Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৮-২০১২

রোটারিয়ানদের সমাজ সেবার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী

রোটারিয়ানদের সমাজ সেবার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের প্রয়োজনে রোটারিয়ানদের সেবাদানের প্রশংসা করে বলেছেন, তাদের প্রতিটি মহৎ কাজ অন্যদের জন্য উৎসাহজনক এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারি প্রচেষ্টায় যথেষ্ট সহায়ক। শুক্রবার সকালে এখানে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট সম্মেলন-২০১২ এর উদ্বোধনকালে তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ এবং বিশ্ব শান্তির জন্য নিঃস্বার্থভাবে দান করতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সভাপতি এ আর ইউসুফ খান, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮০ এর গভর্নর আবুল হাসনাত মো জাকের, সাবেক সেনা প্রধান রোটারিয়ান লে. জে. (অব.) হারুন-অর রশিদ বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছি আপনারা আপনাদের আয় থেকে গরিবদের কল্যাণে আরো বেশি অর্থ ব্যয় করবেন।’
দেশের সকল পুরানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জমিদার ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের উৎসাহ ও অর্থে গড়ে ওঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন দাতব্য চিকিৎসালয়, পাঠাগার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও বিনোদনের ব্যবস্থা সবই হয়েছে দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ১০৭ বছর আগে ১৯০৫ সালে রোটারি ক্লাব গঠিত হয় এবং দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ মহান ব্রত আজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রোটারিয়ানরাও সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।’
তিনি সরকারের পোলিও নির্মূল কর্মসূচি ও চক্ষু শিবির সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে রোটারিয়ানদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সাধ্যমত ভাল কাজ করার ও সেবা প্রদানের চেষ্টা করা, যাতে জনগণ ও সমাজের মঙ্গল হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, জনকল্যাণ করা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাই যখনই আওয়ামী লীগ দেশ সেবার সুযোগ পেয়েছে তখনই সাধারণ মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে নানা সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করেন। রেশন দেয়া, খোলাবাজারে ভোগ্যপণ্য বিক্রি, ত্রাণ বিতরণ, দুর্যোগ কবলিতদের পুনর্বাসন সবই বঙ্গবন্ধু শুরু করেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার জনগণের ৫টি মৌলিক অধিকার পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এবার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার বিধবা, বয়স্ক, দুঃস্থ মহিলা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করছে। প্রতি বছরই এ ভাতাভোগীদের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। ভিজিএফ, ভিজিডি, টেস্ট রিলিফ ও কর্মসৃজন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে সরকার। তাছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সারা বছর চালু রাখা হয়েছে ওএমএস।
তিনি বলেন, জনগণের সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিচ্ছে, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার একটি বাড়ি একটি খামার’ আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে, ১১ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে জলবায়ু তহবিল, নদী খনন করা হচ্ছে, করা হচ্ছে বনায়ন, তাছাড়া ফসলের বন্যা, খরা ও লবণাক্তা সহিষ্ণু বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করা হচেছ।
তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচির ফলে তিন বছরে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ কমেছে। নিশ্চিত হয়েছে জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রচেষ্টায় রোটারিয়ানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে