Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৫-২০১২

পাকিস্তান চলে যান, খালেদাকে হাসিনা

সুমন মাহবুব


পাকিস্তান চলে যান, খালেদাকে হাসিনা
ঢাকা, মার্চ ১৪- বিএনপি আইএসআইয়ের অর্থ নিয়ে চলে অভিযোগ করে খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকায় ১৪ দলের জনসভায় বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্যই বিরোধী দলের আন্দোলন।

ঢাকায় বিরোধী দলের সমাবেশের এক দিন পর ডাকা এই সমাবেশে আওয়ামী লীগ এবং সরকারের শরিক দলগুলোর লক্ষ্য ছিল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রকাশ ঘটানো। নেতাদের কণ্ঠে ছিল জনসমাগম নিয়ে সন্তোষের ভাব। শেখ হাসিনাও জনসভাকে ‘জনগণের মহাসাগর’ বলে অভিহিত করেছেন।

নয়া পল্টনে সোমবারের সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালে সরকারকে ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন।

১৪ দলের নেতারা জনসভায় বিরোধী দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও সভার প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা এই বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে বর্তমান সরকার আমলে সবগুলো নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে হয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন তিনি।

দলীয় প্রধান কিছু না বললেও সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিরোধী দলকে তাদের প্রস্তাব সুনির্দিষ্ট করে সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ডিম ভাজা মানেই মামলেট, মামলেট মানেই ডিমভাজা। তাই তত্ত্বাবধায়ক, না অন্তর্র্বতী সরকার- এ নিয়ে বির্তক করে লাভ নেই, প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আসুন।

“কেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান, তা বলুন। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংখ্যা কত জন হবে, মেয়াদ দুই বছর, না পাঁচ বছর হবে, তাও বলুন। ওই সরকারের প্রধান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, না স্পিকার হবে, সে কথাও বলতে হবে।”

নয়া পল্টনের সমাবেশে খালেদা জিয়া আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, তা তুলে ধরেন।

এর জবাবে ১৪ দলের সমাবেশে আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় শেখ হাসিনা চারদলীয় জোট সরকার আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকার আমলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

বিএনপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে এবং নিচ্ছে দাবি করে শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে বলেন, “পাকিস্তানের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন; ’৯১ এ খেয়েছেন, এখনো খাচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রতি এত দরদ থাকলে সেখানেই চলে যান। বাংলার মাটিকে কলুষিত করবেন না।”

“এখন থলের বেড়াল বেরিয়ে গেছে। আপনি পরাজিত শক্তির দালালি করেন। তাদের কাছে আপনি দেশকে বিক্রি করে দিতে চান, জঙ্গিবাদ-বাংলাভাই সৃষ্টি করতে চান,” বলেন তিনি।

শেখ হাসিনার আগে বক্তব্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও বলেন, “পাকিস্তানের কাছে টাকা খেয়ে রাজনীতি করবেন? সে জবাব দিতে হবে।”

সরকারি দলের নেতাদের এই অভিযোগের জবাবে সোমবারের জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “আমাদের জনগণ আছে, বিদেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না।”

আওয়ামী লীগ ভারতের অর্থে নির্বাচন করেছিল বলে পাল্টা অভিযোগ তোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিরোধী দলের আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য দাবি করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “এই মাটিতে রাজাকারদের ঠাঁই নেই, রাজাকার আর আলবদরদের বাঁচাতে পারবেন না।”

“হানাদার বাহিনীর দোসরদের বাঁচাতে, বোমাবাজি করতে মহাসমাবেশ করেছে বিরোধী দল,” বলেন তিনি।

গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যার যেভাবে খুশি, সরকারের সমালোচনা করতে পারে।”

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিকাল ৪টায় এই সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকে স্থাপিত মঞ্চে তিনি যখন ওঠেন, তখন বিকাল ৪টা, তবে সভায় বক্তৃতাপর্ব শুরু হয়ে যায় তার দুই ঘণ্টা আগে। তার আগে দুপুর ১২টা থেকে চলছিল দেশাত্মবোধক গান, যাতে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা।

শেখ হাসিনা মঞ্চে বসেন বুলেটপ্রুফ কাচের দেয়ালের পেছনে। তার পাশে মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ মঞ্চটি নির্মিত হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকে দক্ষিণমুখী করে। মঞ্চের পশ্চিমে ও দক্ষিণে ২০০ গজ এলাকা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করা হয়েছে।

বিকাল ৫টার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন পশ্চিমে জনসমাগম সচিবালয় ছাড়িয়ে যায়, দক্ষিণে পুরো নবাবপুর রোডজুড়েই অবস্থান ছিল কর্মী-সমর্থকের। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, হকি স্টেডিয়ামের চার পাশজুড়ে, গোলাপ শাহ মাজার এলাকা পর্যন্ত এলাকায় জনসমাগম ছড়িয়েছিল। কর্মী-সমর্থকদের অনেকে বাদ্য বাজিয়েও জনসভায় যোগ দেয়।

জনসমাগম নিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের আরো কয়েকজন বক্তা বলেন, জনসভা ডাকা হলেও তা মহাসমাবেশে রূপ নিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৪ দল এই জনসভা ডাকে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, নূহ-উল আলম লেনিন, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অসীম কুমার উকিল, মহিলা আওয়ামী লীগের আশরাফুন্নেসা মোশাররফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা মোহাম্মদ আবু কায়সার, যুব মহিলা লীগের নাজমা আক্তার এবং ছাত্রলীগের এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ জনসভায় বক্তব্য দেন।

জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন, ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়–য়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণআজাদী লীগের নেতা আব্দুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা শাহদাত হোসেন প্রমুখ।

‘দুই নম্বর পথে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ বন্ধ’

বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশে গণতন্ত্র থাকবে। ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা প্রমাণ করেছি। আগামীতেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

“ক্ষমতায় যাবেন দুই নম্বর পথে? বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে দুই নম্বর পথে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। পেছনের দিক দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কথা ভুলে যান।”

‘লুট করতে ক্ষমতায় এসেছিলেন’

জনগণের সেবার করার জন্য ক্ষমতায় যেতে চান বলে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনি দেশ চালাতে ক্ষমতায় আসেননি, অর্থ সম্পদ লুট করতে এসেছিলেন। একশ সুটকেস সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। আপনার ছেলেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে, এফবিআইয়ের সদস্যরা এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে, এখন কী বলবেন আপনি?”

এরপর মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরপর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ আমলের সব কাজ বন্ধ করে দেবে। আমরা যে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি, বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছি, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দিয়েছে, এগুলোও কি সব বন্ধ করে দেবেন?”

টিপাইমুখ প্রসঙ্গ

টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ভারতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, টিপাইমুখের জয়েন্ট ফিজিবিলিটি জরিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের থাকতে হবে। ইনশাল্লাহ থাকবে।”

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ভারতের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিরোধী দলে থাকলে বিপরীত অবস্থান নেয় বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

অন্য নেতাদের বক্তব্য

খালেদা জিয়াকে হুঁশিয়ার করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমু বলেন, “আজকের (বুধবার) জনসমুদ্র দেখেছেন। জনগণ এরপর আপনাকে হলুদ কার্ড দেখাবে। আর, লাল কার্ড দেখানোর প্রয়োজন হবে না।”

বিরোধীদলীয় নেতাকে আন্দোলনের পথ পরিহার করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর ষড়যন্ত্র করছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ বলেন, “এই সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনে কেউ কারচুপির অভিযোগ আনতে পারেনি। সব নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে, তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন কেন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না ?”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীকে রক্ষার জন্যই বিএনপি আন্দোলন করছে। জামায়াতকে ফের পুর্নবাসন করার জন্য বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আন্দোলন করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা যাবে না।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালে বিরোধী দলের আলটিমেটাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৯০ দিনে নয়, ৯০০ দিনেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের আশা পূরণ হবে না।”

জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, “খালেদা জিয়া আলটিমেটাম দিয়ে কোনো সমাধান দেননি, বরং হুমকি দিয়েছেন গণতন্ত্র ও সরকারের বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্র করার জন্য এ হুমকি দিয়েছেন।”

নির্বাচন নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কে না জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল নয়, বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আসুন, আলোচনা করতে রাজি আছি।”

জনসভার কারণে যানজট

জনসভা মঞ্চ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে হলেও সকাল ১১টায় পল্টন মোড় থেকে জিপিও, নূর হোসেন স্কোয়ার হয়ে কাপ্তানবাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এজন্য সভাস্থলের আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।

শাহবাগ থেকে পল্টন পর্যন্ত সড়কে যানজটের কারণে অনেক গাড়ি মৎস্য ভবন মোড় হয়ে কাকরাইল দিয়ে ঘুরে মতিঝিলের দিকে যাতায়াত করছে।

জনসভায় ব্যক্তিপ্রচার

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে এই জনসভা হলেও তাতে অনেক ব্যানারই ছিল ব্যক্তির নামে এবং ওই সব ব্যক্তিরা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলীয় সমর্থন চেয়েছেন।

পছন্দের নেতাদের নাম ধরে স্লোগান দিতেও দেখা যায় কর্মীদের। অনেকের সঙ্গে ছিল বিভিন্ন নেতার ছবি।

তবে ছয় দিনের ব্যবধানে দুটি বড় সমাবেশ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন অনেকে। মিরপুর থেকে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থক মজিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দলকে সমর্থন করলেও আমাদের তো অন্য কাজও থাকে।”

যুদ্ধাপারাধীদের বিচার দাবিতে গত ৭ মার্চও রাজধানীতে শোভাযাত্রা করেছিল আওয়ামী লীগ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে