Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১৫

৩০ বছর পর প্রকাশ পেল চার্চ অব ইংল্যান্ডের কেয়ার হোমের রোমহর্ষক ধর্ষণচিত্র!

৩০ বছর পর প্রকাশ পেল চার্চ অব ইংল্যান্ডের কেয়ার হোমের রোমহর্ষক ধর্ষণচিত্র!

লন্ডন, ১৪ জানুয়ারি- চার্চ অব ইংল্যান্ড পরিচালিত কেন্টে অবস্থিত কেন্ডাল হাউজ নামে একটি কেয়ার হোমের ধর্ষণের ঘটনা ইংল্যান্ডের শিশু আশ্রয়কেন্দ্রের ইতিহাসে একটি অন্যতম কলঙ্কিত ঘটনা। তদুপরি এ কেয়ারহোমটি পরিচালিত হত চার্চ অব ইংল্যান্ড দ্বারা।

এই কেয়ারহোমেই বহুবার ধর্ষণের শিকা্র হয়েছেন তেরেসা কুপার। তিনি তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। বৃটেনের ডেইলি মেইলের সাথে তার সে দু:সহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দিতাম, কিন্তু তাতে কোন কাজ হতনা। ছয়জনে আমাকে জোর করে মাটিতে চেপে ধরত। এরপর চেতনানাশক ইনজেকশন দেয়া হত। এভাবে তিন বছরে মোট ১২৪৮ বার ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়েছে। ধর্ষন করা হয়েছে অসংখ্যবার।

একজন ডাক্তার মানসিক চিকিৎসার ওষুধের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এভাবে তেরেসা এবং তার মত আরো বেশ কয়েকজন অল্প বয়সী মেয়েকে ব্যবহার করেছেন। তেরেসা জানান, তার ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালানো সময় তিন বছরে তাকে অসংখ্যবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তার ওপর মানসিক চিকিৎসার ওষুধ পরীক্ষার ফলে মোট আটবার তার গর্ভপাত হয়েছে। এর মধ্যে একবার গর্ভপাতের সময় মানবশিশুর বদলে একটি মাংসপিন্ড বের হয় জরায়ু থেকে।

এর মধ্যেও তেরেসার তিনটি সন্তান বেঁচে রয়েছে এখনো। কিন্তু তারা সবাই প্রতিবন্দী। অস্বাভাবিক । তিন সন্তানের মধ্যে একজন অন্ধ, একজন তালুকাটা এবং আরেকজনের শাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছে।

তিন বছর কেয়ারহোমে থাকার পর বন্দীশালা থেকে মুক্ত হন তেরেসা। তেরেসা তখন বিদ্ধস্থ বিপর্যস্ত। তিন বছর কেটে যায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে। এরপর তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন তার অতীত সন্ধানে । কারা কিভাবে তাকে কেয়ারহোমে পাঠাল তার সন্ধান করতে থাকেন। ২৭ বছর অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার হাতে আসে ব্রিটিশ মেডক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি আর কারোরই নয় বরং কেয়ারহোমে যে ডাক্তার তার ওপর দীর্ঘদিন চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ করেছে তারই লেখা।

সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন কিশোরীদের ওপর মানসিক রোগের ওষুধ পরীক্ষা নিরীক্ষার অভিজ্ঞতা। আর এর মাধ্যমেই তেরেসা জানতে পারেন তিনিসহ সেখানে থাকা অন্য কিশোরী মেয়েদের আসলে ওষুধ পরীক্ষার গিনিপগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র যার কোন অনুমোদন ছিলনা ।

ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মোট ২০ জনকে ক্ষতিপূরন দিয়েছে চার্চ অব ইংল্যান্ড। গত রোববার ১১ জানুয়ারি লন্ডনের ডেইলি মেইল অনলাইনে তেরেসার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তেরেসা জানান, ১৯৮১ সালে সে ১৪ বছরের এক কিশোরী ছিল। তখন তাকে চার্চ অব ইংল্যান্ড পরিচালিত কেন্ডাল হাউজ নামক কেয়ার হোমে আনা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষনামতে ‘ডিসটার্বড’ মেয়েদের এখানে এনে রাখা হয়। তেরেসা বলেন, প্রথম যেদিন তাকে এখানে আনা হয় সেদিন তাকেসহ অন্যদের লাইনে দাড় করানো হয় ওষুধ নেয়ার জন্য। আমরা জানতে চাই কিসের ওষুধ। নার্সরা আমাদের তা জানাতে অস্বীকার করে। এরপর আমাকে তিন বছর ধরে চেতনানাশক ওষুধ দেয়া হয় এখানকার ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী । আসলে ওই ডাক্তার আমাদের ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালিয়েছেন দীঘদিন ধরে যা পরে উৎঘাটিত হয়।

চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের মত কোন হিংস্র বা বেপরোয়া আচরন আমি কখনো করিনি। কিন্তু দিনের পর দিন আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ানক এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। শুধু আমি নই অন্য আরো অনেকের ওপর এ বর্বরতা চলে। শিশুদের ওপর পরিচালিত এ বর্বরতাকে তারা থেরাপী বলে চালায়। ওষুধ প্রয়োগের সময় আপত্তি করলে নার্সরা আরো বেশি ওষুধ দিয়ে একেবারে শান্ত করে দিত আমাদের। সম্মোহিত অবস্থায় কখনো কখনো মনে হত আমি তিনটি ডানা দিয়ে উড়ছি। অসংখ্য কীটপতঙ্গ আমার বিছানার ওপর বেয়ে বেয়ে উঠছে। অবচেতন অবস্থায় কখনো কখনো আমার ওপর চলা তাদের হিংস্রতার প্রতিবাদ করতে চাইতাম । কিন্তু আবার মনে ভেসে উঠত আমাকে শক্তিহীন করে রাখা হয়েছে; আমি চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবনা এখন।

সাক্ষাৎকারে তেরেসা জানান, কেয়ার হোমটি বাইরে থেকে দেখতে খুবই সুন্দর একটি বসবাসের বাড়ি বলে মনে হয়। ১৮ জন মেয়ে বসবাস করতে পারে বাড়িটিতে। আসলে ওটি একটি ভয়ানক নির্যাতন কেন্দ্র এবং বন্দীখানা মাত্র।

তেরেসা বলেন, কেয়ারহোমে কিশোরীদের ওপর যে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়েছে তা সাধারনত পারকিনসন রোগী এবং খুবই বেপরোয়া ধরনের মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে দশগুন বেশি মাত্রার চেতনানাশক তার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। According to her case files, Teresa was given drugs including the anti-psychotics Haloperidol, Droleptan and Depixol. She was also given the tranquillisers valium and diazepam at up to ten times the current recommended dose.

তেরেসা জানান ইনজেকশন পুশ করার সময় তাকে ছয়জন মিলে মাটিতে চেপে ধরত এবং ধস্তাধস্তির কারনে মাঝে মাঝে তার মুখের চামড়া ছিলে যেত । তাদের কথার প্রতিবাদ করলে হিংস্রগতিতে তারা ঝাপিয়ে পড়ত তার ওপর। কেয়ার হোমের কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট পেরিনপানায়াগাম মেরেনতিরান এ ওষুধ প্রেসক্রাইব করত। তার নোটপ্যাডে লেখা থাকত সাইকোথেরাপিস্ট টু দি হোম অফিস। মেরেনতিরানের থেরাপী নিয়ে ১৯৮০ সালে একটি টিভি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হবার পর তা নিয়ে বিতর্ক হয় কিন্তু তারপরও চার্চ অব ইংল্যান্ডের কেয়ার হোমে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
কেয়ারহোম


এই ধরনের কেয়ারহোমগুলোতেই চলত নির্যাতন

তেরেসা ১৯৮৪ সালে ছাড়া পান । মানসিক এবং শারিরীক উভয় দিক দিয়ে তিনি তখন বিধ্বস্ত। লিখতে এবং পড়তেও তিনি ভুলে গিয়েছেন তখন। ১৯৮৬ সালে কেয়ার হোমটি বন্ধ করে দেয় সরকার একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর। মেরেনতিরান ১৯৮৮ সালে মারা যায়। তার কোন বিচার হয়নি।

তেরেসা কেয়ার হোম থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন একসময়। এরপর তিনি তার অতীত নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের অনুসন্ধান শেষে তিনি জানতে পারেন তাদের ওপর মানসিক রোগের ওষুধের পরীক্ষা পরিচালনা এবং তাকে সহ কেয়ার হোমের অন্যান্য মেয়েদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহারের কথা। তেরেসার বয়স এখন ৪৮।

তেরেসা জানান, তিনি চান চার্চ এ ঘটনার দায় স্বীকার করুক এবং জনসম্মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করুক। আমি সেন্টারবুরির বিশপের সাথে দেখা করতে চাই এবং তাকে এ কথা বলতে চাই। আমি চাই বিশপ জাস্টিন আমার সামনে দাড়িয়ে বলুক আমি চার্চ অব ইংল্যান্ড এর পক্ষ থেকে তুমি, তোমার মত ক্ষতির শীকার অন্য যেসব মেয়ে রয়েছে তারা, তোমাদের সন্তান এবং সম্ভবত তোমাদের নাতি নাতনীদের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

তেরেসা বলেন এটা না হওয়া পর্যন্ত আমি আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব।

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে