Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৭-২০১২

ঘড়ি নিয়ে দু'চার কথা

দীপক রায়


ঘড়ি নিয়ে দু'চার কথা
ঘড়ি এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত অপরিহার্য। ঘড়ি ছাড়া কোন মানুষ নিজেকে ভাবতেই পারতেন না। সুন্দর একটা হাতঘড়ি বেশ যেন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। আবার বাসগৃহে একটা টেবিল বা দেওয়াল ঘড়ি বাড়ির কৌলিন্য প্রকাশ করতো। কিন্তু বিগত এক দশকে, মোবাইল ফোন এসে যাবার পরে, ঘড়ির সেই আভিজাত্য-কৌলিন্য একটু কমেছে সন্দেহ নেই। তবুও ঘড়ি ছিল, আছে, থাকবেই।
ভাবলে অবাক লাগে, এই ঘড়ি সাত-আটশো বছর আগে পৃথিবীতে ছিলোই না। প্রাচীনকাল থেকে সময় মাপার জন্য নানা দেশে নানা পদ্ধতি ছিল। দন্ড ঘড়ি, সূর্য ঘড়ি ইত্যাদি প্রাচীনকালে ব্যাবিলন, মিশর, চীন, ভারতে চালু ছিল রাজরাজাদের প্রয়োজনে। সাধারন মানুষের কাছে তখনো ঘড়ি কোনভাবেই পৌঁছাতে পারেনি। অবিভক্ত বাংলায় রাজা-মহারাজারা নরযন্ত্র বা নরঘড়ি চালু করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নিচে ছিদ্রযুক্ত ৫ টি তামার বাটি, ১ টি জলপাত্র ও একটি পিতলের ঘন্টা দিয়ে এই ঘড়ি তৈরী হয়েছিল। ইংরেজরা এদেশে আসার পরেও এদেশে এই ঘড়ি বহাল তবিয়তেই চালু ছিল। সারা পৃথিবীর ঘড়ি আবিস্কারের ইতিহাস থাক, আসুন জেনে দেখি আমাদের দেশের, অবিভক্ত বঙ্গদেশের ঘড়ির ইতিহাস।
যতদূর জানা যায়, ১৭১৫ সালে এদেশে প্রথম কলকাতায় আধুনিক যান্ত্রিক ঘড়ির আমদানি করেন ইংরেজরা। নজরানা হিসাবে তারা সেইসময় একটি ঘড়ি দিয়েছিলেন দিল্লীর বাদশাহকে। ১৭৫২ সালে সিরাজ উদ দৌলাও উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন একটি ঘড়ি। এদেশে প্রথম ঘড়ি কেনেন মীরজাফর, সেটা ১৭৫৮ সাল। ১৭৬০ সালের থেকে দেশীয় বিত্তবানেরা ঘড়ি কেনা শুরু করেন। ঘড়ির চাহিদার কথা মাথায় রেখে ১৭৬৫ সালে কলকাতার রাধাবাজারে প্রথম ঘড়ির দোকান স্থাপিত হয়েছিল। এইসব ঘড়ির খরিদ্দার ছিল ঢাকা, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ এর মতো এলাকার রাজা, জমিদার, বিত্তবানেরা। তবে এই সমস্ত ঘড়িই ছিল বিদেশ থেকে আমদানি করা।
ডেভিড হেয়ার ১৮০০ সালে কলকাতায় প্রথম সাধারনের ব্যাবহারের উপযোগী, স্বল্পমূল্যে ঘড়ি তৈরী শুরু করেন। নিজের বাড়ীতে কারখানা বসিয়ে ডেভিড হেয়ার এদেশে ঘড়িকে সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন। ১৮২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই কাজ করেছিলেন। তারপর তিনি ঘড়ি ব্যাবসাকে বন্ধু এডওয়ার্ডকে ১ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে বাংলার শিক্ষা সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। এরপর এডওয়ার্ড গ্রে'র হাত ধরে ঘড়ি ব্যবসা আরো প্রসারিত হয়।
কিন্তু তারপরে অবিভক্ত বঙ্গদেশে ঘড়ি ব্যাবসার সাথে যুক্ত হয়ে যায় রামজীবন দত্তের নাম। দেশীয় বাঙ্গালী হিসাবে তিনিই প্রথম এদেশে ঘড়ি ব্যাবসার সাথে যুক্ত হন। সুদূর ঢাকা থেকে কলকাতা, সব জায়গায় তারা কয়েকপুরুষ ধরে ঘড়ি ব্যাবসার কাজ চালিয়ে যান। বিশিষ্ট ঘড়ি ব্যাবসায়ী হিসাবে এনারা ইংরেজদের আস্থাও অর্জন করেছিলেন। এই দত্ত বংশের ঘড়ির সেই ব্যাবসা আজো রয়েছে কলকাতার কলেজ ষ্ট্রীটে।
গত শতাব্দীর সাতের দশকে সারা পৃথিবীতেই ঘড়ি শিল্পে বিপ্লব ঘটে যায়। চাবি দেওয়া ঘড়ির বদলে ব্যাটারী চালিত ঘড়ির প্রচলন হয়। আশির দশকে এসে যায় ডিজিটাল ঘড়ি। অত্যন্ত কম দামে সারা পৃথিবীতে ধনী-দরিদ্র সবার কাছে ঘড়ি পৌছে যায়। আর একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই মোবাইলে সময় দেখা শুরু হলে ঘড়ির সেই চাহিদা দারুনভাবে কমে যায়। এখন সময় দেখার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল মোবাইলের উপর। চাবি দেওয়া টেবিল ঘড়ি, দেওয়াল ঘড়ি, হাত ঘড়ি এখন ক্রমশঃ যাদুঘরের সম্পত্তি হতে চলছে। আধুনিক মানুষেরা কেউ কেউ ফ্যাশন হিসাবে দামী ঘড়ি ব্যাবহার করছেন ঠিকই, কিন্তু সেটা আর কতদিন চলবে বলা মুশকিল।
-কালীরহাট, কৃষ্ণনগর, নদীয়া, পঃবঃ, ভারত

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে