Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৬-২০১২

তিন বছরে ৯ হাজারেরও বেশি হত্যাকাণ্ড : গুপ্তহত্যা ৭১

তিন বছরে ৯ হাজারেরও বেশি হত্যাকাণ্ড : গুপ্তহত্যা ৭১
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। গত তিন বছর নিয়ন্ত্রণহীন ছিল সারাদেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি। তবে এ সময় বড় ধরনের জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা ঘটেনি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের অপরাধী রাজনৈতিক ব্যানারে থেকে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের বেপরোয়া সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত জনজীবন। হত্যা, ডাকাতি, পুলিশ-র‌্যাব পরিচয়ে মানুষ গুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনসহ সব ক্ষেত্রেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবস্থা নাজুক। এ সরকারের আমলেই রাজনৈতিক বিবেচনায় ৭ হাজার একশ’ জনের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও মানবাধিকার সূত্রগুলো বলেছে, গত তিন বছরে সারাদেশে একাধিক জোড়া খুন এবং শিশু ও রাজনৈতিক নেতাসহ ৯ হাজার ১০৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক খুনের ঘটনাই ঘটেছে প্রায় ছয় শতাধিক। হত্যাকাণ্ডের দু-একটির ক্লু উদ্ঘাটিত হলেও বেশিরভাগের রহস্য থেকে গেছে অজানা।
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার ও থানাগুলোতে শাসক দলের আনাগোনা বন্ধ, পুলিশ ও র‌্যাবকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যানারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড মওকুফ করে দিলে কিছুতেই আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দফায় দফায় বৈঠক করছেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের ধরতে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে চেকপোস্ট বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসি-এসপিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কড়া নজরদারির মধ্যেও চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রকাশ্য খুনের ঘটনা ঘটছে। ঢাকায় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ ও র‌্যাব। মাঝে মধ্যে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থেমে নেই। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ছিল সারাবিশ্বে আলোচিত। এ তিন বছরে জঙ্গিগোষ্ঠীর নাশকতার ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের তৎপরতা ছিল বেশি। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে চলেছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়, হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড মওকুফের ঘটনা ছিল বেশি আলোচিত।
মানবাধিকার সূত্রগুলো বলেছে, অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। মহাজোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গণহারে মামলা প্রত্যাহার করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। কেউ কাউকে তোয়াক্কা করছে না। গত তিন বছরে ৭১০০ জনকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী আখ্যায়িত করে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাদের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে বেশির ভাগ আসামির বিরুদ্ধেই হত্যাসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।
৩ বছরে মহাজোট সরকারের আমলেই আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়েছে। তার মধ্যে নাটোরে যুবদল নেতা সাব্বির আহম্মদ গামা হত্যা মামলায় ২১ জন ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় একজন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আহসান হাবীব টিটুর দণ্ড মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি। এ নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পুলিশের হিসাবে অপরাধ : ২০০৯ সালে সারাদেশে ২৬১৮টি হত্যাকাণ্ড, ২০১০ সালে ২৫১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০১১ সালে ৩৯৭৪টি হত্যা, ৮০২টি অপহরণ, ৬২৭টি ডাকাতি, ১০৩৭টি দস্যুতা, ৯১১৩টি চুরির মামলা হয়। ডিসেম্বরে ৩৩১টি হত্যা, ৮৬টি দস্যুতা, ৫২টি ডাকাতি, ৬৬টি অপহরণ ও ৭৫৯টি চুরি, নভেম্বরে ৩৪৬টি হত্যা, ৮৭টি দস্যুতা, ৪৭টি ডাকাতি, ৫৯টি অপহরণ ও ৬৬০টি চুরি, অক্টোবরে ৩৫৬টি হত্যা, ৯৬টি দস্যুতা, ৫২টি ডাকাতি, ৮০টি অপহরণ ও ৭৯৩টি চুরি; সেপ্টেম্বরে ৩৫৮টি হত্যা, ৬৯টি দস্যুতা, ৫৩টি ডাকাতি, ৭১টি অপহরণ ও ৮০৪টি চুরি; আগস্টে ৩৮০টি হত্যা, ৯৯টি দস্যুতা, ৫১টি ডাকাতি, ৬৯টি অপহরণ ও ৭৯৫টি চুরি, জুলাইয়ে ৩৪১টি হত্যা, ৮৩টি দস্যুতা, ৪৭টি ডাকাতি, ৮০টি অপহরণ ও ৭২৯টি চুরি; জুনে ৩৩৬টি হত্যা, ৬৪টি দস্যুতা, ৪৪টি ডাকাতি, ৪৮টি অপহরণ ও ৬৫৮টি চুরি, মে মাসে ৩২৫টি হত্যা, ৮৭টি দস্যুতা, ৫১টি ডাকাতি, ৬৫টি অপহরণ ও ৭৩১টি চুরি; এপ্রিলে ৩২৭টি হত্যা, ৯০টি দস্যুতা, ৩৬টি ডাকাতি, ৮২টি অপহরণ ও ৭১৫টি চুরি; মার্চ মাসে ৩১৬টি হত্যা, ৮৪টি দস্যুতা, ৬২টি ডাকাতি, ৭৪টি অপহরণ ও ৭২০ চুরি, ফেব্র“য়ারি মাসে ২৮০টি হত্যা, ৯৯টি দস্যুতা, ৬৩টি ডাকাতি, ৬৩টি অপহরণ ও ৬৯৩টি চুরি; জানুয়ারি মাসে ২৭৮টি হত্যা, ৯৩টি দস্যুতা, ৬৯টি ডাকাতি, ৪৫টি অপহরণ ও ৭৭৮টি চুরির ঘটনায় মামলা হয় বলে জানা গেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে