Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১১-২০১২

আ'লীগের নানামুখী কৌশল

আ'লীগের নানামুখী কৌশল
প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহায়তার কথা বললেও বাস্তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ১২ মার্চের মহাসমাবেশে বিরোধী দলকে কোনো ছাড় দেবে না। তারা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ও আতঙ্কে রেখে বিএনপির মহাসামবেশ ফ্লপ করানোর পরিকল্পনা করছে। সে অনুযায়ী শুধু রাজনৈতিক-ভাবেই নয়, মহাসমাবেশে উৎসাহীদের দমনে প্রশাসনকেও ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, বিরোধী দলের সোমবারের মহাসমাবেশকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বক্তব্য-বিবৃতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে নিজেদের পক্ষে টানতে চাইছে দলটি। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইভাবে রাজপথ, রেলপথ, নৌপথ দিয়ে যাতে ব্যাপক সংখ্যায় মানুষ ঢাকামুখী হতে না পারে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে। রাজধানীর আবাসিক হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে আগে থেকেই তিন দিন ভাড়া দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের নিরাপত্তা তল্লাশি। ফলে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এ তল্লাশি ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলার সংসদ সদস্যরা ১২ মার্চকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বিষয়ে জোট ও সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের বিশদ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে গণভবনের বৈঠকে সতর্ক করেছেন। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় নেতারা মনে করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে মহাসমাবেশ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে বিএনপি-জামায়াত। তাই তাদের ছাড় না দিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ রাখতে চায় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ দিবসের গণর‌্যালিতে বিপুল সংখ্যক জনসমাগম ঘটিয়ে একদিকে বিরোধী দলকে সতর্কতা, অন্যদিকে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার কাজটি সেরে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ জেলায় জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ জনসমাগম ঘটানোর চেষ্টা করেছে ১৪ দল। আজ রাজধানীতে ১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচিতেও সর্বোচ্চ জনসমাগম ঘটিয়ে বিরোধী দলকে বার্তা পাঠাতে চায় তারা। সেইসঙ্গে আগামী ১৪ মার্চ শক্তি প্রদর্শন করতে চান ১৪ দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ ও শরিক ১৪ দল নেতারা মনে করছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে এখনো জনসমর্থন তাদের দিকে রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদের নানা বক্তব্য-বিবৃতি ও সরকারি দলের নানা রাজনৈতিক কৌশলে জনগণের মাঝে এই উপলব্ধিও তারা জাগাতে পেরেছেন যে, বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে নানা কৌশলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে। এক্ষেত্রে বিগত ১৮ ডিসেম্বরে রাজধানীতে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল সেটি ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ব্যাপারে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ১২ তারিখে রাজনীতির পেছনে রাজনীতি, সমাবেশের নামে চক্রান্ত করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। সমাবেশের নামে ঢাকা দখল করার চেষ্টা কখনোই সফল হতে দেয়া হবে না। এজন্য নির্বাচিত সরকার হিসেবে যা করা দরকার বর্তমান সরকার তা-ই করবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে প্রমাণ হয় তারা ১২ মার্চ সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে দেশে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ১২ মার্চের কর্মসূচির দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, ১২ মার্চ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং ঢাকার সংসদ সদস্যরা দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাঠে থাকবেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে