Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.9/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১২-২০১৫

তথ্যপ্রযুক্তিতে ৪ বছরের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন পলক

মিজানুর রহমান সোহেল


তথ্যপ্রযুক্তিতে ৪ বছরের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন পলক

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি- দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে ধারাবাহিক অর্জনের অংশ হিসেবে এবার আগামী ৪ বছরে এ খাতের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি আজ সোমবার সকালে বিসিসি ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ৪ বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সাতটি বিষয়বস্তুকে সামনে রেখে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তিতে রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্ট (আইনি কাঠামো), মানব সম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো, ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়ন), আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তির নতুন গন্তব্য এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্বভার গ্রহণের পর দেশের প্রযুক্তি খাতের সব ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আমাদের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করি এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত গ্রহণ করি। মূলত সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা একটি যুগোপযোগী এবং কার্যকর আইসিটি ইকোসিস্টেম গঠনের লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করি। এ লক্ষে গৃহীত গত ১ বছরের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমূহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্ট (আইনি কাঠামো)
* ২০০৯ সালে প্রণীত আইসিটি পলিসিটি আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষে সংশোধিত আইসিটি পলিসি-২০১৫ এর চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে যা মন্ত্রীসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
* ই-সার্ভিসসমূহকে আইনি কাঠামো প্রদানের লক্ষে ই-সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
* হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ সংশোধন করা হয়েছে এবং উক্ত আইনের আওতায় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
* বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। সাইবার অপরাধ দমনে আমরা সাইবার সিকিউরিটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছি। শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হবে।
* তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গবেষণামূলক কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানের লক্ষে আইসিটি ফেলোশিপ চালু করা হয়েছে ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অর্থায়নের লক্ষে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংশোধনপূর্বক ইনোভেশন ফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা ৫ লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

মানব সম্পদ উন্নয়ন
* আইটি/আইটিইএস সেক্টরে দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য ১০০ জন আইটি গ্র্যাজুয়েটকে অ্যাডভান্স জাভা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বিশ্বখ্যাত ইনফোসিস টেকনোলজিস লিমিটেডে পাঠানো হয়েছে যাঁরা বর্তমানে ভারতের মহিশুরে প্রশিক্ষণরত আছেন।
* লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট এন্ড গভার্ননেন্স প্রকল্পের অধীনে মোট ৩৪,০০০ জন তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে,যার মধ্যে ২০,০০০ জনকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, ১০,০০০ জনকে শিল্প সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য Top-Up আইটি ট্রেনিং এবং বাকী ৪,০০০ জনকে ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শতকরা ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ চাকুরীর ব্যবস্থা করছে।
* লার্নিং এন্ড আর্নিং ও বাড়ী বসে বড়লোক কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রায় ২৬,০০০ জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে ১২,০০০ জন নারী।
* আরো ৫৫,০০০ জনকে আগামী ২ বছরে লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
* হাই-টেক পার্কের অধীনে আইটি/আইটিইএস সেক্টরে কর্মরত ১,০০০ জন মধ্যম পর্যায়ের পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
* হাই-টেক পার্কের অধীন Skill Enhancement কর্মসূচীর আওতায় ৩,০০০ জনকে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে আমরা ১,০০০ জনের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছি এবং ১,৪৫০ জনের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

অবকাঠামো:
* বিসিসি’র আওতায় Tier-3 সার্টিফায়েড ডাটা সেন্টারের সম্প্রসারণ করা হয়েছে যার ধারণ ক্ষমতা (Storage Capacitz) ৭৫০ টেরা-বাইট, ব্যান্ডউইড্থ ক্যাপাসিটি ১ জিবিপিএস। আগামী বছরের মধ্যে এর ধারণ ক্ষমতা ২ পেটা-বাইটে উন্নীত করা হবে।
* সারাদেশের সব জেলাকে ৩-জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় আনা হয়েছে, এই বছরের মধ্যে সব উপজেলাকে ৩-জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় আনা হবে এবং আগামী বছরে ৪-জি সেবা চালু করা হবে।
* দেশে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইড্থ চাহিদা মেটানোর আগাম পরিকল্পনা হিসেবে, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ২০১৪ সালে আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল: SEA-ME-WE-5 কসসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি বদ্ধ হই। ফ্রান্সের এলকাটেল এবং জাপানের এনইসি কর্পোরেশন এই সাবমেরিন কেবল স্থাপনের কাজ সম্পাদন করছে।
* বাংলা গভনেট ও ইনফো সরকার প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের প্রায় সব উপজেলাকে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৮,১৩২ টি সরকারি সংস্থা অভিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। বিসিসি থেকে সচিবালয় পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়কে ফ্রি ওয়াই-ফাই-এর আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।
* ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার টেস্টিং ল্যাব, নেটওয়ার্ক ল্যাব, রোবোটিক্স ল্যাব, অ্যানিমেশন ল্যাবসহ নানা ধরণের ১৫টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।
* National Enterprise Architecture and Interoperabilitz Framework তৈরির জন্য বিশ্বখ্যাত কোম্পানি Earnest Young এর সাথে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। ফলে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্ত:সংযোগ এবং পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান সহজতর হবে।
* সারাদেশের ৩,৫০০ স্কুলে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়ন):
* কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে ডেভেলপার নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যশোর হাই-টেক পার্কের ১ম পর্যায়ের কাজ আগামী মার্চে শেষ হবে। হাই-টেক পার্কসমূহ স্থাপনের মাধ্যমে আগামী ৪ বছরে ৭০,০০০ দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
* এমপ্লয়ী ইনসেনটিভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চাকুরীতে নিয়োগ দানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
* আইটি/আইটিইএস সেক্টরের ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে CMMI-3, CMMI-5, ISO:9001, ISO:27001 সার্টিফিকেশন লাভে সহায়তা করা হয়েছে।
* বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান Tholons এর মাধ্যমে আইসিটি খাতের উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
* আইটি/আইটিইএস ব্যবসা হতে উদ্ভূত আয়কে আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
* বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমজিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মোবাইল অ্যাপ্স এবং গেমসের বাজার হবে ৩.৫ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এই বিশাল বাজারে সুবিধা গ্রহণের লক্ষে মোবাইল অ্যাপ্স ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রায় ৩,৫০০ মোবাইল অ্যাপ্স ডেভেলপার তৈরি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের জন্য ইতোমধ্যে ২৫ টি মোবাইল অ্যাপ্স উদ্বোধন করা হয়েছে। আরো ৫৭৫ টি মোবাইল অ্যাপ্স তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
* ব্র্যাকের সাথে যৌথভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।
* সারাদেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে এসে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাবলিক ওয়েব পোর্টাল “জাতীয় তথ্য বাতায়ন” চালু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাকীর্তি, ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ৪০ হাজারেরও বেশী ছবি সংযোজন করা হয়েছে। রয়েছে ১৫ লাখেরও বেশী কন্টেন্ট।
* এছাড়াও শিক্ষক বাতায়ন, তথ্য বাতায়ন, সেবাকুঞ্জ ও ফর্মস পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
* দৈনন্দিন ১০টি নাগরিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশে প্রায় ১৭,০০ প্রোগ্রামারদের নিয়ে টানা ৩৬ ঘণ্টার ন্যাশনাল হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
* ই-সেবায় অনন্য অবদান রাখায় এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে, গত ১০জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা (আইটিইউ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচীকে ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্যা ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS) ক্যাটাগরিতে WSIS +১০ পুরস্কারে ভূষিত করে।
* তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের অগ্রগতিতে অনন্য অবদান রাখায়, গত ০১ অক্টোবর মেক্সিকোর গুয়াদালহারা শহরে World Information Technology and Services Allience (WITSA) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে “পাবলিক সেক্টর এক্সিলেন্স” ক্যাটাগরিতে “গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করে।
* গত ২৭ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা(আইটিইউ)’য় বাংলাদেশ টানা ২য় বারের মত কাউন্সিল সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে।
* শিক্ষা ও উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ SOUTH-SOUTH COOPERATION VISIONARY AWARD প্রদান করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মাননীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তির নতুন গন্তব্য
* বিশ্বখ্যাত ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ফার্ম এ টি কারনি (A T Kearney) কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল সার্ভিস লোকেশন ইনডেক্সে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, কানাডা, স্পেন, যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে ২৬তম স্থান দখল করে। এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, ওই প্রতিবেদনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে Financial Attractiveness এ বাংলাদেশের অবস্থান সবার শীর্ষে।
* অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওডেস্কে বাংলাদেশ ৩য় স্থান অর্জন করেছে।
* সিলিকন ভ্যালি-ভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান “ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইনকরপোরেশন” ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
* দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মোবাইল পেনিট্রেশন (ঘনত্ব) সর্বোচ্চ (৭৮%)। ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ২৭.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যা আগামী চার বছরে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা:
* কোরিয়া সরকারের সহায়তায় আইসিটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে।
* সারাদেশের সব মানুষকে একটি নাম্বারে নাগরিক সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের উদ্দেশে ন্যাশনাল কল সেন্টার তৈরি করা হবে।
* অনলাইনে সেবা প্রদানের কলেবর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষে বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম Tier-4 সার্টিফায়েড ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে এবং সেখানে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে এবং এ-Cloud স্থাপন করা হবে।
* ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি স্থাপন করা হবে।
* উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতাকে অনুপ্রেরণা প্রদান ও বাস্তবায়নের জন্য Academy for Innovation, Design Excellence(IDEA) স্থাপন করা হবে।
* কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কেটে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার জন্য মোবাইল গেমস সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কর্মসূচী গ্রহণ করে নিজেদেরকে তৈরি করে নেয়া হচ্ছে। চলমান মোবাইল অ্যাপ্স কর্মসূচীর অভিজ্ঞতার আলোকে এবং মোবাইল অ্যাপ্স কর্মসূচীর বিকাশের স্বার্থে ১টি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।
* একটি যুগোপযোগী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি স্থাপন করা হবে।
* বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহারের ফলে প্রতিদিন আগের চেয়ে আরো অনেকগুণ বেশি তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, ফলে বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস্ একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই খাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বিগ-ডেটা অ্যানালিটিকস্ ল্যাব স্থাপন করা হবে এবং এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
* সারাদেশে আরো ১০ টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে।
* আমাদের দেশে উৎপাদিত এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সফটওয়্যারগুলোর মান নির্ধারণের জন্য সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে।
* নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্য ইনকিউবেশন স্থাপন করা হবে।

সব শেষে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রযুক্তি বিশারদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ২৯ ডিসেম্বর দেশের প্রথম বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় “ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি চলমান কোন কার্যক্রমের সফলতা পরিমাপ করার চেয়ে অধিকতর যুক্তি সংগত হলো প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসেব মেলানো। ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম ২০০৯ সালে শুরু হয়ে এখনো চলমান রয়েছে বিধায় আজ শুধু বিগত এক বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাত কতটুকু পথ পাড়ি দিলো এবং এখনো কতটুকু পথ পাড়ি দিতে হবে তার একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হলো মাত্র। আপনারা প্রত্যেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশীদার এবং আপনাদের মাধ্যমে বাংলার ১৬ কোটি জনগণ আমাদের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হবেন এবং আমাদেরকে বরাবরের মতোই সমর্থন যুগিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেই প্রত্যাশাই রইল। দেশের সচেতন জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদেরকে নির্বাচিত করে দ্বায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন বিধায় আজ আপনাদের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এজন্য দেশের জনগণকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের গণমাধ্যমের নি:শর্ত সমর্থন আমাদেরকে প্রেরণা যুগিয়েছে। আপনাদের সে অনুপ্রেরণাকে হৃদয়ে ধারণ করে আরো অন্তহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। তাই অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আপনাদের একান্ত সমর্থন কামনা করছি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে