Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৬-২০১২

বিস্তৃত মহাবিশ্ব ও অনুকূল বায়ুম-ল নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা

বিস্তৃত মহাবিশ্ব ও অনুকূল বায়ুম-ল নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা
মহাকাশ ও বায়ুম-ল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি প্রজেক্টে একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রজেক্টগুলোতে কাজ করছে প্রায় দুই শতাধিক বিজ্ঞানী। সম্প্রতি তারা এক সেমিনারে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাদের আলোচনায় নিচের বিষয়গুলো উঠে আসে। অনন্তকাল ধরে বিস্তৃত হবে মহাবিশ্ব ঃ প্রথমে আলোচনা হয় মহাকাশের বিস্তৃতি বিষয়টি নিয়ে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক কয়েকটি অগ্রগতি তুলে ধরেন। তারা মজা করে শুরু করেন এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা মহাবিশ্বের ভাগ্য গণনা করেছেন। গ্যালাক্টিক লেন্স ব্যবহার করে গবেষকরা দেখেছেন, এই মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরেই বিস্তৃত হতে থাকবে। গবেষকরা বিবিসি ও আরো কিছু প্রবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেন। সংবাদ মাধ্যমে কিকি তথ্য প্রকাশিত হয় তাও তারা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তথ্যগুলোর বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারা আরো বলেন , মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ণয়ে জ্যোতির্বিদরা দূরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর এ জন্য তারা ব্যবহার করেছেন অ্যাবেল ১৬৮৯ নামে গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার। ডার্ক ম্যাটারসহ এ গ্যালাক্সি ক্লাস্টারটি গ্যালাক্টিক লেন্স হিসেবে কাজ করে। ডার্ক এনার্জি হলো রহস্যময় এক শক্তি যা মহাবিশ্বের বিস্তৃত হওয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে। আর এ ডার্ক এনার্জির বণ্টন শক্তি জেনেই গবেষকরা মহাবিশ্বের ভাগ্য বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, এ মহাবিশ্ব একদিন শীতল, প্রাণহীন পতিত স্থানে পরিণত হবে। জানা গেছে, এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির গবেষকরা। আর গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে 'সায়েন্স সাময়িকী'তে। গবেষকদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডার্ক এনার্জি আমাদের মহাবিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে অবস্থান করছে এবং এটি আমরা দেখতে পাই না। আমরা কেবল এর অস্তিত্ব টের পাই। কারণ এই ডার্ক এনার্জির জন্যই ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে মহাবিশ্ব। এরপর আলোচনা হয় বায়ুমন্ডল ও মহাবিশ্ব নিয়ে। প্রথমেই উঠে আসে নিচের বিষয়টি। বায়ুম-ল থেকে বিদ্যুৎ ঃ সৌরশক্তি ব্যবহার করে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তেমনি বায়ুশক্তি বা আবহাওয়া থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সম্প্রতি ব্রাজিলের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যাম্পিয়ানসের (ইউসি) গবেষক ফার্নান্দো গেলেমবেক বায়ুম-ল থেকেই বিদ্যুৎ সংগ্রহের উপায় উদ্ভাবন করেছেন। এই বিষয়টি সেমিনারে উঠে আসে। গবেষক ফার্নান্দো গেলেমবেক একজন রসায়নবিদ। তিনি ভবিষ্যতের বিকল্প শক্তির উৎস হতে পারে এমন শক্তি উৎস এবং বায়ুম-ল থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহের উপায় নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, সৌরশক্তি ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যেমন ভাবনার প্রয়োজন হয় না এক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটতে পারে। গবেষকরা ধারণা করতেন বায়ুম-লে ভেসে থাকা পানির কণাগুলো চার্জ নিরপেক্ষ এমনকি তারা চার্জিত ধূলিকণার সঙ্গে এলেও এই ধর্ম বজায় থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধারণা সঠিক নয়। সিলিকা এবং অ্যালুমিনিয়াম ফসফেটের ক্ষুদ্র কণাগুলো আর্দ্র আবহাওয়ায় পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে রূপান্তরিত হতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, আর্দ্র আবহাওয়ায় এই চার্জিত কণাগুলো সংগ্রহ করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিকে গবেষকরা নাম দিয়েছেন 'হাইগ্রোইলেকট্রিসিটি' বা আর্দ্র বিদ্যুৎ। এই সংবাদটি উপস্থাপন করার পর আলোচনা হয় পৃথিবীর বাইরে সম্ভাব্য অনুকূল বায়ুমন্ডল ও প্রাণের বিকাশ নিয়ে। চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠের ছবি ঃ চন্দ্রপৃষ্ঠের অজ্ঞাত অস্তিত্বগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা সংগ্রহ করতে নাসার পাঠানো গ্রেইল ওয়ান ও টু নামক সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দুটি নভোযান প্রত্যাশা পূরণ করতে শুরু করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে কক্ষপথে পেঁৗছানো নভোযান দুটি সম্প্রতি চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠের যে ছবি পাঠিয়েছে। ওই ছবিতে প্রদর্শিত চাঁদের অন্ধকারপৃষ্ঠ সম্পর্কে এতদিন প্রায় অজানাই ছিল সংশ্লিষ্ট নাসা গবেষকরা। নাসার মুখপাত্র চার্লস বোল্ডেন বলেন, চাঁদের উল্টো পিঠে যে এত বিস্ময় রয়েছে তা এই প্রথম জানতে পারলাম আমরা। তিনি বলেন, গাঢ় অন্ধকারে পরিবেষ্টিত ছোট-বড় গর্তগুলোরও রয়েছে নানা অজানা রহস্য। হাজার হাজার বছর আগে ছায়াপথ থেকে ধূমকেতু ও উল্কাপি- পতনের ফলেই সেগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। নতুন মহাজাগতিক আবিষ্কার : ২০০৯ সালের মার্চে প্রায় ষাট কোটি ডলার ব্যয়ে কেপলার নামে একটা দূরবীক্ষণ পাঠিয়ে ছিল নাসা। এটা এ পর্যন্ত ১০৯৬টি গ্রহ আবিষ্কার করেছে। এই টেলিস্কোপ কিছুদিন আগে আবিষ্কার করেছিল কেপলার ২২-বি নামের একটি গ্রহ। ওই কেপলার দূরবীক্ষণ এবার আবিষ্কার করেছে আরো দুটি গ্রহ। এদের নামকরণ করা হয়েছে কেপলার ২০-ই ও কেপলার-২০-এফ নামের গ্রহ। এ আবিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়েছে ১৪ জানুয়ারি বৃটেনের বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে। বিবিসি নিউজের তথ্য মতে এ পর্যন্ত আবিষ্কার করা গ্রহের সংখা প্রায় ৩০০০টি। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ গ্রহ পৃথিবী থেকে দেখা গেছে। আর ২৩০০ গ্রহ মহাকাশ থেকে। কেপলার ২০-ঊ ও কেপলার ২০-ঋ গ্রহ দুটো সূর্যের মতোই একটি তারকার চারপাশে ঘূর্ণায়মান। গ্রহ দুটির একটি পৃথিবীর চেয়ে তিন গুণ বড়। আর একটি এর চেয়ে ১৩ শতাংশ ছোট। শেষের ছোট গ্রহটা শুক্র গ্রহের চেয়ে খানিকটা সরু। পৃথিবীর মতোই, নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ দুটি শিলা দিয়ে গঠিত। তবে তারকা খুব কাছ ঘেঁষে গ্রহ দুটি ঘুরছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা সেখানে অত্যন্ত বেশি। বড় গ্রহটির নাম কেপলার ২০-ঋ যার সৌর বছর হয় ১৯.৫ দিনে। এর বায়ুরস্তুর ঘন বাষ্পীভূত পানি থাকতে পারে। এ ছাড়া ছোট গ্রহটির নাম। কেপলার ২০-ঊ। যার বছর হয় মাত্র ৬.১ দিনে। এত কম সময়ের বছর হওয়ার কারণ হলো ওই দুটি গ্রহ তাদের তারকার খুব কাছ দিয়ে ঘুরছে। ওই দুটো গ্রহ আবিষ্কারকারী বিজ্ঞানীরা বলেছেন পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০০০ আলোকবর্ষ দূরে। মহাজাগতিক এই আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে