Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.1/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৬-২০১৪

সবজি, ভ্রমণ–টিকিট সবই অনলাইনে

সবজি, ভ্রমণ–টিকিট সবই অনলাইনে

বাজার-সদাই থেকে শুরু করে বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিটও এখন অনলাইনে কেনা যায়। জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে কেনাকাটার অনলাইন সাইটে (পোর্টাল) চলছে জমজমাট ব্যবসা। ঈদ-পূজা কিংবা যেকোনো উৎসবে এখন অনলাইন পোর্টালগুলোর মাধ্যমে কেনাকাটা বাড়ছে। নগদের পাশাপাশি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমেও অনলাইনে বিল পরিশোধ করা যায়। 
সম্প্রতি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের মাধ্যমেও কেনাকাটার বিস্তার ঘটছে। ফেসবুকভিত্তিক বেশ কিছু দোকান বা ফ্যাশন হাউস গড়ে উঠেছে। অনলাইন কেনাকাটার প্রসার এখন রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। 
অনলাইনে কেনাকাটার বিস্তার ঘটলেও কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার কিংবা কোনো বেসরকারি সংস্থার কাছে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই।
তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, অনলাইন কেনাকাটার তথ্যাদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে অন্য দেশেও নেই। আর বাংলাদেশে না থাকার কারণ অনলাইনে যাঁরা কেনেন, তাঁরা বেশির ভাগই নগদ অর্থ দিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ১-২ শতাংশ নিয়মিতভাবে অনলাইনে বেচাকেনা করেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৩০ লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। 
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিবছর গড়ে দেড় শ থেকে দুই শ কোটি টাকার পণ্য অনলাইনে বেচাকেনা হয়। প্রতিবছরই অনলাইনে বেচাকেনা বাড়ছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে।

তবে বাংলাদেশিরা কি ধরনের ওয়েবপোর্টালে যেতে পছন্দ করেন, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় গুগল ট্রেন্ডসের ২০১৩ সালের হিসাবে। এতে দেখা গেছে, গুগলের মাধ্যমে যেসব ওয়েবসাইট বেশি খোঁজা হয়, এর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেচাকেনার ওয়েবসাইট বিক্রয়ডটকম। তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল এসএসসির ফলাফল অনুসন্ধান। এইচএসসির ফলাফল অনুসন্ধান দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
তবে পরীক্ষার ফলাফল অনুসন্ধানের দিকটি দু-এক দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই নিয়মিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিবেচনায় আনলে ফেসবুকের পরেই বেচাকেনার ওয়েবপোর্টালে বেশি প্রবেশ করেন বাংলাদেশিরা।
অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ওয়েবপোর্টাল বিক্রয়ডটকমের যাত্রা শুরু ২০১২ সালের জুন মাসে। 
বিক্রয়ডটকমের বিপণন ব্যবস্থাপক ইশিতা শারমীন বলেন, শুরুতে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ক্রেতা পণ্য কিনতে এই ওয়েবপোর্টালে প্রবেশ করতেন। এখন প্রতি মাসে গড়ে ২০ লাখ আগ্রহী ক্রেতা নিয়মিতভাবে এই ওয়েবপোর্টালে যান। প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার পণ্য কেনাবেচার বিজ্ঞাপন যুক্ত হয় বিক্রয়ডটকমে। এখানে বিজ্ঞাপন বিনা মূল্যে দেওয়া যায় না। শুধু পণ্যের ছবি, দাম, বিক্রেতার যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানা দিতে হয়।
ওয়েবপোর্টালটিতে ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৫টি পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। 

এ যেন হাট:

বিশ্বখ্যাত একটি বেসরকারি সংস্থাতে (এনজিও) চাকরি করেন উত্তরার বাসিন্দা কামরুন নাহার। প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় বাসা থেকে বের হন তিনি। অফিস শেষে বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে যায়। অফিস সময় আট ঘণ্টা হলেও যানজটেই কেটে যায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। ছুটির দিনে নিজের পরিবারের দৈনন্দিন কাজ করেন, বাচ্চাদের সময় দেন। ফলে দৈনন্দিন কেনাকাটা করার সময় খুব একটা পান না তিনি। তবে প্রতিদিন বাসায় ফিরে কিছুটা সময় ইন্টারনেটে ঘোরাঘুরি করা কামরুন নাহারের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বছর দেড়েক আগে একদিন অনলাইনে ই-শপিংয়ের খোঁজ পান তিনি। 
কামরুন নাহার বলেন, ‘অনলাইন কেনাকাটা আমার জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। একটি জিনিস কিনতে আগে পুরো বিপণিবিতান ঘুরতে হতো। এতে অনেক সময় নস্ট হতো। এখন বিভিন্ন ওয়েবপোর্টালে ঘুরে ঘুরে পণ্য পছন্দ করতে পারি। সবকিছু মিললেই কিনে ফেলি।’
সাকিব আজিজ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন। একটি ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন তিনি। এখন নতুন একটি ল্যাপটপ কিনতে চান। কিছুদিন আগে একটি ওয়েবপোর্টালে চাহিদা অনুযায়ী তিনটি ছবি ও কাঙ্ক্ষিত দাম লিখে বিজ্ঞাপন দিলেন। বিজ্ঞাপন দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই তিনি ৮ হাজার টাকায় ল্যাপটপটি বিক্রি করে দিলেন। 
ক্রেতা-বিক্রেতার এই চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে উঠেছে ২০ থেকে ২৫টি এমন অনলাইন বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম। জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি থেকে শুরু করে হাঁড়ি-পাতিল, মাছ-মাংস পর্যন্ত বিক্রি হয় এসব ওয়েবপোর্টালে। এমন কি কোয়েল পাখির ডিমও বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। 
বিক্রয়ডটকম, ওএলএক্স, এখানেইডটকম, আমার দেশ আমার গ্রাম ই-শপ—এসব অনলাইন পোর্টাল এখন জনপ্রিয়। অন্যদিকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমেও তাদের পণ্য বিক্রি করছে। সেলবাজার (বর্তমানে এখানেইডটকম) ২০১১ সালে প্রথম অনলাইনে বেচাকেনার গোড়াপত্তন করে। 
অনলাইন বেচাকেনা হয় দুভাবে। এখানেইডটকম, বিক্রয়ডটকমের মতো ওয়েবপোর্টালে কোনো বিক্রেতা তাঁর পুরোনো পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। সেই পণ্যের ছবি, দাম, যোগাযোগের নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে। কোনো আগ্রহী ক্রেতা সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওই বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দুজনের আপসের ভিত্তিতে নগদ অর্থে পণ্যটি বেচাকেনা হয়। তবে এসব ওয়েবসাইটে নতুন পণ্যের বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেওয়া শুরু হয়েছে। 
কেনাবেচার সাইটগুলোতে দেখা গেছে, অনলাইন বেচাকেনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিশেষ করে মুঠোফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মডেম, পেনড্রাইভ ইত্যাদি। তরুণ-তরুণীরাই অনলাইনে বেচাকেনা বেশি করেন। 
আবার বেশ কিছু ওয়েবপোর্টাল রয়েছে, যারা নিজেরাই পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ করে। ক্রেতা শুধু পণ্য পছন্দ করে অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন। বাংলাদেশের অন্যতম বড় ফ্যাশন হাউস আড়ং অনলাইনে বেচাকেনা শুরু করেছে। ঈদের সময় প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের জন্য আড়ং থেকে উপহারসামগ্রী কেনেন। আড়ং কর্তৃপক্ষ সেই পণ্য দেশে থাকা ওই আত্মীয়স্বজনের কাছে পৌঁছে দেয়। 

কেনাকাটায় ফেসবুক:

রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে কয়েক শ ফেসবুক শপ তৈরি হয়েছে। ঘরে বসেই এই ব্যবসা করেন উদ্যোক্তারা। এমন ব্যবসা মূলত এফ কমার্স হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ফেসবুকে মূলত ফ্যাশন হাউসই বেশি। ক্রয়াদেশ দিলে উদ্যোক্তারা সেই পণ্যটি ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেন। তবে ফেসবুকে এখনো সীমিত পরিসরে ব্যবসাবাণিজ্য হচ্ছে। মূলত ফেসবুক-বন্ধুরাই ক্রেতা। 

টিকিট মেলে অনলাইনে:

বিমান টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায়, এ খবর অনেক পুরোনো। এক দশক ধরেই বাংলাদেশে অনলাইনে বিমান টিকিট কেনা যায়। এখন দেশের বিভিন্ন রুটের বাস টিকিটও মিলছে। 
সম্প্রতি সহজডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বাসের টিকিট কেনার সুযোগ করে দিয়েছে। সোহাগ, হানিফ, সৌদিয়া, এ আর ট্রাভেলস, টিআর ট্রাভেলসসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের টিকিট পাওয়া যায় সহজডটকমে। 
আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, বান্দরবান, রাঙামাটিসহ ২৯টি বাস রুটের টিকিট অনলাইনে কিনে বিল পরিশোধ করলে নিজের ঠিকানায় পৌঁছে দিচ্ছে সহজডটকম। এ জন্য সেবামাশুল দিতে হয়। 
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন পথের রেল টিকিটও অনলাইনে কেনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এক বছর আগে এ সেবাটি চালু করেছে। 

শাকসবজি সমাহার:

শাকসবজি কিনতে কাঁচাবাজারে যেতেই হবে, এ ধারণাটি বদলে যাচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শাকসবজি এনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজের মাধ্যমে রাজধানীতে তা বিক্রির ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠছে। 
আমার দেশ আমার গ্রাম ই-শপ নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শাকসবজি, মাছ, মধু, হস্তশিল্পসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করছে। এ জন্য অবশ্য ক্রেতাকে ১৫ শতাংশ সেবামাশুল দিতে হয়। ওয়েবসাইটেই পণ্যের দাম-দর দেওয়া থাকে। অনলাইনেই বিল পরিশোধ করতে হয়। 
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘রাজধানীতেই আমাদের ১৬ হাজার নিয়মিত ক্রেতা রয়েছেন। প্রতি শুক্র ও শনিবার ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।’ 
রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্র নামে প্রতি শুক্রবার একটি প্রতিষ্ঠান রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত নানা ধরনের সবজি বিক্রি করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়, এ সপ্তাহে কী ধরনের শাকসবজি পাওয়া যাবে তাদের বিপণনকেন্দ্রে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে