Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৪-২০১৫

লঙ্কাকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিউ জিল্যান্ডের

লঙ্কাকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিউ জিল্যান্ডের

হ্যাগলি ওভাল, ১৪ ফেব্রুয়ারি- শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে নিউ জিল্যান্ড। বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে গত দুইবারের রানার্সআপদের সহজেই হারিয়েছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।

কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কেন উইলিয়ামসনের অর্ধশতকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩২ রানের লক্ষ্য দেয় নিউ জিল্যান্ড। পরে বোলারদের দাপটে ৯৮ রানে ম্যাচটি জিতে নেয় তারা।

গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছেই হেরে বিদায় নিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। ১৯৯২ সালের আসরের পর থেকে এই দলটির কাছে অজেয় ছিল শ্রীলঙ্কা।

এবার জিততে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো মাহেলা জয়াবর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারাদের দলটির। মাত্র সাতবার তিনশ’ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ার কৃতিত্ব রয়েছে শ্রীলঙ্কার। ২০০৬ সালে লিডসে ২ উইকেটে ৩২৪ রান তাড়া তাদের সেরা।

শনিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৩১ রান করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ৪৬ ওভার ১ বলে ২৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।


তিলকারত্নে দিলশানের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন লাহিরু থিরিমান্নে। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে দিলশানকে (২৪) বিদায় করে ১৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ড্যানিয়েল ভেটরি।

দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারার সঙ্গে ৫৭ রানের আরেকটি জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন থিরিমান্নে। তাকে বোল্ড করে ৯ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট।

সর্বোচ্চ ৬৫ রান করা থিরিমান্নের ৬০ বলের ইনিংসটি সাজানো ৮টি চারে।

তার বিদায়ের পরই দিক হারায় শ্রীলঙ্কা। জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারার বিদায়ে বিপদে পড়ে দলটি।

ভেটরির বলে লুক রনকির গ্লাভসবন্দি হয়ে শূন্য রানে ফিরেন জয়াবর্ধনে। ৩৯ রান করে বোল্টের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান সাঙ্গাকারা। এই ইনিংস খেলার পথে রিকি পন্টিংকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ও বিশ্বকাপে এক হাজার রানের কৃতিত্ব দেখান তিনি।

দিমুথ করুনারত্নেকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। কিন্তু জোড়া আঘাতে করুনারত্নে ও জিবন মেন্ডিসকে বিদায় করে নিউ জিল্যান্ডকে সহজ জয়ের দিকে নিয়ে যান অ্যাডাম মিল্ন।

ম্যাথিউস (৪৬) ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় বড় হার এড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

নিউ জিল্যান্ডের অ্যান্ডারসন, ভেটরি, টিম সাউদি, মিল্ন ও বোল্ট দুটি করে উইকেট নেন।

দিনের শুরু থেকেই আকাশ ছিল পুরোপুরি মেঘে ঢাকা। আবহাওয়া পেস বোলিংয়ের অনুকূলেই ছিল। কিন্তু সেই সুবিধা নিতে পারেননি শ্রীলঙ্কার পেসাররা।

উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। মার্টিন গাপটিলের সঙ্গে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দারুণ উদ্বোধনী জুটি স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দে মাতায়।

মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই কাভার দিয়ে চার হাঁকিয়ে অতিথিদের নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক জানিয়ে দেন, সামনে কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।।

গাপটিলের (৪৯) সঙ্গে ১১১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ম্যাককালাম। রঙ্গনা হেরাথের বলে সীমানায় জিবন মেন্ডিসের হাতে তিনি ধরা পড়লে ভাঙে ১৫.৫ ওভার স্থায়ী জুটি।

৬৫ রান করা ম্যাককালামের ৪৯ বলের ইনিংটি ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় গড়া। এর মধ্যে লাসিথ মালিঙ্গার করা অষ্টম ওভারে নেন ২২ রান। সেই ওভারে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক।

তৃতীয় উইকেটে রস টেইলরের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দারুণ ছন্দে থাকা উইলিয়ামসন। তাদের ১১.১ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙ্গার কৃতিত্ব মেন্ডিসের। জোড়া আঘাতে এই দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

৬৫ বলে খেলা উইলিয়ামসনের ৫৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ৫টি চার ও ১টি ছক্কায়। শেষ ১৯ ইনিংসে এ নিয়ে ১৩টিতে পঞ্চাশোর্ধ রান করলেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

অবশ্য শূন্য রানেই ফিরে যেতে পারতেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপের শুরুটা স্বপ্নের মতো হতে পারতো সুরঙ্গা লাকমালের। প্রথম বলেই উইকেট পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু উইলিয়ামসনের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচটি গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি সাঙ্গাকারা।


১৯৩ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দলকে সাড়ে তিনশ’ রানের দিকে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব অ্যান্ডারসনের। গ্রান্ট এলিয়টের (২৯) সঙ্গে ৬১ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়ে জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা সামাল দেন তিনি।

এরপর রনকির সঙ্গে মাত্র ৩৭ বলে ৭৩ রানের আরেকটি দারুণ জুটি উপহার দেন অ্যান্ডারসন।

শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৭৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৬ বলে খেলা তার ৭৫ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি ৮টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ। ৪৩ রানে লাকমালের বলে কাভারে মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান অ্যান্ডারসন।

তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১৪ ওভারে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। মাত্র ১৯ বল খেলা রনকি অপরাজিত থাকেন ২৯ রানে। মালিঙ্গার বলে একবার বোল্ড হলেও ‘নো’ বলের কল্যাণে ১৬ রানে বেঁচে যান তিনি।

শ্রীলঙ্কার লাকমল ও মেন্ডিস দুটি করে উইকেট নেন। ভালো করতে পারেননি মালিঙ্গা। এই পেসার ১০ ওভারে দেন ৮৪ রান, কোনো উইকেটও পাননি।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অ্যান্ডারসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০৮/৬ (গাপটিল ৪৯, ম্যাককালাম ৬৫, উইলিয়ামসন ৫৭, টেইলর ১৪, এলিয়ট ২৯, অ্যান্ডারসন ৭৫, রনকি ২৯*; মেন্ডিস ২/৫, লাকমাল ২/৬২, হেরাথ ১/৩৭, কুলাসেকারা ১/৭৮)

শ্রীলঙ্কা: ৪৬.১ ওভারে (থিরিমান্নে ৬৫, দিলশান ২৪, সাঙ্গাকারা ৩৯, জয়াবর্ধনে ০, করুনারত্নে ১৪, ম্যাথিউস ৪৬, মেন্ডিস ৪, কুলাসেকারা ১০, হেরাথ ১৩, মালিঙ্গা ০, লাকমাল ৭; অ্যান্ডারসন ২/১৮, ভেটরি ২/৩৪, সাউদি ২/৪৩, মিল্ন ২/৫৬, বোল্ট ২/৬৪)

ম্যাচ সেরা: কোরি অ্যান্ডারসন।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে