Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৬-২০১২

স্নায়ুবিক সংযোগ ও মেডিটেশনের সুফল নিয়ে বিজ্ঞানীদের অন্বেষা

স্নায়ুবিক সংযোগ ও মেডিটেশনের সুফল নিয়ে বিজ্ঞানীদের অন্বেষা
ঐশী জ্ঞান, অতীন্দ্রিয় চৈতন্য জ্ঞান, লোকাতীত জ্ঞান মায়াতীত জ্ঞান, নির্বাণ লাভ অতি প্রাকৃত জ্ঞান, পরম জ্ঞান, দিব্যজ্ঞান, স্বর্গীয় জ্ঞান ইত্যাদি সবই আধ্যাত্মিক জ্ঞান। আধ্যাত্মিকতা জলের মতো। যে যেভাবে নিজেকে পেতে চায় তার কাছে তা সেভাবেই ধরা পড়ে। অবশ্য লক্ষ্যের প্রতি একরৈখিক ও বিশ্বাসে অটল থাকলেই তা সম্ভব। পরম জ্ঞানের নির্যাস হলো দিব্যজ্ঞান, এ হলো সত্যকে সরাসরি উপলব্ধিময় হয়ে ওঠার ক্ষমতা; সৃষ্টির মূল সুরকে জানার পথে যে অজ্ঞতা তা দূর করার জ্ঞান হলো দিব্যজ্ঞান। ঈশ্বর প্রসঙ্গে সরল উপলব্ধি আসে আর এ উপলব্ধিটাই ঐশ্বর। শক্তিহীন ঈশ্বর কল্পনাই করতে পারি না। দিব্যজ্ঞানের দ্বারা এ শক্তি জানা হয়। জানা হয়ে গেলে অলৌকিক আর অলৌকিক থাকে না তা জ্ঞান হয়ে যায়। স্রষ্টা সম্পর্কে জানতে পারলে নিজের জ্ঞানের ক্ষুদ্রতা জানতে পারা যায়। অবশ্য দিব্যজ্ঞান জানা হলে মানুষ আর ক্ষুদ্র থাকে না। এ জ্ঞানের দ্বারা মনের জঞ্জাল দূর হয় ফলে সৃষ্টির মূল সুর প্রস্ফুটিত হয়। সৃষ্টির মহাচৈতন্যের ঋৎবয়ঁবহপু-এর সঙ্গে নিজের চৈতন্য ঞঁহরহম হয়ে যায়। ঞরসব ংবহংব জেগে ওঠে ফলে প্লাটফর্মে ংবহংব পূর্ণশক্তিতে খধহফ করে। নিজের ওপর নিজেই নির্ভর করলে নিজেই সর্বাধিকারিক (ঐরমযবংঃ ধঁঃযড়ৎরঃু) হয়ে যায় আর এ স্তরে প্রশ্নোত্তর চলে আসে নিজের ভিতর হতে। যিনি দিব্যজ্ঞানী হন তিনি নিজ তত্ত্বে নিরঞ্জন, নির্মল অর্থাৎ অবিদ্যা দোষ বর্জিত হন। সর্বোচ্চ উপলব্ধি অনুধাবনের স্তর থেকে অন্যের অবস্থা অনুধাবন সম্ভব হয়ে ওঠে। দিব্যজ্ঞানী পরশ পাথর হয়ে যান। দিব্যস্তরে পেঁৗছলে পূর্ব ধারণাগুলো ভেঙে পড়ে, সৃষ্টির মূল সুর দিব্যলোকের মতো স্পষ্ট হয়। সে তখন পূর্ণ হয়। এত নতুন সৃষ্টি। দিব্যজ্ঞানীর মাঝে হাজারো যোগসূত্র জেগে ওঠে, হয়ে ওঠেন সমন্বিত, ভারসাম্যময়, পূর্ণ; এ যেন সমুদ্র মন্থনে অমৃত লাভ। খুব খুব দূর এবং খুব খুব নিকট অবলোকনের ক্ষমতা আসে। দিব্যজ্ঞানী শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন, পরম সত্য অবলোকন করেন, যথার্থতা অর্জন করেন, বিশ্বসৃষ্টির অন্তর্যামী পুরুষে পরিণত হন, সৎ চিৎ আনন্দস্বরূপ তথা সচিদানন্দে (ঞৎধহংফবহঃধং) পরিণত হন। জড়দেহমুক্ত শুদ্ধচিত্ত, নির্বিকার, ব্রহ্মানন্দে মগ্ন হওয়ার তথা মোক্ষ লাভ করেন। বিশ্ব ব্রাহ্মা-ব্যাপী যে মহাচৈতন্য তাকে অনুধাবন, উন্মুক্তকরণ, আলোকিতকরণ, প্রকাশিত করণ, তাকে আয়ত্ত করার যে সামর্থ্য তা আধ্যাত্ম জ্ঞান। দুঃখকে জয় করার জ্ঞান, জীবের অভীষ্টতম লক্ষ্য অর্জনের জ্ঞান, বিশ্ব ব্রহ্মা-ের সকল কারণের কারণিককে জানা এবং তার রূপে রূপাকার হওয়ার জ্ঞান, চরমতম সত্যকে জানার চৈতন্য জ্ঞান। এ জ্ঞান হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। পূর্ণ ধ্যানে মগ্ন হলে অপরূপ সুন্দর অনুভবের রসাস্বাদন হয়। প্রত্যেকটি চিন্তা, কাজে তথা জীবনে ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এটি চেতনার এমন এক স্ফুরণ, উত্তরণ, জাগরণ, প্রস্ফূটন, বিকাশন যার মাধ্যমে ইন্দ্রিয়ের অগোচর বিষয়গুলো স্পষ্ট উপদ্বিময় হয়ে ওঠে। এর দ্বারা ব্যক্তি ত্রুটিমুক্ত হয়, শুদ্ধ হয় প্রভূর মাথে যোগ স্থাপিত হয়। বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা হলো পরস্পর পরিপূরক দ্বান্দ্বিক নয়। আধ্যাত্মিকতা ভিন্নমাত্রার বিজ্ঞান মাত্র। এ বিজ্ঞান যখন জানা হয়ে যাবে তখন তা হবে লৌকিক। নিউরোসাইন্টিস্টরা জানার চেষ্টা করছেন আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সময় মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে। তারা বলছেন এ সময় নিজের সাহায্য হয় ও অন্তরের শান্তি হয় এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এমনকি মৃত্যুর নিকটবর্তী অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। আধ্যাত্মিকতাকে বিস্ময়কর বলে অবহিত করা যায়। এটি চর্চার সময় মস্তিষ্কের সর্বাংশ কর্মময় হয়ে ওঠে যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। আধ্যাত্মিকতা চর্চা করে যেসব বিষয় নিয়ে : মৃত্যুর পর কী হয়? ঈশ্বর তত্ত্ব, দেব তত্ত্ব, অনন্ত অস্তিত্ব, ইন্দ্রিয়াতীত তত্ত্ব, অমরত্ব, বর্তমানময়তা, কোয়ান্টাম অতীন্দ্রিয়বাদ, অস্বাভাবিকতা নাস্তিকতাবাদ, ধর্মকে অতিক্রম করেছে এমন আধ্যাত্মিকতা, নির্বস্ত তত্ত্ব, অতি প্রাকৃতিক শক্তি, আত্ম তত্ত্ব, রহস্যমূলক তত্ত্ব, ধ্যান, যে প্রশ্নের উত্তর নেই, বিশ্ব কোথা হতে এলো, কেন আমরা এখানে? সমাধিস্থিত অবস্থায় ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ সংক্রান্ত ইত্যাদি। আধ্যাত্মিকতার দর্শনালোকে আমরা বুঝতে শিখি যে বিশ্বাস হলো এমন বিষয় যা ঈশ্বরের ইচ্ছাকে পূর্ণ করে, আমাদের হলো এমন বিষয় যা ঈশ্বরের ইচ্ছাকে পূর্ণ করে, আমাদের আত্মাকে রক্ষা করে? স্বর্গীয় তত্ত্বাবধানে কিন্তু প্রাকৃতিক পদার্থ বিজ্ঞানের ব্যবহার এ জগৎ সৃষ্টি এমন শিক্ষা দেয় ইত্যাদি। আধ্যাত্মিকতা অন্তর্জীবনকে বিকশিত করে, জীবনের গভীরতম মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করে, মহাসত্যের সঙ্গে যুক্ত করে যার ফলে উপলব্ধি করার ক্ষমতাটাই বেড়ে যায়। সমাজ, প্রকৃতি সৃষ্টি, নির্বস্ত সত্তা, ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতা, প্রকৃতির দিব্যভাব, সৃষ্টির অখ-তা, বিশ্বের তাবৎ সত্তা পরস্পর নির্ভরশীল ইত্যাদি বুঝতে শেখায়। এর ফলে যে আবেগ জন্মে তা চিন্তা কর্মকে পুষ্ট করে। মানসিক শক্তি অতিক্রম করে এক উচ্চতর মাত্রায়। সুখ, সুন্দর, ভালোবাসা, ক্ষমা, বিশ্বাস, প্রার্থনা, সৃজনশীলতা ইত্যাদি অনুভবের মাত্রার ওপর নির্ভর করে তা মানসিক হবে নাকি আধ্যাত্মিক পর্যায়ে পর্যবসিত হবে। দৃশ্যমান জগতের ঊধর্ে্ব থেকে যখন কোনো বিষয় বা সত্তা অবলোকন হয় তখন তা আধ্যাত্মিক। এর বদৌলতে আমরা বুঝতে শিখি জীবনের চূড়ান্ত মূল্যকে। অনেকেই আধ্যাত্মিকতাকে ধর্মের বিষয় বলে মনে করেন। সমবেদনা, নিঃস্বার্থতা, পরার্থবাদ, সেবা ইত্যাদির উৎকর্ষ সাধিত হয় আধ্যাত্মিকতা চর্চার ফলে। রোগ নিরাময়ে আধ্যাত্মিকতার অবদান রয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে রোগ নিরাময়ের বিষয় মানসিক সুফলের অংশে আলোচিত হওয়া উচিত। এটা নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গি, রোগের ধরন, নিরাময়ের মাত্রা, ধ্যান চর্চার গভীরতা ইত্যাদির ওপর। নেদারল্যান্ডে ১০ বছর ধরে গবেষণামূলক অনুসন্ধান দেখা যায় ধর্মযাজকরা সাধারণ মানুষের চেয়ে ৮ দশমিক ৯ বছর বেশি বাঁচেন এবং ধর্মযাজিকাদের ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ৬ বছর। পুরুষ ও মহিলা উভয় যাজকদেরই ক্যান্সার, হৃদরোগের ক্ষেত্রে ৬০-৬৬ ভাগ মৃত্যু ঝুঁকি কম হয়। গধড়হরঃ ৎবপড়মহরঃরড়হ : খবধঢ়ৎড়ম : ২০০১-২০১০: এ দশক ধরে সর্বোচ্চ হাসপাতালগুলোয় অনুসন্ধানের দেখা যায় প্রভুর প্রতি বিশ্বাস, প্রার্থনা, আশা, ক্ষমা, সামাজিক সমর্থন তথা সমবেদনা, অন্তরের শান্তির মতো বিষয়গুলোর স্বাস্থ্যের ওপর বিশাল ক্রিয়া তথা রোগ নিরাময়ের বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। আরো দেখা যায় ধার্মিকরা হন দীর্ঘজীবী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে