Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১২-২০১২

চলো চলো ঢাকা চলো

দেশজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : আসছে আলটিমেটাম ও জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা : স্নায়ুর চাপে সরকার
চলো চলো ঢাকা চলো
ঢাকা, ১২ মার্চ- দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং সরকারের বিপরীতমুখী কঠোর ভূমিকায় ঢাকাসহ দেশের সবক’টি শহর অঞ্চলে ‘রোববারের হরতাল পরিস্থিতির পর’ বিএনপির বহুল আলোচিত ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে আজ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ২টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটি মহাসমাবেশ করবে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের ব্যাপক ধরপাকড় ও বাধার কারণে আজকের মহাসমাবেশ বহুমাত্রা পেয়েছে; পাশাপাশি রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এ নিয়ে এক ধরনের øায়ুচাপে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে সরকার। সরকারি দলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার দাবি তোলায় বিএনপির কর্মসূচি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকারের নির্দেশে একদিকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা ও ক্ষমতাসীন দলের উপর্যুপরি কঠোর বক্তব্যে কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর ফলেই জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা। লঞ্চ, বাসসহ দূরপাল্লার বেশিরভাগ যান চলাচল সরকারের অলিখিত নির্দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকাসহ দেশজুড়ে অঘোষিত হরতাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় রোববার সকাল থেকেই। সমাবেশের জন্য মঞ্চ নির্মাণের অনুমতি নিয়ে পুলিশ লুকোচুরি খেলায় নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে নগরীতে কী ঘটে তা নিয়ে দু’দিন ধরেই নগরীতে নানা জল্পনা-কল্পনার পাশাপাশি টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এত কিছুর পরেও কর্মসূচি সফল করার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো আজকের মহাসমাবেশে অংশ নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আজই ১৬ দল নিয়ে জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোটে অন্তর্ভুক্ত না হলেও আজ কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা। পাশাপাশি তত্ত্ববাধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে সরকারকে আলটিমেটামসহ সরকারবিরোধী পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচিও ঘোষণা করবেন তিনি। আজকের মহাসমাবেশে নয়াপল্টন ও আশপাশের সড়কগুলোতে ৩০০ মাইক ও ১০টি স্থানে বড় পর্দা বসানো হবে। যাতে মঞ্চ থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনতে পারেন। সব মিলিয়ে বিএনপির আজকের এই কর্মসূচি আগামীতে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ঢাকায় আজ কী হচ্ছে তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহল, সচেতন জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের সীমা নেই। বাংলাদেশস্থ কূটনীতিকরাও এদিকে নজর রাখছেন। নজর আছে বহির্বিশ্বের মিডিয়াসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও।
নিরপেক্ষ একটি সূত্রমতে, আজকের মহাসমাবেশে ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই বিএনপির মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে প্রথম দিকে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সরকার বিএনপির কর্মসূচিতে বাধার সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েও পরে কৌশলগত কারণে সেখান থেকে সরে আসে। কিন্তু বিএনপির সমাবেশে যাতে লোকসমাগম কম হয় তার জন্য এমন কোন পদক্ষেপ নেই যা সরকার গ্রহণ করেনি। সারাদেশের নৌপথ, সড়ক পথ ও ট্রেন চলাচল সরকার অলিখিতভাবে বন্ধ করে দেয়। অনেক বাস অকারণে পুলিশ রিকুইজিশন করে। রাস্তায় নামানো বাসের কাগজপত্রে সামান্য ত্র“টি পাওয়া গেলে রুট পারমিট বাতিল করার হুমকি দেয়া হয়। ঢাকার হোটেলগুলোতেও তিন দিনের জন্য বোর্ডার নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়। রাজধানীর বাইরে থেকে যাতে নেতাকর্মীরা আসতে না পারেন সেজন্য পুলিশও সতর্ক অবস্থান নেয়। প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহভাজন কাউকেই ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিএনপি সমাবেশে বড় ধরনের শোডাউন তথা দলটিকে পাল্টা চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সরকার এসব পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে কার্যত শনিবার বিকাল থেকেই রাজধানী যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে। আর যানবাহন সমস্যায় ঢাকাসহ দেশবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির আশংকায় আজ নগরীর অধিকাংশ স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রোববার থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে অঘোষিত হরতালের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুর পর্যন্ত বিএনপিকে পুলিশ মঞ্চ নির্মাণ ও মাইক লাগানোর অনুমতি দেয়নি। শুধু তাই নয়, বিএনপি নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি করে পুলিশ আতংক সৃষ্টি করেছে। খাবার হোটেলগুলোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেকেরে মতে, এক ধরনের গণঅভ্যুত্থানের আশংকা থেকে সরকার এসব ব্যবস্থা নিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এই ধরনের ইঙ্গিতকে নাশকতার আশংকা বলে ব্যক্ত করছে সরকার। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকের মহাসমাবেশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, সরকার নয়; জনগণ আতংকে রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে বলেই ঘোষণা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আশ্বস্ত হতে পারছে না সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মোতায়েন করেছে ৩০ হাজার আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
মহাসমাবেশের অনুমতি নিয়ে লুকোচুরি : মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে লুকোচুরি করে পুলিশ। ৩ মার্চ পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিএনপির তিন নেতার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ওইদিন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করা ও মাইক লাগানোর মৌখিক অনুমতি বিএনপিকে দেয়া হয়েছে। পুলিশের এই মৌখিক আশ্বাসের কথা বিএনপি নেতারা মিডিয়াকেও জানান এবং তারা বলেন, যে শিগগিরই এ ব্যাপারে লিখিত অনুমুতি পাওয়া যাবে। বিএনপি নেতাদের এ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়নি। মহানগরী বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ দলটির একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে পুলিশের ওই আশ্বাসের পর প্রতিদিনই আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিক অনুমতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রায়শই হয় তাদের পাওয়া যায়নি অথবা দিচ্ছি-দেব করে তারা সময় পার করেছে। সালাম বলেন, সম্ভবত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ টালবাহানা করেছে। সর্বশেষ ১০ মার্চ শনিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আবারও ডিএমপি কার্যালয়ে যান। কিন্তু তাদের সঙ্গে দেখা করেননি ডিএমপির পদস্থ কর্মকর্তারা। শনিবার রাতেই মাইক লাগানো ও মঞ্চ তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিএনপি কার্যালয়ে এসে পড়ে। শনিবার রাতে মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি নিলে পল্টন থানা পুলিশ গিয়ে তাতে বাধা দেয়। ফলে শনিবার পর্যন্ত মঞ্চ ও মাইক লাগানো নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আর এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির মধ্যে। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, অনুমতি নিয়ে পুলিশ টালবাহানা করছে।
সূত্রমতে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও চেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার সকালে আবারও ডিমএমপির কার্যালয়ে যান বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু ওই সময়ও তাদের বলা হয়; দুপুর ২টায় ডিএমপির সমন্বয় সভার পর বিএনপিকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সূত্রমতে, এরপর রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিএনপি। দলটির মহানগরী কার্যালয়ে মহানগরী নেতারা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতির কথা জানান পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ। এর পর পরই মঞ্চ নির্মাণ ও মাইক লাগানোর কাজ শুরু করে বিএনপি। সূত্রমতে, সারা রাত ধরে পূর্বে শাপলা চত্বর, পশ্চিমে কাকরাইল মসজিদ, উত্তরে মালিবাগ ও দক্ষিণে তোপখানা সড়ক পর্যন্ত মাইক লাগানোর কাজ করে বিএনপি। এ নিয়ে দলটির মহানগরী শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিনিদ্র রজনী কাটান।
বিএনপির চূড়ান্ত প্রস্তুতি : চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি সফল করা নিয়ে দুই মাস ধরেই বিএনপির প্রস্তুতি চলছে। ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড থেকে খালেদা জিয়া এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই কার্যত প্রস্তুতি শুরু হয়। ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল থেকে খালেদা জিয়া সমবেত জনগণকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। এরপর চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও লালমনিরহাটে জনসভায়ও খালেদা জিয়া নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষকে ঢাকার সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান অব্যাহত রাখেন। চারদলীয় জোটসহ সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া মহাসমাবেশে শৃংখলা রক্ষার্থে জামায়াতকে সতর্ক করেন খালেদা জিয়া। জোট ও সমমনা ছাড়াও গত দু’সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়া বৈঠক করেছেন চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে। আজকের মহাসমাবেশে যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফেব্র“য়ারির প্রথম সপ্তাহে এই কর্মসূচির পক্ষে জনমত তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৪৫টি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির নেতারা দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় প্রস্তুতিসভা করেন। এভাবে সারাদেশে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করেন তারা। ঢাকা মহানগর বিএনপি দফায় দফায় বৈঠক, যৌথসভা করে। রাজধানীর প্রতিটি থানায় তারা কর্মিসভা করে নেতাকর্মীদের চাঙা করেন। আজকের মহাসমাবেশ সফল করার জন্য মহানগর বিএনপি প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি গঠন করে। প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করার জন্য থানায় থানায়ও কমিটি করা হয়। কর্মসূচির দিন যাতে সুশৃংখলভাবে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোও দফায় দফায় বৈঠক করে প্রস্তুতি নেয়। এছাড়া বিএনপি সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোও পৃথকভাবে কর্মসূচি সফলের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মহাসমাবেশের প্রস্তুতিতে ডিজিটাল প্রচারণাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারেও সমাবেশকে সফল করতে প্রচারণা চালানো হয়। দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও এই স্লোগানে আজকের মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে মহাসমাবেশ সফল করতে প্রচারণা চালানো হয়।
আজকের মহাসমাবেশ উপলক্ষে সারাদেশের নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ১৫টি অভ্যর্থনা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে আগত নেতাকর্মীদের শুকনো খাবার ও পানি এসব মঞ্চ থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা সরবরাহ করবেন।
মহাসমাবেশ সফল করতে বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহর নেতৃত্বে শৃংখলা উপ-কমিটি, প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে চিকিৎসা উপ-কমিটি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রচার উপ-কমিটি, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি, সাবেক কমিশনার নবীউল্লাহ নবীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা উপ-কমিটি, সাবেক এমপি এসএ খালেকের নেতৃত্বে আবাসন উপ-কমিটিসহ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব উপ-কমিটির আহ্বায়করা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন, করছেন। সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির নেতৃত্বে জাসাসের শিল্পীরা সকালে সরকারবিরোধী বিভিন্ন কবিতা, গান পরিবেশন করবেন। এছাড়া বিএনপির নিজস্ব একটি সিকিউরিটি ফোর্স পুরো মহসমাবেশ মনিটর করবে। থাকবে অসংখ্য ভিডিও ক্যামেরাও। উঁচু বিল্ডিংয়ে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা বাইনোকুলারের সাহায্যে পুরো মহাসমাবেশ মনিটর করবেন। মহাসমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে ১৩শ’ স্বেচ্ছাসেবকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। মহাসমাবেশ উপলক্ষে প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩৬টি মেডিকেল টিম কাজ করবে। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির লিগ্যাল এইড কমিটি। জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক সচিব জহুরুল ইসলাম, আবদুল হালিম ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইউমের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের কমিটি।
আজকের মহাসমাবেশে অংশ নিতে গত কয়েকদিন আগেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন। হোটেল বন্ধ থাকায় নিকটাÍীয় ও দলীয় নেতাকর্মী এবং বন্ধুবান্ধবদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন তারা। ধরপাকড়ের ভয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ছাড়া সাধারণ যাত্রীবেশে তারা ঢাকায় আসছেন। রোববার সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সকাল ১০টার মধ্যে আপনারা মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এখানে আজ কেউ মিছিল স্লোগান দেবেন না। এদিকে দেশের বাইরে থেকেও নেতাকর্মীরা আজকের মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। নিউইয়র্ক প্রবাসী ‘তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পরিষদের’ নেতা নাসিম আহমেদ ইতিমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন।
চাপের মুখে সরকারের তৎপরতা : বিএনপির আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। কারণ একদিকে ব্যাপক লোক সমাগম হলে সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ সরকারের বাইরে চলে যেতে পারে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করেছেন। আর পুলিশও অনুমতি দিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় নিয়েছে। আবার সমাবেশে বাধা দেয়াও কৌশলগত কারণে সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বাংলাদেশস্থ কূটনীতিকসহ বহির্বিশ্বের অনেক দেশও এদিকে নজর রাখছে। তাছাড়া বাধা দেয়ার পর পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয় তা নিয়েও শংকা রয়েছে সরকারের। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সরকারি দল একইদিনে পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসে। পাশাপাশি পাল্টা চাপ সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাড়ায়-মহল্লায় আওয়ামী লীগকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।
ঘোষণা হবে নতুন জোট ও কর্মসূচি : আজকের মহাসমাবেশ থেকে জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোটভুক্ত দলগুলোর এ সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে; যাতে খালেদা জিয়াসহ জোট নেতাদের স্বাক্ষর করার কথা আছে। রোববার রাতে এ নিয়ে জোট নেতাদের সঙ্গে গুলশান অফিসে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সূত্রমতে, প্রাথমিকভাবে জোটের নাম ‘সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোট’ নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবরে জানা যায়, বিএনপির একটি অংশ এই নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটকে তারা সম্মিলিত জাতীয়তাবাদী ঐক্যজোট হিসেবে দেখতে চান। তবে নীতিনির্ধারকদের অপর অংশের মতে, সবাইকে নিয়ে চলতে গেলে নামে কিছু আসে-যায় না।
তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের দাবিতে সরকারকে তিন মাসের আলটিমেটাম দেয়ার কর্মসূচি এক রকম চূড়ান্ত রয়েছে। আজকের মহাসমাবেশে বড় ধরনের অঘটন না ঘটলে হয়তো এই কর্মসূচিই দেয়া হবে। আর সরকারের বাধায় পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিলে সেক্ষেত্রে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল দেয়ারও বিকল্প প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দলটি। সূত্রমতে, উভয় কর্মসূচি নিয়েই রোববার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আজকের পরিস্থিতির ওপর।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাকযুদ্ধ : বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই মহাসমাবেশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আজকের মহাসমাবেশ বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানান। আর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিরোধী দলের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজধানীতে অপরিচিত কাউকে দেখামাত্র গ্রেফতার করা হবে। ঢাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, রাজধানীতে ২০ জনকে একত্রিত দেখামাত্র ধাওয়া করা হবে। এ ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা আজকের মহাসমাবেশে নাশকতার আশংকা করে বলেন, দুই ছেলে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যই খালেদা জিয়া এই আন্দোলন করছেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবটাও কড়া ভাষায় দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। কোন বাধাই জনসে াতকে আটকিয়ে রাখা যাবে না এমন হুশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, আজকের মহাসমাবেশে বাধা দেয়া হলে তা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াও আজকের মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকারের নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকের মহাসমাবেশে বাধা দেয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। তাই গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা চান তিনি। অনেকের মতে, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের নেতাদের বাকযুদ্ধ মহাসমাবেশের গুরুত্ব অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হয় কিনা এটাই এখন দেখার বিষয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে