Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৩ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (189 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০১-২০১৫

সাগরে অচেতন সাইফুল এখন মিলিওনিয়ার

সাগরে অচেতন সাইফুল এখন মিলিওনিয়ার

মানামা, ০১ জানুয়ারি- সাত মাস অচেতন থাকা বাংলাদেশি জেলে সাইফুলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খবরটা শুনেই থমকে গেলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মহিদুল ইসলাম।

ভর সন্ধ্যা। ১১ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে বাড়ির লনে ফুটবল খেলছিলেন শ্রম কাউন্সেলর।

অ্যাম্বাসেডর কেএম মমিনুর রহমানের কাছ থেকে খবরটা যখন পেলেন সাইফুলকে তখন এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেক ইন শেষ। একটু পরই উড়বে প্লেন।

দ্রুত পাসপোর্ট নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলেন সাইফুলের সঙ্গে। তাকে বললেন, বলো- তুমি যাবে না।

মহিদুল ইসলাম জানেন, কেউ কোনো দেশ ছাড়তে অস্বীকার করলে কোনো পাইলট তাকে প্লেনে তুলবে না।

কপালের ঘাম মুছে ছুটলেন তিনি। এয়ারপোর্টে যখন পৌঁছুলেন ততক্ষণে বোর্ডিং হয়ে গেছে। রানওয়েতে একটু পরই দৌড় শুরু করবে প্লেন।

প্লেন উড়লো ঠিকই, কিন্তু শ্রম কাউন্সেলরের সময়োপযোগী উদ্যোগে অফলোড করে দিলো সাইফুলকে। মাত্র ঘণ্টাখানের তৎপরতায় পাল্টে গেলো নাটকের অঙ্ক।

জানা গেলো, পারস্য উপসাগরে মাছ শিকার করার সময়ে অপর এক নৌকার ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয়েছিলেন চাঁদপুরের মনু গাজীর ছেলে সাইফুল। তার বাড়ি চাঁদপুর। বছর দু’আড়াই ধরে মাছ ধরছেন পারস্য উপসাগরে।

দুর্ঘটনার পর টানা সাত মাস হাসপাতালে অচেতন ছিলেন সাইফুল। জ্ঞান ফেরার পর মাত্র ৭শ’ দিরহাম (এক দিরহাম ২০৬ টাকা) হাতে ধরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছিলো তাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, সাইফুলের এই সাত মাসের বেতন তুলে নিয়েছে অন্য কেউ। হেলথ ইনস্যুরেন্সের কোনো টাকাও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি দেশে চলে গেলে কিছুই পেতেন না।

কিন্তু এখন হেলথ ইনস্যুরেন্সের তিন হাজার সাতশ’ পঞ্চাশ দিনার পাবেন তিনি। সঙ্গে সাত মাসের বেতন। সব মিলিয়ে লাখ দশেক টাকা। মানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সাইফুল এখন মিলিওনিয়ার।

ভাঙতে ভাঙতেও তাই ফের জোড়া লেগে গেলো সাইফুলের স্বপ্ন।

ঘটনাটা ২৯ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যার। মঙ্গলবার শেষ বিকেলে সাইফুলকে পাওয়া গেলো বাংলাদেশ দূতাবাসে। শ্রম কাউন্সেলর মহিদুল ইসলাম এখন তার কাছে সাক্ষাৎ দেবতা।

দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে বললেন, তখন রাত। হিদ উপকূল থেকে ২ ঘণ্টা ধউর (পারস্য উপসাগরের ডিঙি নৌকা) বাইয়া সাগরের ভেতরে চলে গেছিনু আমরা ৩ জন। জাল টেনে তোলা ইচা (চিংড়ি) মাছ বাছতেছি তখন। হঠাৎ আর একটা নৌকা আইসা ধাক্কা দিলো আমাগোর নৌকারে। তারপর আর কিছু মনে নাই।

ওই দু্র্ঘটনায় অপর দু’জন সামান্য আহত হলেও দু’টো দাঁত ভেঙে যায় সাইফুলের। প্রচণ্ড আঘাতে মাথা ফেটে যায়। জ্ঞান হারান সাইফুল। তারপর হাসপাতালে অচেতন থাকেন সাত মাস। জ্ঞান ফেরার পর অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে তার নিয়োগকারী কোম্পানি তাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়।

ফেটে যাওয়া মাথায় আঘাতের দাগ এখনও স্পষ্ট। উপরের সারির দু’টো দাঁত যে নেই তাও বেশ চোখে পড়ে। তবে সাইফুল এখন অনেকটাই সুস্থ। স্বপ্ন দেখছেন নতুন জীবনের।

বাহরাইন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে