Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০ , ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১১-২০১২

বাড়িটি সরকারকেই ফিরিয়ে দিলেন শেখ রেহানা

বাড়িটি সরকারকেই ফিরিয়ে দিলেন শেখ রেহানা
ঢাকা, ১১ মার্চ-
সরকার প্রদত্ত রাজধানীর ধানমণ্ডি ৬ নম্বর সড়কের ২১ নম্বর বাড়িটি সরকারকেই ফিরিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। শনিবার রাতে গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দানপত্রের মাধ্যমে ধানমণ্ডি থানা হিসেবে ব্যবহারের জন্য সরকারকে বাড়িটি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনেই শেখ রেহানা বাড়িটির দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্রে স্বাক্ষরের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন পারভীনের কাছে বুঝিয়ে দেন। তেজগাঁও সার্কেলের সাব-রেজিস্ট্রার নৃপেন্দ্র চন্দ্র নাথ বাড়িটি হস্তান্তরের সব বিষয় সম্পন্ন করেন। দলিলে সাক্ষী
হিসেবে কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার এম মনিরুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সেলিমা খাতুন স্বাক্ষর করেন। বাড়িটি গৃহায়ন মন্ত্রণালয় পরে পুলিশ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, পূর্ত সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন ও পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
বাড়িটিতে বর্তমানে ধানমণ্ডি থানার কার্যক্রম চলছে। এ থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শেখ রেহানা বাড়িটি সরকারকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার বাড়িটি হস্তান্তর শেষে আবেগাপ্লুত শেখ রেহানা নিজেই বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জাতির জনকের কন্যা। এর চেয়ে বেশি কিছু তার আর চাওয়া-পাওয়ারও নেই। জাতির পিতার কন্যা হিসেবেই বাংলার জনগণের স্নেহ-ভালবাসা নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে যেতে চান তিনি।
তিনি জানান, যখন প্রয়োজন ছিল তখনই কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি। ছোট জীবন থেকে চাকরি করে জীবন কাটাতে হয়েছে। সেজন্য পড়াশোনাটাও শেষ করতে পারেননি। বাবা-মা, ভাই-ভাবিসহ সবাইকে হারিয়েছেন। এখন বেঁচে আছেন মাত্র দুই বোন। এমন বাড়ির তার প্রয়োজনও নেই। এক সরকার দেয়, আরেক সরকার কেড়ে নেয়। তিনি কোনো পলিটিক্সেও (রাজনীতি) নেই। এ বাড়ি নিয়ে আবার কেস (মামলা) খেতে হতে পারে। এ সবের মধ্যে তিনি নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু পুলিশ বাড়িটি ব্যবহার করছে, সেজন্য জনস্বার্থেই বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেহানা। বাড়িটি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তারা ভারমুক্ত হলেন।
আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশের পক্ষ বাড়ি ও জমিটি শেখ রেহানাকে ফেরত দিতে চাইলেও তিনি নিতে চাননি। অনেক আগেই ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হলো মাত্র।
এর আগে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০০১ সালের ১১ জুলাই ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের ২১ নম্বর হোল্ডিংয়ের এক বিঘার বাড়িটি নামমাত্র মূল্যে জাতির পিতার কন্যা হিসেবে শেখ রেহানার কাছে বিক্রি করা হয়। ওই সময় তার নামে বাড়িটির দলিল রেজিস্ট্রিও হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও সন্তানদের কাছে সরকার ১৯৮১ সালে যেভাবে গুলশানে ৩২ কাঠার পরিত্যক্ত একটি বাড়ি ১০১ টাকায় বিক্রি করেছিল, একইভাবে শেখ রেহানাকেও ধানমণ্ডির বাড়িটি দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া এখনও গুলশানের সেই বাড়িটির মালিক হলেও শেখ রেহানার ক্ষেত্রে বিপরীতটাই ঘটেছে।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিনা নোটিশে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে শেখ রেহানার বাড়িটি সরকারিভাবে দখল করে নেওয়া হয়। সরকার ওই বাড়ি থেকে ৯ জন কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার ও তাদের নামে মামলা দেয়। এরপর শেখ রেহানার মনোনীত প্রতিনিধি বেগম মঞ্জিলা ফারুক বাড়িটি হস্তান্তরের জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
এ রিট মামলা থাকা সত্ত্বেও ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ বাড়িটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বুঝিয়ে দেয় সরকার। অথচ সরকারিভাবেই রেজিস্ট্রি করে বাড়িটি শেখ রেহানার নামে বিক্রি করে দিয়েছিল সরকার। তার নামে নামজারিও করা হয়। অনেক চেষ্টা করেও জোট সরকার শেখ রেহানার নামে দলিল ও নামজারি বাতিল করতে পারেনি। ২০০৫ সালের ২৭ জুন বাড়িটি ধানমণ্ডি থানার কার্যালয়ে পরিণত করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই থানা ভবন উদ্বোধন করেন।
একই বছরের নভেম্বরে তৎকালীন সরকার ওই বাড়ির অংশ থেকে এক কাঠা জমি প্রতিবেশী বিচারপতি কেএম হাসানকে বরাদ্দ দেয়। যদিও ওই সময় খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেছেন। মঈনুল রোডের এ বাড়িটি ১৬৮ কাঠার হলেও আশপাশের জায়গা-জমি দখল করায় তা ২২৮ কাঠায় দাঁড়ায়। গুলশানের বাড়িটিও তার দখলে থাকায় এক ব্যক্তির দুটি সরকারি জমি ভোগ করতে না পারার আইন লঙ্ঘনেরও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই বাড়িটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ে নিলে উচ্চ আদালতে গিয়েও অবৈধ দখলকে বৈধ করতে পারেননি তিনি। বাড়িটি হারিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তখন সংবাদপত্রে কান্না বিজড়িত খালেদা জিয়ার ছবি ছাপা হয়েছিল।
এর আগেই অবশ্য শেখ রেহানা হাইকোর্টের রিট মামলাটি প্রত্যাহার করে বাড়িটি সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে