Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.6/5 (63 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৮-২০১২

সমুদ্রজুড়ে বিপুল সম্পদ : গ্যাস ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ছাড়াতে পারে

জুলকার নাইন ও শামীম আহমেদ


স্বর্ণ, কোবাল্ট, নিকেল, ম্যাগনেসিয়াম ও তামা পাওয়ার সম্ভাবনা
সমুদ্রজুড়ে বিপুল সম্পদ : গ্যাস ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ছাড়াতে পারে
বর্তমানে গভীর সাগরে ও উপকূলে বাংলাদেশের মোট ২৮টি তেল-গ্যাসের ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রে মাত্র দুটিতে (১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে) খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ করছে বিদেশি কোম্পানি। বাকি ব্লকগুলোয় মিয়ানমার ও ভারতের আপত্তির কারণে কোনো অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের। মিয়ানমারের সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধানের পর ভারতের সঙ্গে মামলার রায়ও বাংলাদেশের পক্ষে গেলে ২৮টি ব্লকের দুটি হাতছাড়া হবে বাংলাদেশের, তবে যুক্ত হবে নতুন বিস্তীর্ণ এলাকা। এগুলোয় এখনো কোনো জরিপ হয়নি। তবে শুধু ভারত বাংলাদেশের যেসব ব্লক তাদের বলে দাবি করেছিল সেগুলোতেই কমপক্ষে ২০ ট্রিলিয়ন গ্যাসের আশা করা হচ্ছে। মোট গ্যাসপ্রাপ্তি ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে। এ জন্য নতুন করে ব্লক ম্যাপ করতে হবে বাংলাদেশকে। আর এসব বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, তেল-গ্যাস আহরণে দেশের পূর্বদিকের সমস্যার সমাধান হলো। দেশের সীমানা ঠিক হলো। আশা করি পশ্চিমদিকের সীমানাও একইভাবে সমাধান হবে। তখন আর সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে কোনো বাধা থাকবে না। ব্লকসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে কাজ করা পেট্রোবাংলার পরিচালক মোহাম্মদ ইমাদউদ্দিন বলেন, গভীর সমুদ্রে চারটি ব্লকের মধ্যে একটির আংশিক ছাড়া বাকি তিনটি একেবারেই মুক্ত। এগুলো ডিএস (ডিপ সি) ০৮-১২, ডিএস-০৮-১৩, ডিএস-০৮-১৭ এবং ডিএস-০৮-১৮ ব্লকের আংশিক অংশ। এখন বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণাংশে অনুসন্ধানে কোনো বাধা থাকছে না। এ ছাড়া বর্তমানে যে মেরিটাইম বাউন্ডারি রয়েছে তাতেও পরিবর্তন করতে হবে না। জানা যায়, আন্তর্জাতিক কমিশন রায়ের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মহীসোপান ছাড়া অমীমাংসিত এলাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর দাবি ছিল মিয়ানমারের। মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমানার মধ্যকার ১৪টি ব্লক নিজেদের বলে দাবি করে। ব্লকগুলো হলো ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ভারত ৩১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এগুলো হলো ৫, ৯, ১৪, ১৫, ১৯, ২০, ২৪ ও ২৫ নম্বর। এর বাইরে ১৯, ২০, ২৪ ও ২৫ নম্বর ব্লক তিনটি দেশই নিজেদের বলে দাবি করেছে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, ভারত ও মিয়ানমার তাদের সাগর উপকূলে ও গভীর সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশও বঙ্গোপসাগরের সাঙ্গুতে গ্যাস পেয়েছে বহু আগে। সাঙ্গুর গ্যাস এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তবে সেখানে নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কুতুবদিয়ার গ্যাস এখনো তোলা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসও পেতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অনেকদিন ধরেই ভারত খুব তৎপর। বছরে তাদের অনুসন্ধান কূপ খননের টার্গেট কমপক্ষে ১০০টি। ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে 'সাগর সমৃদ্ধি' নামের এক মহাপরিকল্পনার আওতায় বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় অংশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা ওএনজিসি। তাদের আবিষ্কৃত চারটি গ্যাসক্ষেত্র কৃষ্ণ গোদাবরি বেসিনে। সেখানে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ১৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যা বাংলাদেশের এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট মজুদের সমান। ভারতের মতো মিয়ানমারও গ্যাস অনুসন্ধানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মিয়ানমারের সীমানায় থাকা ব্লক দুটিতে রয়েছে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য মজুদ। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশও সাগর এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণ তেল-গ্যাস পেতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে। এদিকে, সমুদ্রসীমা নিয়ে একমাত্র বিশেষজ্ঞ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশিদ আলম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে মামলায় জিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার তীর থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইলের পরও মহীসোপানের আরও ২৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত পেয়েছে। এতে বিপুল মৎস্যসম্পদ, তেল-গ্যাস ছাড়াও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে কোবাল্ট সালফাইড, নুডলস, যা থেকে কোবাল্ট, নিকেল, ম্যাগনেসিয়াম, তামার মতো দামি খনিজ পদার্থ আহরণ করা সম্ভব। বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশে নুডলস থেকে কিছু পরিমাণ সোনাও পাওয়া যাচ্ছে। এখন ভারতের সঙ্গে মামলা শেষ হওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমদিকের সীমা ঠিক হয়ে গেলে বাংলাদেশ সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, আমরা বিডিং রাউন্ড-২০১২ এর মধ্যে গভীর সমুদ্রের ব্লক নিয়ে চিন্তা করছি। আশা করছি গভীর সমুদ্রের জন্যও বিডিং ডাকা যাবে। সূত্র জানায়, সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা নির্দেশক রেখার বিষয়ে সমন্বিত নির্দেশনা পেলে কতটা ব্লক মিয়ানমারের দাবিমুক্ত হবে সেটা জানা যাবে। সে নির্দেশনা অনুসারে একটি সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন ব্লক বিভাজন করা হবে। এ জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছে পেট্রোবাংলা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে