Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৫-২০১২

মার্চেই মেট্রোরেলের বিষয়ে জাপানের সঙ্গে ঋণচুক্তি

মার্চেই মেট্রোরেলের বিষয়ে জাপানের সঙ্গে ঋণচুক্তি
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি মার্চ মাসেই মেট্রোরেল নির্মাণের বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি মার্চ মাসেই মেট্রোরেল নির্মাণের বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর চূড়ান্ত রুট এলাইনমেন্ট, ডিপো লোকেশন ও স্টেশন এলাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

মেট্রোরেলের রুট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, মেট্রোরেলের চূড়ান্ত রুট হবে- উত্তরা ৩য় ফেজ-পল্লবী-রোকেয়া সরণীর পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁও-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত।

সারাদেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১১ সালের মধ্যে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। আর গত বছরের ২৯ আগস্ট পাঁচ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সরকার এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘পিক আওয়ার ছাড়া দিনের অধিকাংশ সময়ের বিদ্যুৎ চাহিদা (বেজ লোড) মেটানোর লক্ষ্যে জয়েন্ট ভেঞ্চার ও আইপিপি-এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভর ও দেশে উৎপাদিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দুই হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪৪টি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সাত হাজার ৬৬৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। চলতি বছর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জিডিপিতে প্রবাসী কর্মীদের অবদান
আশরাফুন নেছা মোশারফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আয়তনের তুলনায় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে বর্তমান সরকার জনসম্পদ মনে করে। বিশাল জনসম্পদকে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান অন্যতম। বর্তমানে ১৪৩টি দেশে প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। আর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় চার কোটি লোক অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি উপকার পাচ্ছে। গত বছর তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যার অবদান জিডিপিতে শতকরা ১৩ ভাগ। অব্যাহত রেমিট্যান্স প্রবাহের অবদানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে দেশের আমদানি সংক্রান্ত ব্যয় সন্তোষজনকভাবে মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

সংসদ নেতা অরো জানান, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে নতুন শ্রম বাজার হিসাবে এরইমধ্যে পোল্যান্ড, সুইডেন, পাপুয়ানিউগিনি, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুর্কমেনিস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ফলে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখের বেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, ‘সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া তাদের দেশে বসবাসরত প্রায় তিন লাখ অবৈধ ও অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করার লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। গত বছরের ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে এ পর্যন্ত দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮০৩ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। বৈধকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শিগগিরই মালয়েশিয়াতে নিয়মিতভাবে জনশক্তি রফতানি শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তিন বছর দুই মাসে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪০৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান লাভ করেছে। চারদলীয় জোট সরকারের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন।’

জুট মিলে কর্মসংস্থান হচ্ছে
মো. শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের ৫টি এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ-এর ৮টিসহ ১৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) পুনরায় চালুর জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেড (কেএনএমএল)-এর পুনঃচালুকরণের জন্য একটি হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত আর্থ-কারিগরি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া নর্থ-বেঙ্গল পেপার মিল (এনবিএম) বেসরকারিকরণে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দরদাতা কর্তৃক দায়ের করা রিট মামলাটি খারিজ সাপেক্ষে নর্থ-বেঙ্গল পেপার মিল (এনবিপিএম) পুনঃচালুকরণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের ৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গত সরকারের সময় বন্ধ করা হয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির পর সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর খুলনার খালিসপুর জুট মিল (পূর্বেকার পিপলস জুট মিল) চালু করায় তিন হাজার ৭০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সিরাজগঞ্জে জাতীয় জুট মিল (পূর্বেকার কওমী জুট মিল) চালু হওয়ায় তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া অতি শিগগিরই খুলনার দৌলতপুর জুট মিল চালু করা হবে এবং এর ফলে এক হাজার ৩শ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে