Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (77 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৪-২০১৫

অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড

মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারী- পেসারদের দাপটে সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ১১১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

অ্যারন ফিঞ্চের শতকে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩৪৩ রানের বড় লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। আসরের প্রথম শতকের এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান ইংল্যান্ডের পেসার স্টিভেন ফিন।

বিশ্বকাপে তিনশ’ রানের বড় স্কোর গড়ে কখনো হারেনি অস্ট্রেলিয়া। কাজটা তাই ভীষণ কঠিনই ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। তিন মিচেল- মার্শ, জনসন ও স্ট্যার্কের দাপটে লক্ষ্যের ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা।  

শনিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩৪২ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪১ ওভার ৫ বলে ২৩১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কখনো জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ইয়ান বেলের ৩৬ রানের পরও ৭৩ রানে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা।

মইন আলিকে বিদায় করে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন স্ট্যার্ক। এরপর বেল, গ্যারি ব্যালান্স, জো রুট ও ওয়েন মর্গ্যানকে ফিরিয়ে দেন মার্শ। এর মধ্যে বেল ও রুটকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি।

মার্শের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন মর্গ্যান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ছন্দে না থাকা এই ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ড অধিনায়কের বাজে সময় আরেকটু প্রলম্বিত করেন মার্শ। তার বল মর্গ্যানের ব্যাটের কানায় লেগে ব্র্যাড হ্যাডিনের গ্লাভসে জমা পড়ে।

পাঁচ ইনিংসে এ নিয়ে চারবার শূন্য রানে ফিরলেন মর্গ্যান।

জস বাটলারকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট নেন মার্শ। শর্ট কাভারে দুর্দান্ত ক্যাচটি তালুবন্দি করা স্টিভেন স্মিথের অবদানও কম নয়।

সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওকসের সঙ্গে ৯২ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন জেমস টেইলর। ওকসকে স্মিথের ক্যাচে পরিণত করে ১৪.১ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন জনসন।

এরপর স্টুয়ার্ট ব্রড ও ফিন দ্রুত ফিরে গেলে দুইশ’ রানের নিচে অলআউটের শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে সোয়া দুইশ’ পার করেন টেইলর। শেষ পর্যন্ত ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ৯০ বলের ইনিংসটি সাজানো ১১টি চার ও ২টি ছক্কায়।     

৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার মার্শ। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন জনসন ও স্ট্যার্ক।

এর আগে জেমস অ্যান্ডারসনের করা প্রথম ওভারেই উইকেট হারাতে পারতো অস্ট্রেলিয়া। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই ফিরে যেতে পারতেন ফিঞ্চ। কিন্তু মিডউইকেটে ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি ওকস।

জীবন পেয়ে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে উড়ন্ত সূচনা দেন তিনি।

ওয়ার্নাকে বোল্ড করে ৭ ওভার ৩ বল স্থায়ী জুটি ভাঙেন ব্রড। পরের বলে শেন ওয়াটসনকে বাটলারের ক্যাচে পরিণত করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি।

ব্রডের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেয়া স্মিথ বেশিক্ষণ টিকেননি। ওকসের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।    

৭০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফেরানোর কৃতিত্ব ফিঞ্চের। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক জর্জ বেইলির সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক করা এই ব্যাটসম্যান।

কাভার থেকে মর্গ্যানের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিঞ্চের বিদায়ে ভাঙে ২৬ ওভার স্থায়ী জুটি। ১২৮ বলে খেলা ফিঞ্চের ১৩৫ রানের চমৎকার ইনিংসটি ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা সমৃদ্ধ। এটি তার ষষ্ঠ শতক।

চলতি আসরে প্রথম শতক পাওয়া ফিঞ্চের বিদায়ের পরপরই তাকে অনুসরণ করেন বেইলি। ৬৯ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।

ষষ্ঠ উইকেটে মার্শের সঙ্গে ৫৩ ও ব্র্যাড হ্যাডিনের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে সাড়ে তিনশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৬৬)। তার ৪০ বলের ইনিংসটি ১১টি চারে গড়া।

ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে মার্শ ও হ্যাডিনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ১২ ওভারে ১১৪ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি ব্রড কিন্তু পরপর তিন বলে উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব ঠিকই দেখিয়েছেন ফিন।   

অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শেষ তিন বলে হ্যাডিন, ম্যাক্সওয়েল ও জনসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন ফিন।

৫০তম ওভারের চতুর্থ বলে ডিপ থার্ড ম্যানে ব্রডের হাতে ধরা পড়েন ১৪ বলে ৩১ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলা হ্যাডিন। পরের বলে স্ট্রাইকে এসে লং অফে জো রুটের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন ম্যাক্সওয়েল।

শেষ বলে জনসন মিডঅফে অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ দিলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ফিনের। ৭১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার।

শতরানের চমৎকার ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ফিঞ্চ।     

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৪২/৯ (ওয়ার্নার ২২, ফিঞ্চ ১৩৫, ওয়াটসন ০, স্মিথ ৫, বেইলি ৫৫, ম্যাক্সওয়েল ৬৬, মার্শ ২৩, হ্যাডিন ৩১, জনসন ০, স্ট্যার্ক ০*; ফিন ৫/৭১, ব্রড ২/৬৬, ওকস ১/৬৫)

ইংল্যান্ড: ৪১.৫ ওভারে (মইন ১০, বেল ৩৬, ব্যালান্স ১০, রুট ৫, মর্গ্যান ০, টেইলর ৯৮, বাটলার ১২, ওকস ৩৭, ব্রড ০, ফিন ১, অ্যান্ডারসন ৭*; মার্শ ৫/৩৩, জনসন ২/৩৬, স্ট্যার্ক ২/৪৭)

ম্যাচ সেরা: অ্যারন ফিঞ্চ।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে