Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১ জুন, ২০২০ , ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৬-২০১২

মহারণ আতঙ্কে পুলিশ

মহারণ আতঙ্কে পুলিশ
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের ১২ মার্চের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মহারণ আতঙ্কে পুলিশ। সেদিন ঢাকা মহানগরীর জনগণের জান-মাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হলেও তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল খুঁজতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করলেও এ ব্যাপারে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পেঁৗছাতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিরোধী দল বিশেষ করে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ঢাকায় ভাংচুর, অগি্নসংযোগ ও বোমা হামলার মতো নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সতর্ক করেছে। এসব আশঙ্কা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশাল জনসমুদ্রে কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটলে তা সামাল দেয়া কতটা সম্ভব তা নিয়ে খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন। শুধু আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করলেই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিএনপি ১২ মার্চের মহা-সমাবেশে ২০ লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। যদি এ টার্গেটের এক চতুর্থাংশ মানুষও কর্মসূচিতে যোগ দেয় তবে ওইদিন গোটা ঢাকা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ অচলাবস্থার মধ্যে কেউ কোনো নাশকতামূলক তৎপরতা চালালে তাকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ অবস্থায় পুলিশকে অনেকটা বাধ্য হয়েই ঢালাও, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস বা রাবার বুলেট নিক্ষেপসহ যে কোনো ধরনের অ্যাকশনে যেতে হবে। আর এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে গোটা ঢাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ১২ মার্চ আন্দোলন কর্মসূচির নামে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছে তা নিয়েও পুলিশ প্রশাসন উদ্বিগ্ন। তাদের ভাষ্য, সরকার ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে। রাজপথে রক্তের বন্যা বয়ে যেতে পারে। আর এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে পুলিশেরও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিএমপির রায়ট ফোর্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে কে বিশৃঙ্খলাকারী, আর কে তা প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে তা শনাক্ত করা কঠিন। দু'পক্ষের কারো পোশাকে বিশেষ তকমা না থাকায় নির্বিচারে লাঠিচার্জ করতে হবে। এ অবস্থায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে। ডিএমপি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, একটি চক্র মহাসমাবেশে যোগ দেয়া নেতাকর্মীদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিকে নাশকতার দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপরও হামলা চালানোরও টার্গেট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের মারমুখী হয়ে ওঠা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা থাকবে না। সূত্র জানায়, মহাসমাবেশের নামে ঢাকায় কয়েক লাখ নেতাকর্মী জড়ো করে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর চারদল অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামায়াত-শিবির রাজধানীর আশপাশের এলাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন জেলা শহরের মাদ্রাসা থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারী ক্যাডারকে ঢাকায় জড়ো করতে পারে। মহাসমাবেশের কয়েকদিন আগেই তাদের ঢাকায় এনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় রাখা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর সব মাদ্রাসার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে মহানগর পুলিশ। ডিএমপির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুকসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গত শনিবার ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা জানান, মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করার বাইরে তাদের আর কোনো টার্গেট নেই। এ ব্যাপারে দলীয় হাইকমান্ড নেতাকর্মীদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করেছেন বলে বিএনপি নেতারা দাবি করেন। পুলিশ কমিশনার এ সময় তাদের আশ্বস্ত করেন, স্বাভাবিক কর্মসূচিতে তারা কোনো ধরনের বাধা দেবে না। বরং কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে। তবে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে মহানগরীতে মাইকিংয়ের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয় বলে তিনি বিএনপি নেতাদের অবহিত করেন। পুলিশের ধারণা, বিএনপির শীর্ষ নেতারা মুখে যে যা-ই বলুক না কেন চারদলের এ বিশাল মহাসমাবেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে। মহাসমাবেশের মূল মঞ্চের কাছাকাছি স্থান দখল নিয়েও নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়ায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা অন্য কোনো দলের সংঘর্ষেরও আশঙ্কা রয়েছে। তাদের এ সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে পুলিশও তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিসি ডিবি মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ মার্চ সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দেবে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের কোনো ধরনের উস্কানির ফাঁদে কেউ যাতে ধরা না দেয় এজন্য আগাম সতর্ক করা হবে। তবে নগরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক থাকবে। আন্দোলনকারীরা যানবাহন ভাংচুর, চলাচলে বাধা, অগি্নসংযোগ বা বোমাবাজিসহ কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে পুলিশ তা দমন করবে। ১২ মার্চ মহাসমাবেশের নিরাপত্তায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রায় দশ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে। নয়াপল্টন, মতিঝিল, কাকরাইলের নাইট এঙ্গেল ক্রসিং, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলার মোড়, শাহজাহানপুর মোড়, মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান ও নর্থসাউথ রোডসহ ঢাকায় প্রবেশমুখী সবক'টি পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পর্শকাতর এসব স্পটে মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান ও ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য সংগ্রহ করবে তারা। যাতে এসব ঘটনায় জড়িতদের পরে সহজেই শনাক্ত করা যায়। ডিএমপি সূত্র জানায়, জলকামান, রায়ট কার, গ্যাসগান ও গ্যাসগ্রেনেডসহ বিপুলসংখ্যক রায়ট ফোর্স রাজারবাগ ও শাহবাগ কন্ট্রোল রুমে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। যাতে তারা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যে কোনো পয়েন্টে ছুটে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। রাস্তায় গাড়ি চলাচলে বাধা, জ্বালাও-পোড়াও বা ভাংচুরসহ যে কোনো ধরনের নাশকতা রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পাশাপাশি তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে র‌্যাব-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে