Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৭-২০১২

প্রান ছুঁয়ে গেল ফারহানা শান্তা'র ‘কন্ঠে নিলেম গান’

।। দেশে বিদেশে রিপোর্ট।।


প্রান ছুঁয়ে গেল ফারহানা শান্তা'র ‘কন্ঠে নিলেম গান’
সময় তখন ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। একঝাঁক শুভাকাঙ্খী এবং অগণিত সঙ্গীত ভক্তদের সুরের মূর্ছনায় ডুবিয়ে দিতে গত ৩ মার্চ একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান ‘কন্ঠে নিলেম গান’ এর মঞ্চে এসে বসলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ফারহানা শান্তা। যেমনটি প্রথম থেকেই আশা করা গিয়েছিল সন্ধ্যা হতেই তার প্রতিফলন দেখা দিল। পায়ে-পায়ে লম্বা করিডোর পেরিয়ে হলের ভেতর গিয়ে আসন নিলেন টরন্টোর সঙ্গীত পিপাসুদের বড় একটি দল। তাদের জানা ছিল আজ তারা শুনবেন রবীন্দ্র সঙ্গীত, লালন গীতি, পুরানো দিনের ছায়াছবির গান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আহমেদ হোসেন। তার সাথে মঞ্চে এসে বসেছিলেন তিনজন গুণী আবৃত্তি শিল্পী রাশেদা মুনীর, দিলারা নাহার বাবু, ও সুমি রহমান। অনুষ্ঠান সময় মত আরম্ভ হবে ভেবেই লোক সমাগম হলো ঘড়ি দেখে। দেখতে দেখতে হল পূর্ণ হয়ে গেল। এবার কন্ঠ শোনার পালা। পর্দা উঠল কবিগুরুর ‘ওহে সুন্দর মম গৃহে আজি’গানটি দিয়ে। অরুনা হায়দারের নৃত্য প্রতিষ্ঠানের চারজন শিশুশিল্পী রিংঙ্কেল, অর্নি, ফারিয়াল এবং নোহা এই গানটি শুরু হতেই মঙ্গলপ্রদীপ হাতে নিয়ে মঞ্চে আলোর ছটা দিয়ে গেল। মঞ্চ এবার শুদ্ধ হলো, প্রস্তুত হল। শুরু হল সুর ও বাণীর পালাবদলের খেলা। লাল টুকটুকে শাড়ি এবং পাঞ্জাবি পরা আবৃত্তিশিল্পীদের মাঝখানে শুভ্র বসনে বসে থাকা ফারহানা শান্তার কন্ঠ মায়ার জাল বুনে যেতে লাগল। ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’, ‘ও যে মানে না মানা’, ‘আমি তোমার প্রেমে হব’, ‘যেতে যেতে একলা পথে’ আরো কত যে ভাল লাগা গান এল পালা করে। ছোট্র মেয়ে শ্রেয়া আর নাদিয়া এরি মাঝে এসে হাত পা ঘুরিয়ে নেচে গেল হাওয়ায় দুলে দুলে। চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল তেইশটি রবীন্দ্রসঙ্গীত। বয়স আশির কোঠায় এমন একজন শ্রোতা এসে প্রশ্ন করলেন আর বুঝি রবীন্দ্রনাথের গান হবে না। বড় আশা করে বসেছিলাম এই গুণী শিল্পীর কন্ঠে ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু’ গানটি শুনবো। না, তার সেই গানটি আর শোনা হল না। কেননা গানগুলো আগে থেকেই নির্বাচিত। তারই সাথে মিল করে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল গানের স্বরলিপি, চিত্রায়িত ছবি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, দেশের মাটি, কলাপাতার দোলা, ঝর্ণার ক্ষরিত জলধারা। দেখে মনে হয়নি বরফের দেশে বসে গান শুনছিল কেউ, গান যেন ভেসে আসছিল নদীর বাঁক বেয়ে কিংবা গ্রাম্য মেলা থেকে। ‘প্রান চায় চক্ষু না চায়’ গানটির সাথে স্মরণী নামের এক ষোড়শী এসে নৃত্য পরিবেশন করে গেল। স্মরণীর মত নতুন প্রজন্মের মেয়েগুলো শান্তার গানের সাথে নেচে দর্শকদের কাছ থেকে হাতখোলা করতালি নিয়ে গেল। এই খুদে তারকারদের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিল নতুন প্রজন্ম আর তাদের পূর্ব পুরুষদের ঐক্যবদ্ধ মিলনের মাঝেই টিকে থাকবে বাংলা সংস্কৃতি।

‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো মোরে’ গানটি না হলেই ভাল হতো। কেননা সেই গানের সমাপ্তিতেই এল বিরতি। আধ ঘন্টার বিরতির সবটুকু সময় বাইরে থাকা সম্ভব হয়নি অনেকের পক্ষে। আবারো হল কানায় কানায় পূর্ন হলো। বিরতির পর প্রথম গান ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্য’র আগে’। কথা ছিল এই পর্বে হবে মিশ্র গান। হলোও তাই। একে একে শান্তা গাইলো ‘আজ নয় গুনগুন গুঞ্জন প্রেমে’, ‘আমি মেলা থেকে’, ‘তখন তোমার একুশ বছর’, ‘মনে কর যদি’র মতন পছন্দের সব গান। একজন প্রতিভাবান নৃত্য শিল্পী আর্শিয়া লাল টুকটুকে শাড়ি পরে নেচে গেল ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’ গানের সাথে। শান্তার কন্ঠে যখন ‘ও মোর ময়না গো’ সুর করে উঠলো তখন করতালিতে ফেটে পড়লো পুরো অডিটরিয়াম। এভাবেই গাওয়া হল বাকি সব গান। ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’ লালনের এই গানটি একনাগাড়ে চললো ছয় থেকে সাত মিনিটের মতন। কেননা যিতু প্রকাশের হাতের বাঁশি, তানজির আলম রাজিবের ড্রাম, বেজ গিটারের পল হালিম, লীড গিটারের শাওন রহমান এবং কি বোর্ডের সামিউল ইসলাম অপু সবাই লালনের এই গানটির সাথে নিজেদের স্থিতির জানান দিয়ে গেল। শান্তার আকশচুম্বী সুরের উচ্চতাকে একবার বাঁশিওয়ালা তার বাঁশিতে বন্দী করে কতক্ষন খেলা করার পর ফিরিয়ে দিল শান্তার কাছে। শান্তা গাইছে ‘ওহে দয়াময়’ ঠিক সেই মুহুর্তে তার কন্ঠ থেকে সুর কেড়ে নিল রাজিবের ড্রাম। আবার শান্তার কন্ঠ ছুঁয়ে লালনের বিখ্যাত গান ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’ গিটার এবং কি-বোর্ডের উপর আপন মহিমায় খেলা করে গেল । শ্রোতা দর্শকদের মুহুমুর্হু করতালির মধ্যে শুরু হল অনুষ্ঠানের সব শেষ গান শাহ আব্দুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম'। দ্বিতীয় পর্বে মোট একুশটা গান তালিকা ভুক্ত থাকলেও সময়ের অভাবে ষোলটা গানের বেশি শিল্পী গাইতে পারেনি। হটাত করেই যেন শেষ হয়ে গেল সাড়ে তিন ঘন্টার সঙ্গীত সন্ধ্যা। তাই কিছুটা অতৃপ্তি নিয়ে ফিরে গেল বেশ কিছু দর্শক। চলে যেতে হল ঠিকই তুবুও তারা গানের রেশ নিয়ে গেল সাথে করে। যেমন একজন শ্রোতাকে দেখা গেলো ফারহানা শান্তা ও আশিক ওয়াহেদ আশিফের দ্বৈত কন্ঠে গাওয়া ‘আয় খুকু আয়’ গানটি গাইতে গাইতে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


অনেক দিন অপেক্ষার পর অত্যন্ত চমৎকার একটি সঙ্গীত সন্ধ্যার সাধ পাওয়া গেল। আলো ব্যবস্থাপনার সামান্য ত্রুটি, সাউন্ড সিস্টেম থেকে অনাকাঙ্খিত ক্ষনিকের একটি শব্দ এই সমস্ত টুকিটাকি বাদ দিলে অনুষ্ঠানটির কথা অনেক দিন মনে থাকবে টরন্টোর দর্শক শ্রোতাদের। বড় পর্দায় ভিডিও প্রেক্ষণ, সাথে স্লাইডশো, নাচ কবিতা এবং ধারাবর্ণনার হাত ধরে একক কন্ঠের এই সফল গানের অনুষ্ঠানের আমেজ কাটাতে নতুন কোন শিল্পী এসে কবে সকলকে নাড়া দিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশায় বসে রইলো টরন্টোর সঙ্গীত ভক্তের দল।  

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে