Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১১-২০১২

ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন

ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন
অবশেষে সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের অবৈধ কর্মকা-ের লাগাম টেনে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজকর্মের পাশাপাশি নিয়োগ, ঋণ ও টেন্ডারে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সব তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ২নং অনুচ্ছদে বর্ণিত প্রজ্ঞাপনের বাইরে চেয়ারম্যানদের ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তফসিলি ব্যাংকের একাধিক চেয়ারম্যান তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। ফলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অযাচিত খবরদারিতে কোনো কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক এমনকি উপ-মহাব্যবস্থাপকরাও অতিষ্ঠ। এসব দিক বিবেচনা করেই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের সার্কুলার অনুযায়ীই নতুন করে চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়ে তাদের কর্মপরিধি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যাতে করে চেয়ারম্যানরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কর্মকা- পরিচালনা করেন। জানা গেছে, 'ব্যাংকের ৪ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান নির্বাহীর দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ও বিধিবিধান' নিয়ে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি থেকে এক পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয় পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা পর্ষদ কর্তৃক গঠিত চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক ব্যক্তিগতভাবে কোনো নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ার রাখেন না বিধায় তিনি ব্যাংকের প্রশাসনিক বা পরিচালনা বা দৈনন্দিন কাজে অংশগ্রহণ বা হস্তক্ষেপ করবেন না। পর্ষদের পরিবীক্ষণ দায়িত্বের আওতায় চেয়ারম্যান ব্যাংকের কোনো শাখা বা অর্থায়ন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন। তিনি ব্যাংকের পরিচালনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য অধিযাচন করতে বা কোনো বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য বা তদন্ত প্রতিবেতন পর্ষদ সভায়/নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্ষদের সিদ্ধান্তক্রমে প্রধান নির্বাহীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে প্রধান নির্বাহী সম্পর্কে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা পর্ষদের মাধ্যমে প্রধান নির্বাহীর বক্তব্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া চেয়ারম্যানরা ব্যাংকের ব্যবসায়িক স্বার্থে একটি অফিসকক্ষ, একজন ব্যক্তিগত সচিব/সহকারী/একজন পিয়ন/এমএলএসএস অফিসে একটি টেলিফোন, দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইলফোন ও একটি গাড়ি পেতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানরা এসব বিধি বিধানের তোয়াক্কা করছেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্টায়ত্ত ব্যাংকের বিতরণ করা বেশিরভাগ ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ফেরত আসছে না ঋণের অর্থ। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হলেও ব্যাংকের পরিচালক কিংবা চেয়ারম্যানের সুপারিশে তা দিতে হয়েছে। ঋণ বিতরণ ছাড়াও ব্যাংকের শাখা আধুনিকায়ন ও সজ্জাকরণে দরপত্র নির্বাচন, চুক্তিভিত্তিক ও স্থায়ী জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কিংবা পরিচালক সরাসরি নির্দেশে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ঋণ দিতে হয়। ঋণ দেয়ার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঋণের অর্থ ঠিকমতো ফেরত আসে না। এদিকে বিতরণকৃত ঋণের অর্থ ঠিকমতো ফেরত না আসায় রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে বেশ সঙ্কটে পড়ে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরে যে তারল্য সঙ্কট চলছে তার তীব্রতা রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলোতেই বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্রণী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলো এখন কলমানি মার্কেটের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা। অথচ এ ব্যাংকগুলোই আগে কলমানি মার্কেটের বড় ঋণদাতা ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। এ পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ বিতরণকৃত ঋণের অর্থ সময়মতো ফেরত না আসা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এসব ঋণের হিসাব বর্তমানে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত দেখানো হলেও অদূর ভবিষ্যতে কুঋণ হিসেবে শ্রেণীকৃত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সামপ্রতিক এক বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে এসব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আর উদ্বেগের এ বিষয়টি সরকারের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে তা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে ওই চার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থমন্ত্রীকে দেয়া আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ব্যাংকের দৈনন্দিন কর্মকা- যেমন : ঋণ অনুমোদন কার্যক্রম, বদলি, পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গভর্নর লিখেছেন, ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব প্রকট এবং পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম হচ্ছে না। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সংস্কারের অংশ হিসেবে এসব ব্যাংককে (সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী) কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকগুলোকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা করে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদও পুনর্গঠন এবং পর্ষদে পেশাগত দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেননা, সমপ্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সংস্কারের ফলে অর্জিত সাফল্যগুলো ধরে রাখা কঠিনতর হয়ে পড়েছে। এসব কিছু বিবেচনা করে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দৈনন্দিন কাজে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান যায়যায়দিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোতে চেয়ারম্যান এবং পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাদের সুপারিশে নিয়োগ বাণিজ্য, ঋণ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সব রকম অনিয়মই হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এখনি কঠোর পদক্ষেপে না গেলে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলবে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে