Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৪-২০১২

মুন্সীগঞ্জে লঞ্চডুবি, ৩২ লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে লঞ্চডুবি, ৩২ লাশ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গজারিয়া থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, বিকাল পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন ডুবুরিরা। শরীয়তপুরের ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার খান জানান, তিনি স্বজনদের কাছে ২৫টি লাশ হস্তান্তর করেছেন। এমভি শরীয়তপুর-১ নামের দ্বিতল লঞ্চটি শরীয়তপুরের সুরেশ্বরঘাট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনায় পড়ে। বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, একটি তেলবাহী কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে লঞ্চটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী দুলাল দেওয়ান সাংবাদিকদের জানান, লঞ্চের আড়াইশর মতো যাত্রীর অধিকাংশই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী এমভি মিতালী নামের আরেকটি লঞ্চের সহায়তায় ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মিতালী লঞ্চের আনসার কমান্ডার আবদুল হালিম জানান, শরীয়তপুর-১ ডুবে যেতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লঞ্চের সব বয়া নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে প্রায় ৩০ জনকে উদ্ধার করা গেছে। বিআইডবিস্নউটিএর কর্মী এবং কোস্টগার্ড সদস্যরা মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান নির্ণয় করতেই সকাল ১১টা বেজে যায়। সকাল থেকেই ১ লঞ্চের যাত্রীদের খোঁজে নদীতীরে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের স্বজনরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিস্নউটিএ) চেয়ারম্যান খন্দকার শামসুদ্দোহা জানান, মেঘনার মূল চ্যানেলের চরকিশোরী এলাকায় প্রায় ৭০ ফুট পানির নিচে রয়েছে লঞ্চটি। উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ইতোমধ্যে লঞ্চটি বেঁধেছে। অপর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসার পর টেনে তোলার কাজ শুরু হবে। তিনি আরো জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির ওজন অন্তত ২০০ টন। রুস্তম ও হামজার সম্মিলিত উদ্ধার ক্ষমতা ১২০ টনের মতো। ফলে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি উদ্ধারে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। এতে অনেক সময় লাগবে বলেও মনে হচ্ছে। এদিকে লঞ্চডুবির খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালেই নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে স্বজনরা ছুটে যান শরীয়তপুরের সুরেশ্বর লঞ্চঘাটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে আহাজারিও বাড়তে থাকে। নিখোঁজ যাত্রী এনামুল হক সুমনের বাবা আবদুল হক ব্যাপারী জানান, বুধবারের ফ্লাইটে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল সুমনের। তিন মাস আগে দেশে ফিরে বিয়ে করে সে। গত সোমবার রাতে স্ত্রী আর শাশুড়িকে নিয়ে লঞ্চে ঢাকায় যাচ্ছিল সে। বিকাল পর্যন্ত নদীতীরে অপেক্ষা করেও তাদের কারো খোঁজ পাননি আবদুল হক। লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডবিস্নউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর তিনটি কমিটি করেছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার দুপরে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নৌমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। তবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি মারা গিয়ে থাকলে ৪৫ হাজার টাকা করে পাবে। বিআইডবিস্নউটিএর সচিব মাহবুবুল আলম জানান, ১৯৯১ সালে তৈরি লঞ্চটিতে ২২৫ জন যাত্রী বহনের অনুমোদন রয়েছে। লঞ্চটির দৈর্ঘ্য ৩২ মিটার ও প্রস্থ ৮ মিটার। লঞ্চটির ভেতর ঘুরে আসা একজন ডুবুরি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি ভেতরে বেশ কিছু বস্তা দেখতে পেয়েছেন। সেগুলো না সরিয়ে লঞ্চ উদ্ধার করা কঠিন হবে বলেই তিনি মনে করেন। পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহাবুদ্দিন খান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কার্গোটি আটক করার চেষ্টা চলছে। যাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তারা হলেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রিপন, বদরুন্নেসা, শাবনূর ও শাহজামাল; সখিপুরের হযরত আলী ও মিনহাজ; চরচান্দার রছিতন ও আমিন; ডামুড্যার বাপ্পী; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার রুবেল, পারভেজ ও বিয়ানা আক্তার; ঢাকার পোস্তগোলার সিরাজ দেওয়ান, গোপীবাগ এলাকার ফয়সাল ও রিন্টু, নড়িয়া প-িতসারের আলী আহমেদ, সিফাত, ইসমাইল মাঝি, শাহরিয়ার বাদশা মাঝি; সুরেশ্বরের আলমগীর মীর, সাদেক, মিলন খান, আবদুল লতিফ ও রূপবান বিবি এবং ডিঙ্গামানিকের সালাউদ্দিন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে