Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৩-২০১৪

আইএস যোদ্ধাদের নির্যাতনের শিকার ইয়াজিদি নারী

আইএস যোদ্ধাদের নির্যাতনের শিকার ইয়াজিদি নারী

সিনজার, ২৩ ডিসেম্বর- সম্প্রতি জানা গেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর হাতে ইরাকের ইয়াজিদি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী আটক রয়েছেন। ইয়াজিদি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন, আটককৃত নারীদের মধ্যে অনেকেই যৌন দাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।

অল্প কয়েকজন সেখান থেকে পালাতে পেরেছেন এবং তাদের দুর্ভোগের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

হান্নান তার ছদ্মনাম। ১৮ বছরের এ তরুণী নার্স হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ভবিষ্যৎই ছিনতাই হয়েছে গেছে আইএস এর হাতে। একটি তাবুতে বসে কথা হচ্ছিলো তার সাথে।

আগস্টের এক দিন হান্নান ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তার পরিবারের সদস্যরা উদগ্রীব হয়ে ব্যাগ ঘুচাচেছ। তিনি বুঝতে পারেননি জিহাদিরা যারা নিজেদের ‘দি ইসলামিক স্টেট’ দাবি করে তারা অত্যন্ত নিকটে।

তিনি জানান, তার নিজের শহর সিনজার এর প্রধান সড়ক বন্ধ। তার পরিবারের সদস্যরা অন্য ইয়াজিদদের সাথে যোগ দিল যারা দৌড়চ্ছিল ও কাঁদছিল। মাথার উপর বুলেট উড়ছিল তখন।

তিনি জানান জিহাদিরা সিনজার এর সড়ক তাদের পিক আপ ট্রাক দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় তিনি শহরে ফিরে আসেন যেখানে নারী ও কিশোরীরা একে অপরের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পড়েন।

তারা ছিল ২০ জনের মতো। লম্বা দাঁড়ি ও অস্ত্র সহ। তারা বললো তোমরা মসুল থেকে এসেছ। আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। তারা আঘাত করলো এবং তাদের গাড়ির দিকে টেনে নিলো।

আরও অনেক নারীর সাথে হান্নানকে একটি স্পোর্টস হলরুমে নেয়া হলো। এরপর একটি বিয়ের কক্ষে। একটি স্থানে প্রায় দুশ নারী ও কিশোরী ছিল। এগুলো ছিল দাস মার্কেট। আইএস যোদ্ধারা তাদের নিতে আসতে পারতো।

হান্নান বলেন, “আমরা তাদের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলামনা। আমরা ছিলাম ভীত। তারা যাকে চাইছিল তাকেই নিচ্ছিল। একটা মেয়ে ফিরে এসেছিল যৌন দাস হিসেবে ব্যবহৃত হবার পর। সে আমাদের সবই বলেছিল। আমরা আমাদেরই মেরে ফেলতে চেয়েছি কিন্তু কোন উপায় খুঁজে পাইনি"।

একজন মেয়ে আত্মহত্যা করতে পেরেছিল বলে জানান হান্নান।

সেখানে কিছু বিদেশী যোদ্ধা ছিল কিন্তু অনেকেই ছিল স্থানীয় সুন্নি। হান্নান একজনকে চিনতে পেরেছিল। সিনজারে তার মোবাইল ফোনের দোকান ছিল।

হান্নান জানান একজন তরুণীকে প্রথম নেয়া হয়েছিল, প্রায়ই পাঠানো হতো আইএস ‘রাজধানী’-সিরিয়ার রাক্কায়।

তারা বলতো আমরা তোমাকে তোমার পরিবারের কাছে নেব প্রথমে, শেষ বারের মতো তুমি তাদের দেখবে।

আমরা অনেক কাঁদতাম। আইএস যোদ্ধাদের জিজ্ঞেস করেছি তোমরা এগুলো কেন করছ। তারা শুধু আমাদের লাঠি দিয়ে মারত।

তাদের পরিবারের কাছে না নিয়ে অন্য একটি ঘরে নেয়া হয়েছে। সাতটি মেয়েকে একটি রুমে রাখা হয়। কয়েকজনকে বাইরে নেয়া হতো এবং লাঞ্ছিত হয়ে তারা ফিরে আসতো। বাইরে অস্ত্রধারী পাহাড়া ছিল।

কিন্তু এ কক্ষটির একটি প্লাস্টিকের জানালা ছিল এবং এক রাতে তারা সেটি খুলে ফেলতে সক্ষম হয়।

একজন করে বেরিয়ে আসলাম। আমি ছিলাম পঞ্চম। আমি বাইরে কাজিনের জন্য অপেক্ষো করছিলাম। কিন্তু দেখলাম আলো আসছে। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে পারিনি। দেয়ালের উপর দিয়ে লাফ দিলাম। আমরা দৌড়চ্ছিলাম। আমরা অন্যদের সাহায্য করতে পারিনি।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে