Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১২-২০১২

শর্তের বেড়াজালে মহাসমাবেশ

শফিউল আলম দোলন


শর্তের বেড়াজালে মহাসমাবেশ
সোমবার বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা মহাসমাবেশ। দেশজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার এই মহাসমাবেশ নিয়ে সরকারি দলের মন্ত্রী-নেতাদের হুমকি-ধামকি, গত কয়েক দিনের টান টান শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয় উত্তেজনা, ঢাকাকে দেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে গণগ্রেফতার, পথে পথে বাধাদান, দিনভর অনিশ্চয়তা শেষে গতকাল বিকালে পুলিশ অদ্ভুত আট শর্তে অনুমতি দিয়েছে মহাসমাবেশ করার। মহাসমাবেশের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। বেলা ২টায় মহাসমাবেশ শুরু হবে। শর্ত অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগেই মানুষ আসতে পারবে। তবু দমেনি বিএনপি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর নেতা-কর্মীদের ওপর ভর করেই মহাসমাবেশ সফল করতে বিপুল উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি দমননীতি ও কঠোরতার মুখে। যে কোনো মূল্যে নেতারা সরকারের এত বাধা নিষেধের পরও জনতার ঢল নামাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুরু হয়েছে মঞ্চ বাঁধার কাজ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের মহাসমাবেশকে রাজনীতির টার্নিং পয়েটে দাঁড় করিয়েছেন। আজকের মহাসমাবেশে পুলিশ মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমানা নির্ধারণ করে দিলেও চারদলীয় জোটকে ১৬ দলের সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের ঘোষণার পাশাপাশি সরকারকে স্বল্প সময়ের আল্টিমেটাম দেবেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিতে পারেন।

গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম রোডমার্চ শেষে পলোগ্রাউন্ডের জনসভা থেকে এ মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে যেতে থাকে। একদিকে বিএনপির সর্বব্যাপী প্রস্তুতি, অপরদিকে সরকারি দলের হুমকি-ধামকির আবর্তে এ মহাসমাবেশ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে টান টান উত্তেজনার। স্থল, নৌ ও রেলপথসহ নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসার পথে সরকারের নানামুখী বাধার মুখেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শেষ মুহূর্তে বলেছেন, শত বাধা-বিপত্তির মুখেও আজ যে কোনো মূল্যে নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল দিনভর বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিল সাজ সাজ রব। ঢাকার বাইরে থেকে আগত নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ভিড় সামলাতে না পেরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিজেই শেষ পর্যন্ত তাদের বাসায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৩৮৬ জনসহ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মধ্যে মহাসমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য চার শতাধিক ডেলিগেট কার্ড বিতরণ করা হয়। মঞ্চ তৈরির কাজও শেষ হয়েছে গভীর রাতে। টানানো হয়েছে মাইক ও সিসি টিভি ক্যামেরা। দুই সহস াধিক নেতা-কর্মী স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন আজ। মহাসমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখে কয়েক দিন ধরেই। র্যাব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও গতকাল নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকা ছিল সরগরম। বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই রাতে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। জামায়াত-শিবিবের নেতা-কর্মীরাও গতকাল নয়াপল্টনের মহাসমাবেশস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। আজ সকাল ৮টার পর থেকেই তারা মঞ্চের সামনে ও উত্তর দিকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত অবস্থান নেবেন বলে জানান।

কর্মসূচি দেবেন খালেদা জিয়া

আজকের মহাসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তিনি সরকারকে একটি আল্টিমেটাম দেবেন। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দুই অথবা তিন মাস সময় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করবেন বেগম জিয়া। আজকের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে টানা তিন কিংবা চার দিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তাছাড়া অবস্থান ধর্মঘটেরও ঘোষণা আসতে পারে ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে।

ঢাকা মহানগরীর নেতা-কর্মীদের ওপর ভরসা

সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী নেতা-কর্মীদের পথে পথে পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে মহাসমাবেশে আশানুরূপ লোক সমাগম নাও হতে পারে_ এ আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা মহানগরীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যোগদানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে গতকাল। নগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা গতকাল প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার করে লোক আনার জন্যে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা তার চেয়েও বেশি লোক আনবেন তাদের সাংগঠনিকভাবে পুরস্কৃত করার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা যায়। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী গত কয়েক দিনে ঢাকায় এসে পেঁৗছেছেন। তারা আত্দীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের বাসায় উঠেছেন। তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগসহ সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী কিংবা সমর্থক আত্দীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে নিরাপদে অবস্থান করছেন।

সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের 'ঘোষণাপত্রে' স্বাক্ষর

আজকের মহাসমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী নতুন কর্মসূচি ছাড়াও চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়িয়ে নতুন জোটের ঘোষণা দেবেন জোটনেত্রী খালেদা জিয়া। ১৬টি দলের সমন্বয়ে নতুন এ জোটের নাম হবে 'সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোট'। এ জন্য তৈরি করা হয়েছে পাঁচ পাতার একটি ঘোষণাপত্র। গত রাতে গুলশানের কার্যালয়ে চারদলীয় জোট ও সমমনা ১০টি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শীর্ষ নেতারা সবাই এ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। সর্বশেষ তা অনুমোদন করেন জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন কর্মসূচিও চূড়ান্ত করেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন জোটে থাকছে_ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, এনপিপি, এনডিপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগ (কামরুজ্জামান)।

দিনভর সরব কেন্দ্রীয় কার্যালয়

নেতা-কর্মীদের পদভারে গতকাল দিনভর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল ভরপুর। কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল পুরো দিনই। ঢাকার বাইরে থেকে দুই-একদিন আগে থেকেই আসা নেতাকর্মী-সমর্থকরা সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর একে একে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা আসতে থাকেন। নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের বিচরণও পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে। বেলা ১১টা থেকে দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য মহাসমাবেশের 'প্রতিনিধি (ডেলিগেট) কার্ড' বিতরণ শুরু হয়।

ঢাকা চলো কর্মসূচি সফল করাসহ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সংবলিত ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকা সাজ সাজ রব। মাইক না থাকলেও সাউন্ড বঙ্রে মাধ্যমে ঢাকা চলো কর্মসূচির গান পরিবেশন করা হয় কেন্দ্রীয় ও মহানগর কার্যালয়ে। দুপুরে এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দলীয় কার্যালয়ের সামনে আগত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, মহাসমাবেশে যোগদানের জন্য যারা এখানে এসেছেন আপনারা এখন আর এখানে থাকবেন না। আপনারা আজকের মতো সবাই চলে যান। তারপরও কর্মীদের ভিড় কমেনি।

সন্ধ্যায় মঞ্চ তৈরির অনুমতি

মহাসমাবেশের মঞ্চ তৈরি নিয়ে দিনভর নাটক শেষে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে অনুমতি পায় বিএনপি। গত দুদিন ধরে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীত পাশে মঞ্চ নির্মাণের সামগ্রী বাঁশ, কাঠ জড়ো করে রাখে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও অনুমতি পায়নি দলটি। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে আট শর্তে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মহাসমাবেশের অনুমতি দেয়।

এর আগে দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে কমিশনার বেনজির আহমদের সঙ্গে দেখা করে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ৫ সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম, নিলোফার চৌধুরী মণি ও শাম্মী আকতার। ডিএমপির এ লিখিত অনুমতি পাওয়ার পরপরই সমাবেশস্থলের সীমানা ও মাইকের পরিমাণসহ নির্ধারিত সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে ডিএমডি বরাবর আরেকটি চিঠি দিয়েছেন বিএনপির দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ।

শোডাউন করবে জামায়াত-শিবির

চারদলের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির আজকের মহাসমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগমের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল তারা নয়াপল্টনের সমাবেশস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। এ সমাবেশকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান।

ময়মনসিংহ থেকে ৬০ হাজার নেতা-কর্মী

ময়মনসিংহ থেকে প্রতিনিধি জানান, বিএনপির 'ঢাকা চলো' কর্মসূচিতে ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এনামুল হক আকন্দ লিটনের নেতৃত্বে ৬০ হাজার কর্মী-সমর্থক আজকের মহাসমাবেশে যোগ দেবে বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সব বাধা উপেক্ষা করে বিভিন্ন কৌশলে লিটন এ উদ্যোগ নেন এবং গতকাল পর্যন্ত কয়েকদিনে বিভিন্ন কৌশলে ৬০ হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় নিয়ে আসেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে