Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (74 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-০৪-২০১৫

অবহেলায় গিরিশচন্দ্র সেনের বাড়ি ও সমাধি

অবহেলায় গিরিশচন্দ্র সেনের বাড়ি ও সমাধি

নরসিংদী, ০৪ মার্চ- সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় পবিত্র কোরআন শরীফ অনুবাদ করে চমক সৃষ্টি করেন গিরিশচন্দ্র সেন। নরসিংদীর এই কৃতি সন্তানের জন্ম সদর উপজেলার পাঁচদোনার মেহেরপাড়ায়। এখানেই তার পৈত্রিক বাড়ি ও সমাধিস্থল। গিরিশচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক বাড়িটি এখন নিশ্চিহ্নের পথে। একমাত্র ঘর ছাড়া বাড়ির আশেপাশের সব জায়গা বিক্রি করে দিয়েছেন তার উত্তরসূরীরা। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে তার শেষকৃত্যর স্থানটিও। স্থানীয় লোকজন ভুলতেই বসেছেন এ মহান ব্যক্তিটিকে।

পাঁচদোনার মেহেরপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গিরিশচন্দ্র সেনের বাড়িটিতে ঘর বলতে আছে কেবল চার দেয়াল। তাও কোন রকমে দাঁড়িয়ে আছে, ছাদটি ধসে গেছে। ভেতরে জমেছে ময়লা আবর্জনার স্তুুপ। দেয়াল ঘিরে ক্রমেই বেড়ে উঠছে লতাপাতা। ঘরের সামনে একটি রিক্সার গ্যারেজ। পাশেই সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ও পাঁচদোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

গিরিশচন্দ্র সেন পাঁচদোনা দেওয়ান দর্পনারায়ণের বংশে ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাধবরাম সেন। পিতামহ ইন্দ্রনারায়ণ সেনের ভাই দর্পনারায়ণ নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর দরবারের প্রভাবশালী অমাত্য ছিলেন। নবাব তাকে রায় উপাধি প্রদান করেন। হিন্দু পরিবার হলেও তাদের সুনাম-সুখ্যাতি বা প্রভাব প্রতিপত্তির কেন্দ্র বিন্দু ছিল আরবি-ফার্সি ভাষা সংশ্লিষ্ট পান্ডিত্য ও জ্ঞানে।

শৈশবেই গিরিশচন্দ্রের পিতৃবিয়োগ ঘটে। পিতার মৃত্যুর পর ১৮৪৬ সালে বড় দাদা ইশ্চরচন্দ্র তাকে ঢাকা ঐতিহাসিক পোগোজ স্কুলে ভর্তি করে দেন। স্কুলে প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাত দেখে গিরিশচন্দ্রের মন বিষিয়ে ওঠে। পরে তাকে আর স্কুলমুখো করানো যায়নি। এ সময়ে তিনি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সান্নিধ্য আসেন এবং বিখ্যাত ফার্সি পুস্তকগুলো পাঠ শেষ করেন।

১৮৫২ সালে বছর বয়সে গিরিশচন্দ্র সেন ছোট দাদা হরচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে চলে যান। প্রকৃতপক্ষে এখানেই তিনি জীবন গড়ার সন্ধান লাভ করেন। বিখ্যাত ফার্সি পুুস্তকগুলো সঙ্গে ব্যপক পরিচয় ঘটে। ১৮৫৩ সালে সংস্কৃতি পাঠশালায় ভর্তি হয়ে সংস্কৃতি ভাষায় ঋদ্ধ হন।

১৮৫৭ সালে ২২ বছর বয়সে যুবক গিরিশচন্দ্র সেন ৯ বছর বয়সের ব্রহ্মময়ী দেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ময়মনসিংহের জেলা স্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। এ সময় তিনি প্রগস পত্রিকায় সংবাদ ও প্রবন্ধ লিখতেন। ১৮৭১ সালে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে  ব্রাহ্মণধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গিরিশচন্দ্র সেন ‘বন্ধু’ ও ‘মহিলা’ নামের দু’টি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। মহিলা পত্রিকায় নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া নিয়মিত লিখতেন।

৪২ বছর বয়সে তিনি মৌলভী এহসান আলীর কাছে আরবি ব্যাকরণ শেখেন। এক বছর পর ঢাকা চলে আসেন। ১৮৭৮ সালে বন্ধু জালাল উদ্দিনের মাধ্যমে কোরআন শরীফ কিনে অধ্যয়ন আরম্ভ করেন। ৩ বছর কঠোর সাধনার পর ১৮৮১ সালে প্রথম পারা শেরপুর চারুচন্দ্র প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। পরে কলকাতায় মাসিক কিস্তিতে মুদ্রিত হতে থাকে। পরবর্তী ২ বছর পর পুরো কোরআন মুদ্রিত হয়। তার পাশাপাশি অন্যান্য গ্রন্থও প্রকাশ হতে থাকে।
গিরিশচন্দ্রের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৩টি। তার মধ্যে বাংলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদসহ ইসলাম ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ২২টি। রাত দিন পরিশ্রমের ফলে গিরিশচন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯০৯ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ১৯১০ সালের ১৫ আগষ্ট ঢাকায় তিনি মারা যান। তার ইচ্ছানুযায়ী গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র ফাহিম সিদ্দিক বলেন, আমরা পাঠ্যপুস্তকে গিরিশচন্দ্র সেনকে কোরআনের বাংলা অনুবাদক হিসেবে জেনেছি। কিন্তু এ মহান ব্যক্তির বাড়ি নরসিংদীতে হওয়া সত্ত্বেও তার জীবন ও কৃতকর্ম সম্পর্কে তেমন জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গিরিশ চন্দ্রের বাড়িটির অধিকাংশ জায়গাই বেদখলে রয়েছে। ২০০৮ সালে গিরিশ চন্দ্রের বাড়িতে ভারতীয় হাই কমিশনার এসেছিলেন। তখন ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ফান্ড দিয়ে পুরানো বাড়িটির আগাছা পরিস্কার করে দিয়েছিল। সরকার যদি এখনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে গিরীশ চন্দ্রের পৈতৃক বাড়িটি রক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষ জানতে পারবে এ মহান ব্যক্তি সম্পর্কে। গিরিশচন্দ্র সেনের স্মৃতি রক্ষায় সরকারীভাবে নরসিংদীতে একটি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম এ মহান ব্যক্তির ইতিহাস জানতে পারবে।

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে