জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। পৌরসংস্থার প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত সদস্যরা তাদের মধ্যে থেকে একজনকে মেয়র নির্বাচন করেন। যার নির্দেশে পৌর প্রশাসনের যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হয়। ডেপুটি মেয়রও নির্বাচিত হন কাউন্সিলরদের সম্মতিতে। এই কাউন্সিল করপোরেশনের কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকে। মেয়র পরিষদ সদস্যদের বেতন ও ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই কাউন্সিলের কাজ অনেকটা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতোই। কলকাতা পৌরসংস্থা মূলত বাধ্যতামূলক ও স্বেচ্ছাধীন এই দুই ধরনের কাজ করে থাকে। করাচির নগর সরকার : করাচির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তিনস্তর বিশিষ্ট। সবার ওপরে সিটি ডিস্ট্রিক্ট গভর্নমেন্ট। এর নিচের স্তরে রয়েছে ১৮টি শহর। আর এসব শহরের আওতায় রয়েছে ১৭৮টি কাউন্সিল। প্রতিটি কাউন্সিল থেকে ১৩জন করে সদস্য নির্বাচিত হন। যাদের মধ্যে থাকেন একজন মেয়র ও ডেপুটি মেয়র। করাচির সর্বমোট নির্বাচিত ২৩১৪ জন কাউন্সিল নির্বাচন করেন করাচির সিটি মেয়রকে। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল, নগর কাউন্সিল ও ইউনিয়ন কাউন্সিলকে নির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। যাদের প্রধান কাজ হলো যথাযথ পৌরসেবা প্রদান করা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে