Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৯-২০১২

সরকার ও বিরোধীদের বাগ্যুদ্ধে রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

সরকার ও বিরোধীদের বাগ্যুদ্ধে রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে
১২ মার্চ যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ততই বাড়ছে। ৫০ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কর্মসূচি সাজালেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, ঢাকায় ২০ জনের বেশি লোক একসঙ্গে জমায়েত হলেই ধাওয়া দেয়া হবে।

১২ মার্চ যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ততই বাড়ছে। ৫০ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কর্মসূচি সাজালেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, ঢাকায় ২০ জনের বেশি লোক একসঙ্গে জমায়েত হলেই ধাওয়া দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও তৎপর মহাসমাবেশের নামে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কঠোরহস্তে দমন করতে। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তাদের আশঙ্কার কথা খোলাসা করে বলেছেন, সরকার মহাসমাবেশে নাশকতা ঘটিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাতে পারে। তাই অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ আর হুমকি ও ধমকি মোকাবেলার প্রত্যয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন_ ১২ মার্চ ঢাকায় 'না জানি কী হয়'! এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও মহাজোট সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ মার্চ বিরোধী দলের এই উত্তাপ : পৃষ্ঠা ২ কলাম ৫ মহাসমাবেশের বিস্তৃতি থাকবে রাজধানীজুড়ে। তবে মহাসমাবেশের পরে অবস্থান নেয়া বা বঙ্গভবন অথবা গণভবন ঘেরাও করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই বিএনপি নেতৃত্বধীন জোটের। মহাসমাবেশে যোগ দিতে ইতোমধ্যে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন জোটের নেতাকর্মীরা। মহাসমাবেশ থেকে সর্বশেষ 'সতর্ক সঙ্কেত' হিসেবে আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট গতিপথের নির্দেশনা দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কঠোর আন্দোলনে নামার আগে সরকারকে সমাবেশ থেকে আলটিমেটাম দেয়া হবে। জানা গেছে, চারদলীয় জোট, এলডিপিসহ সমমনা আরো ৯টি দলের আয়োজনে ১২ মার্চ মহাসমাবেশ সফল করতে সারাদেশ থেকে অর্ধকোটি লোক ঢাকায় আনার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ৪৫টি কমিটি করেছে। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহের নেতৃত্বে শৃঙ্খলা উপ-কমিটি, প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে চিকিৎসা উপ-কমিটি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রচার উপ-কমিটি, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি, সাবেক কমিশনার নবীউল্লাহ নবীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা উপ-কমিটি, সাবেক এমপি এসএ খালেকের নেতৃত্বে আবাসন উপ-কমিটিসহ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসা উপ-কমিটির পক্ষ থেকে শতাধিক মেডিকেল টিম মহাসমাবেশের দিন কাজ করবে। সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির নেতৃত্বে জাসাসের শিল্পীরা সকাল থেকে গান ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন কবিতা পরিবেশন করবেন। এছাড়া বিএনপির নিজস্ব একটি সিকিউরিটি ফোর্স পুরো মহসমাবেশস্থল ও আশপাশ মনিটর করবে। থাকবে অসংখ্য ভিডিও ক্যামেরাও। উঁচু বিল্ডিংয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেছাসেবকরা বাইনোকুলারের মাধ্যমে পুরো মহাসমাবেশ মনিটর করবে। বিএনপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীদের ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মহানগর ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীদের মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকর্মীদের মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্ব স্ব অঙ্গ সংগঠনগুলোর আবাসন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। মহানগর নেতারা জানান, মহাসমাবেশ বিস্তৃত থাকবে ঢাকাজুড়ে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা লোকজনের রাত্রিযাপনের জন্য কমিউনিটি সেন্টার ও হোটেল ভাড়া নেয়ার চেষ্টা হয়েছে এখনো তা অব্যাহত আছে। গাবতলী, উত্তরা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, সদরঘাট, নয়াবাজার, মোহাম্মদপুরের বসীলা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তোরণ নির্মাণ করা হবে। ১৩টি অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকে খাবার পানি ও সরবত সরবরাহ করা হবে। প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ, ১২ মার্চের মহাসমাবেশে সরকার নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। ওইদিনের কর্মসূচি বানচাল করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে প্রচারণার জন্য মাইকের অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ এখনো তা দেয়নি। এছাড়া পোস্টার-লিফলেট এমনকি বিলবোর্ড স্থাপনেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় পোস্টার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা পুলিশের সহায়তায় তা খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কমিউনিটি সেন্টার ও হোটেল ভাড়া দেয়া হচ্ছে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে তার সব দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। ডাক দেয়া হবে সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি । বিএনপির বিশেষ নিরপত্তা টিম গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা কোনো মারামারির প্রস্তুতি নয়। বরং বাইরে থেকে আসা কর্মীদের কোথায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেগুলো নিশ্চিত করার জন্য গঠন করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা জানান, স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। এত বড় সমাবেশ হবে যে, যা দেশবাসী আগে কখনো দেখেনি। প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। সরকার উপর্যুপরি বাধা দিচ্ছে। সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে মহাসমাবেশ সফল করা হবে। মহাসমাবেশের পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়ার প্রচারণা প্রসঙ্গে খোকা জানান, সরকার এমনিতেই ভয় পাচ্ছে। অবস্থান নেয়া বা বঙ্গভবন বা গণভবন ঘেরাও করার কোনো পরিকল্পনা নেই বিএনপির। শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক হান্নান শাহ জানান, মহাসমাবেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য রাজধানীর ১৪টি পয়েন্টে প্রায় ১৩শ' স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। তারা পুরো মহাসমাবেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে ১৪টি পয়েন্টে যারা মূল দায়িত্বে থাকবেন তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। কর্মসূচিতে নাশকতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না দাবি করে তিনি বলেন, কেউ নাশকতার চেষ্টা করে কিনা তা তারা কঠোরভাবে মনিটর করবেন। বিএনপির পাশাপাশি চারদলীয় জোটের বৃহৎ শরিক জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস মহাসমাবেশ কর্মসূচিতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে সমমনা ৯টি দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জাগপা, এনপিপি, এনডিপি, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগ দলীয় ফোরামে বৈঠক করে মহাসমাবেশে লোক হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া মহাসমাবেশ সফল করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা কমিটি, শৃঙ্খলা কমিটি, পার্কিং, স্বাস্থ্য, প্রচারসহ কয়েকটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। জামায়াত ৩ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়েছে। এদিকে ১২ মার্চে জোট সম্প্রসারণের ঘোষণায় সমমনা বাকি ৯টি দলও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে কৌতূহল ১২ মার্চের মহাসমাবেশ থেকে কী ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে তা নিয়ে রাজনৈতিক আঙিনায় বেশ কৌতূহল রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে রোডমার্চের পর বিএনপির এই কর্মসূচি হচ্ছে বর্তমান সরকারের ৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি, খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক বহালে একটি 'আলটিমেটাম' দেবেন। যার ব্যাপ্তি ৩ থেকে ৬ মাস হতে পারে। অন্যদিকে সমাবেশ করতে দেয়া না হলে কিংবা বাধা দেয়া হলে, টানা তিন দিনের হরতাল ডাকা হতে পারে- যে আন্দোলন ক্রমশ জোরাল হবে। কর্মসূচি ঠিক করতে বৃহস্পতিবার রাতে স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে