Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৯-২০১২

নারী দিবসে ঢাবিতে টাকার খেল দেখালো এনজিওজোট ‘আমরাই পারি’

নারী দিবসে ঢাবিতে টাকার খেল দেখালো এনজিওজোট ‘আমরাই পারি’
রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির মতোই টাকা দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশের বেশকিছু এনজিও। এবারের নারী দিবসের প্রথম প্রহরের কর্মসূচিতে বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ বছর ৮ মার্চ রাত বারোটা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে আর্ন্তজাতিক নারী দিবসকে স্বাগত জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আঁধার ভাঙার শপথ এই শ্লোগান নিয়ে টাকার বিনিময়ে শহীদ মিনারে এসে মোম জ্বালিয়ে কর্মসূচি সফল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চারটি হলের কিছু মেয়ে এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতাকর্মী।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ‘আমরাই পারি’ জোটের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক,  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজেরা করি’র পরিচালক খুশি কবিরসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা।

 

বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে নারী শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে আসছেন। তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলো সাধারণত রাত দশটার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই কর্মসূচির জন্য রাত বারোটায় হলের বাইরে আসতে পারায় অনেকের মধ্যেই আনন্দের ঝিলিক দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের এই আনন্দ হতবাকে পরিণত হয় যখন তাদের হলের হাউস টিউটর একটি ফরমে স্বাক্ষর করিয়ে প্রত্যেকের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দেন।

 

এসময় অনেকেই জানতে চান, ‘ম্যাডাম কিসের টাকা’ জবাবে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের এক হাউস টিউটর বলেন, “তোমরা তো পলিটিক্যাল প্রোগামে যাও না। গেলে বুঝতা কিসের টাকা। মনে করো এটা ঘুষ দিচ্ছি, তোমরা এতো রাতে কষ্ট করে এসেছো সেজন্য।”

 

অনুষ্ঠান শেষে হলে ফিরে মেয়েদের একটা অংশ একজোট হয়ে হাউজ টিউটরকে টাকা ফিরিয়ে নিতে বলেন। হাউজ টিউটর টাকা ফিরিয়ে নিতে অনাগ্রহ দেখান এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এসময় হলের মেয়েরা টাকা ফিরিয়ে দেন এবং ‘আমরাই পারি নারীর প্রতি সকল সহিংতা প্রতিরোধ করতে’ এর প্যাডে নিজের হাতে রেখা নাম কেটে ফেলেন। এনজিও’র ফরম এবং টাকার বান্ডিল হলের এক কর্মচারীর হাতে দিয়ে চলে আসেন মেয়েরা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুয়েত মৈত্রী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের হল থেকে প্রায় একশো মেয়ে কর্মসূচিতে গিয়েছিল। একশো মেয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল পনেরো হাজার টাকা।”

 

কুয়েত মৈত্রী হলের আরেক শিক্ষার্থী জানান, “অন্যসময় হল থেকে আমরা কোথাও গেলে হলে ঘণ্টা বাজিয়ে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। অনেকটা চুপিসারেই আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়।”

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের অপর তিনটি হল রোকেয়া, শামসুন্নাহার এবং ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি স্বীকার করেন। হল তিনটির ছাত্রলীগ নেত্রীরাও বিষয়টির সত্যতা যাচাই করেন।

 

ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা লিলি বার্তা২৪ ডটনেট-কে বলেন, “আমাদের হল থেকে প্রায় চারশো মেয়ে কর্মসূচিতে গিয়েছিল। স্পন্সর কিছুটা দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সবাইকে দেয়া হয়নি।”

 

ছাত্রলীগের সহসম্পাদক এবং ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীম সুলতান শারমিন মিশরী বলেন, “আমাদের হলের মেয়েদের সাথে হাউজ টিউটররাও ছিলেন। মোম জ্বালাতে যারা গিয়েছিল তাদের সবাইকে টাকা দেয়া হয়েছে।”

 

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আফরিন নূসরাত টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি গত বছরের খবর জানি। গতবারও হল থেকে মেয়েদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সবাইকে টাকা দেয়া হয়েছিল।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট নাজমা শাহীন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমাদের হল থেকে আমরা আড়াইশো মেয়ের নাম লিখিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আরো অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।”

 

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া মেয়েদের টাকা দেয়া হয়েছে বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “এটা এনজিওগুলো তাদের ফান্ডিংয়ের খরচ দেখানোর জন্য করেছে। অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিয়েছে তাদের নাস্তা করানোর জন্যই টাকা দিয়েছে ‘আমরাই পারি’।”

 

কত টাকা দেয়া হয়েছে সেটা বলতে না পারলেও তিনি বললেন, “হল প্রভোস্ট  এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যায়ের কারো সাথে কথা না বলে হাউজ টিউটরদের সাথে কথা বলে তাদের হাতেই টাকা দিয়ে গেছে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা।”

 

ছাত্রীদের রোষানলে পড়া কুয়েত মৈত্রী হলের হাউজ টিউটর লোপা আহমেদ জানান, “অনুষ্ঠানের আগের দিন হলে এসে তার কাছে ১৫ হাজার টাকার একটা খাম দিয়ে যায় নারী মৈত্রী এনজিও’র সিনিয়র ক্যাম্পেইন ফ্যাসিলিটর মারুফা আক্তার।”

 

‘আমরাই পারি’ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের পক্ষ হয়ে মেয়েদের চারটি হলে টাকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন মারুফা আখতার। তিনি বার্তা২৪ ডটনেট-কে বলেন, “আমরা ভাবলাম ছাত্রী মানুষ। হলে থাকে, একটু নীডি। টাকাটা পেলে অনেকে খুশি হবে তাই দিয়েছি।”

 

বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা হল প্রশাসন কারো সাথে কথা বলে টাকা দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না অথরিটির কারো সাথে কথা বলা হয়নি। আমরা আসলে টাকাটা দিয়েছিলাম যাতায়াত ভাড়া বাবদ। কিন্তু পরে শুনলাম কুয়েত মৈত্রী হলের মেয়েরা টাকাটা নেয়নি। তারা টাকাটা ফিরিয়ে দেবে বলেছে।”

 

এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য মারুফা আক্তার তার ‘বস’ প্রোজেক্ট ডিরেক্টর নাহিদ সুলতানার সাথে কথা বলতে বলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাকা দেয়া প্রসঙ্গে নাহিদ সুলতানা বার্তা২৪ ডটনেট-কে বলেন, “আমাদের সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে নিয়মিত প্রক্রিয়া মাফিক। জোটের সকল নেতা-নেত্রীদের জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  জোটের চেয়ারম্যান সুলতানা কামালও বিষয়টি জানেন।”

 

মেয়েদের টাকা দেয়ার বিষয়টি জানেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি এ খবর শুনে আঁতকে উঠে বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “তাই নাকি! আমি খবর নিচ্ছি, কেন তারা এমন করলো।” তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই আমরা মেয়েদের জন্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করেছি। তাদের যাতায়াত খরচ দিলে সেটা প্রশাসনকে দিতে পারেতো। মেয়েদের কেন টাকা দিতে গেল?”

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে