Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৩-২০১২

তিন মাসের আল্টিমেটাম, ২৯ মার্চ হরতাল

তিন মাসের আল্টিমেটাম, ২৯ মার্চ হরতাল
ঢাকা, ১২ মার্চ- পুলিশি তল্লাশি, সড়ক-নৌপথ বন্ধ করে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন-অবরুদ্ধ করে নেতা-কর্মীদের আগমনে বাধাদান, হামলা ও গণগ্রেফতারের পরও বিএনপির মহাসমাবেশ শেষ পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসমুদ্রের দেড় ঘণ্টার বক্তৃতায় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধনে ১০ জুন পর্যন্ত সরকারকে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এর মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১১ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে গতকালের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসতে বাধা দেওয়াসহ তাদের ওপর সরকারের হামলা, নির্যাতন ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি।

গতকাল রাজধানীতে 'চলো চলো ঢাকা চলো' ম্লোগান দিয়ে আসা লাখো মানুষের সমাবেশে দাঁড়িয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, চলমান আন্দোলন ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা জোট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সম্প্রসারিত জোট ও বিএনপির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি দেওয়া হলো। কর্মসূচির মধ্যে আরওপ আছে- এপ্রিলজুড়ে সারা দেশে বিক্ষোভ এবং কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে মে-তে উপজেলা ও থান?া ঘেরাও।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতের মাওলানা আবদুস সুবহান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইবরাহিম, জামায়াতের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, এম ইলিয়াস আলী, নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, খন্দকার গোলাম মর্তুজা, কামারুজ্জামান খান, ছাত্রদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

পুলিশ, বিজিবি, র্যাব আর সরকারদলীয় অবরোধে অক্টোপাসের ভেতর নয়াপল্টনে বিএনপির সদর দফতরের সামনে মঞ্চ পেতে আয়োজিত এ সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোলে নিয়ে ক্ষমতায় বসার কথা বলেন। আমরা কারও কোলে বসে ক্ষমতায় যেতে চাই না। জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তাদের রায় নিয়েই ক্ষমতায় যেতে চাই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কি আমরা ধরে নেব প্রধানমন্ত্রীকে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন এভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন কিছু বলবেন না যাতে জনগণ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রীর পদের মহিমা রক্ষা করুন।

ঢাকার মধ্যভাগ পুরোটাই জনারণ্যে সয়লাব হয়ে যাওয়া পরিবেশে 'শেখ হাসিনার দিন শেষ, খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ' জনতার এই মুহুর্মুহু স্লোগানের মধ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি গণতান্ত্রিক। সরকারি দলের লোকেরাই অস্ত্র নিয়ে, হকিস্টিক নিয়ে মিছিল বের করে। আর পুলিশ তাদের পাহারা দেয়। এটা কেমন গণতন্ত্র? সরকার কোনো দলের হয় না। কিন্তু এ সরকার জনগণের সরকার নয়, কেবল আওয়ামী লীগের সরকার। তারা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলে, যা কোনো সুস্থ রুচিসম্মত মানুষ বলে না। তারা আসলে অপরাধী ও কুরুচিপূর্ণ। তাদের মন নোংরা। আমি এসবের জবাব দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। বেগম জিয়া বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) বিদেশি এজেন্ট, বস্তাভরা টাকা নিয়ে তারা ক্ষমতায় যায়। আমরা কারও এজেন্ট নই। কারও সাহায্য নিয়ে ক্ষমতায় যাই না। জনগণই সাহায্য করে আমাদের।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভই ভেঙে ফেলেছে। রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ প্রশাসন, সংসদ ও বিচার বিভাগ। তার মধ্যে সংসদ আজ ঠুঁটো জগন্নাথ। ভারতের সঙ্গে যেসব গোপন চুক্তি হয়েছে সেগুলো সংসদে ওঠে না। সংসদে চলে গালিগালাজের মহড়া। স্পিকারের ভাষায় সংসদ এখন মাছের বাজার। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকার রুদ্ধ করে দিয়েছে। কথা না শুনলে সংবাদপত্র ও টিভি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ মহাসমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার করতে চেয়েছিল বেশ কটি টিভি চ্যানেল। সরকার অনুমতি দেয়নি। তাদের বলা হয়েছে টিভির লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই হলো সরকারের গণতন্ত্রের নমুনা। মিডিয়াকে সরকার ভয় পায়। কারণ মিডিয়া জনগণের কথা বলে। এ সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আর এ হত্যার বিচার হবে না, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছেন সব আলামত মুছে গেছে। নিজেরা আলামত মুছে ফেলে জনগণকে বলবেন আলামত মুছে গেছে, তা হবে না। তিনি সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি একাত্দতা ঘোষণা করে বলেন, আপনারা এগিয়ে যান। আমরা সঙ্গে আছি। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন বিচার দুই ধরনের। আওয়ামী লীগের জন্য এক রকম এবং বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের জন্য অন্য রকম। আওয়ামী লীগ হলে খুনের আসামিরাও মাফ পেয়ে যায়। এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বেডরুমের নিরাপত্তা দেওয়া যায় না। কিন্তু কূটনৈতিক হত্যা হয়েছে রাস্তায়, আপনারা রাস্তায়ও নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। প্রতিদিন অসংখ্য খুন এবং গুম হচ্ছে। কিছুদিন আগেও পুলিশকে গুলি করা হয়েছে। ডিআইজি পদের একজন কর্মকর্তার গাড়ি ছিনতাই করা হয়েছে। পুলিশের নিজেরও নিরাপত্তা নেই। জনগণকে নিরাপত্তা দেবে তারা কীভাবে? তিন বলেন, এসবের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী। তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করছে। আগে নিজের লোকের কাছ থেকে অস্ত্র নিন, তবেই জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারবেন। শেয়ারবাজারে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গতকালের বহুল আলোচিত মহাসমাবেশ। বেলা দেড়টায় সমাবেশের প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারী হারুনুর রশিদ বাদল। মহাসমাবেশের আশপাশে মূল সড়কে স্থান না পেয়ে নেতা-কর্মীরা শেষ পর্যন্ত রাজপথ ছাড়াও অলিগলিতেও অবস্থান নেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি প্রতিশোধ নিতে চাই না, প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। দেশ ও জনগণকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রায় ৩৩ লাখ মানুষের পুঁজি লুটে নিয়েছেন এ সরকারের লোকেরা। তাদের এ পর্যন্ত গ্রেফতার কিংবা কারও কোনো বিচার করা হয়নি। বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে এদের বিচার করে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাদের কাছ থেকে এই লুটপাটের অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর চুপ করে থাকবেন না। মুখ খোলার সময় এসেছে। অন্যথায় জনরোষের শিকার হতে পারেন। গণতন্ত্র আজ এক ব্যক্তির হাতে জিম্মি। এ থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় দেশও বাঁচবে না, মানুষও বাঁচবে না।

বেগম জিয়া বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের চাকরিসহ যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সব সেক্টরে উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, কীভাবে এসব করব তার 'টেকনিক' আমাদের কাছে আছে। কিন্তু তা এখন বলব না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে