Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.6/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৫-২০১২

ভারতের রেলবাজেট পেশের পর রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা

দীপক রায়


ভারতের রেলবাজেট পেশের পর রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা
ভারতে আজ রেলমন্ত্রীর বাজেট পেশকে কেন্দ্র করে এক অভুতপূব ঘটনা ঘটে গেল। আজ এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আজ ভারতের সংসদে রেল বাজেট পেশ করেন তৃনমূলের নেতা ও মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি প্রায় আট বছর পর নীতিশ কুমার, লালুপ্রসাদ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে সাহস নিয়ে ভাড়া বাড়ালেন। ভাড়া বাড়ানোর এই সাহস দেখানোর পরেই তৃনমূলের শীষনেত্রী মমতার তীব্র রোষ ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন খোদ রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী। ভাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ২ থেকে ৩০ পয়সা। যেটা খুবই সামান্য বলা যেতে পারে। তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এততা খাপ্পা হতে পারেন মমতা, সেটা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। বাজেট পেশের পরেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, 'এই ভাড়াবৃদ্ধির বিরোধিতা করা হবে। আমাকে না জানিয়েই রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। আমি এই ভাড়া বাড়ানো মানবো না, কথা দিচ্ছি।' আর তারপরেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে।
ভারতে এমন ঘটনা কেউ কোনকালেই শোনেননি, এটা বলাই যায়। যে দলের রেলমন্ত্রী বাজেট পেশ করলেন, সেই দলের পক্ষ থেকে সেই রেল বাজেটের বিরোধীতা করা হচ্ছে, এটা মনে হয় সারা পৃথিবীতেই একটা নজিরবিহীন ঘটনা। আর এটা একমাত্র তৃনমূল দলের পক্ষেই সম্ভব। খুব সাভাবিক কারনেই প্রশ্ন উঠেছে, মমতাকে কিছু না জানিয়ে, তার দলের মন্ত্রী দীনেশ বাবু রেল বাজেট পেশ করলেন, ভাড়া বাড়ালেন, এটা কি করে সম্ভব? কেউ কেউ বলছেন, এটা স্রেফ লোকদেখানো। কারন, গত কয়েক বছরে মমতা যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি একের পর এক ঘোষনা করে গিয়েছিলেন। তিনি ভাড়া বাড়াননি, কিন্তু খরচ বাড়িয়েছেন। কারন তার লক্ষ্য ছিল, যেনতেন প্রকারে নিজেকে জনমূখী প্রমান করা। আর তার ভিতর দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় আসা। কিন্তু এত ঘষনার ফলে, সেগুলির শিলান্যাস করতে গিয়ে রেলের ভাড়াড়ে টান পড়ে যেতে থাকে। সেই কারনে আজ খোদ মমতার দলের রেলমন্ত্রী দীনেশ বাবু বাজেট পেশ করার পরে বলেছেন, 'রেলকে গত কয়েক বছরে আইসিইউ তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি তার থেকে বাচাতে ভাড়া বাড়ালাম। আর রেলের নিরাপত্তার দিকে নজর দিলাম। আমার কাছে আগে দেশ, তারপর পরিবার, তারপরে পাটি। ভগত সিং দেশের জন্য প্রান দিয়েছেন, আমিও রেলের জন্য নিজের ক্ষতি সীকার করতে রাজী আছি। তবু রেলের ও দেশের ক্ষতি করতে পারবো না।' তার মানে দীনেশ বাবু সরাসরি মমতার আমলে তার কাজকম নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। যেই প্রশ্ন এতদিন ধরে তুলে আসছিলেন বিরোধীরা। তাহলে তো এই প্রশ্ন এসেই গেল, এতদিন ধরে মমতার যে জনমোহিনী বাজেটের প্রচার করা হয়েছিল, আসলে সেটা নেহাতই লোকদেখানো। আসলে সেটি রেলের ক্ষতিই করেছে বলাই যায়।
এই কংগ্রেস ও তৃনমূল জোটের ২য় ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে কোনও না কোনও রেল প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার আগে অবধি প্রায় ৬ মাসে পশ্চিমবঙ্গে অন্ততঃ দেড়শ রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। প্রকল্পগুলি জায়গাও করে নিয়েছিল তার রেল বাজেটেও। সব মিলিয়ে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মমতা। তাঁর দাবি ছিল, প্রতিটি প্রকল্পের কাজই শেষ হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। পরবর্তীকালে তিনি জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের পর থেকেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে প্রকল্পগুলিতে। কিন্তু বাস্তবে সেসব কিছুই যে হয়নি, রেলমন্ত্রকের পরিসংখ্যান থেকেই তা পরিস্কার। রেলের খতিয়ানই বলছে, মমতার আমলে রেলের সব দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে। মমতার আগে রেলের ভাড়াড়ে যা টাকা ছিল, মমতার আমলে সেই সঞ্চিত টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল শুধু শিলান্যাস আর অনুষ্ঠান করতেই। আগে রেলের খরচ ও আয় ছিল ৭৪ ও ১০০ আনুপাতে। মমতার আমলে সেই অনুপাত এসে দাঁড়ায় ৯৯ ও ১০০ অনুপাতে। এই অবাক করা হিসেব দিয়েছে রেলমন্ত্রকই।
আবার রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মমতার আমলে কেবল পঃবঃ রাজ্যে যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল, সেগুলি শেষ করতেই প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৫০,০০০ কোটি টাকা। প্রশ্ন একটাই, এই চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়ে রেলের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসবে কোথা থেকে? এবারের বাজেটেও সেইসব প্রকল্পগুলি থেকে গিয়েছে বিশ বাও জলে। তাই শুধু বামেরাই নয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষিত প্রকল্পগুলির ভবিষ্যত্‍ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে কংগ্রেস, বিজেপিও। কিন্তু এবারের রেল বাজেটে দীনেশ বাবু জোর দিয়েছেন রেলের নিরাপত্তায়। সারা দেশেই কিছু নতুন প্রকল্প ঘোষনা করেছেন। সব রাজ্যের ঝুলিতেই কিছু নতুন ট্রেন পড়েছে। এবারের বাজেটে কোন চমক দেখানোর পথে যাননি দীনেশ বাবু। আর তাতেই হয়তো ক্ষেপে গিয়েছেন মমতা। এখন দেখা যাক শেষ অবধি তিনি কি করেন।
কিন্তু রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে সঙ্ঘাত যে বাজেট পেশের পর থেকেই শুরু হয়েছে দলনেত্রী মমতার, তা দুপুর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। তাই পদত্যাগের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে রেলমন্ত্রীর। এদিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এই রেল বাজেটকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি মমতার বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঘনিষ্ট মহলে। বিভিন্ন চ্যানেলে তৃনমূলের নানা নেতা, সাংসদ, মন্ত্রীদের বক্তব্যে পরিস্কার, রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা ক্রমশঃ বাড়ছে। আর রেলমন্ত্রীও তার নিজের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তে অনড় বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে। এখন অপেক্ষা, কি ঘটে সেটা দেখার।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে