Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

তিন বছরে ২৬টি মেডিকেল কলেজ

শিশির মোড়ল


তিন বছরে ২৬টি মেডিকেল কলেজ
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত তিন বছরে ২৬টি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ২১টি, বাকি পাঁচটি সরকারি। এই নিয়ে দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৭৫। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ মাত্র ২২টি।
একই সঙ্গে ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি (আইএইচটি) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলও (ম্যাটস) অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। গত তিন বছরে ৩৩টি আইএইচটি ও ৬৭টি ম্যাটসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইএইচটি সরকারি চারটি ও ম্যাটস সরকারি একটি। দেশে এখন সব মিলে আইএইচটি আছে ৮১টি। ম্যাটস আছে ৯৬টি। আইএইচটি থেকে পাস করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ম্যাটস থেকে চিকিৎসা সহকারী হওয়া যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) শাহ আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত তিন বছরের এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে গড়ে প্রতি দেড় মাসে একটি করে মেডিকেল কলেজ এবং প্রতি মাসে গড়ে ৩ দশমিক ৭৫টি করে চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে।
স্বাস্থ্যশিক্ষার এই চিত্র তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, একসময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার একটি হুজুগ পড়েছিল। সেটা এখন পুরোপুরি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। একইভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজও খোলা হচ্ছে। এগুলোর একটা বড় অংশ অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের ঠকাচ্ছে।
ড. মোজাফ্ফর আহমদের এই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায় সরকারি তদন্তের ফলাফলেও। শর্ত মানছে না, এমন অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আকস্মিক পরিদর্শন করে। গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ায় ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ১৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: দেশে বর্তমানে ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে। প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় ১৯৮৫ সালে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পেয়েছে ৩২টি। এর মধ্যে গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অনুমোদন দেওয়া হয় ১৮টি। এবার অনুমোদন দেওয়া হয় ২১টি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন বছরে বেসরকারি খাতে মেডিকেল কলেজে আসন বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই সময়ে সরকারি খাতে আসন বেড়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে এমবিবিএসের আসনসংখ্যা ছিল দুই হাজার ৪০০টি। পুরোনো কলেজে আসন বৃদ্ধিসহ গত তিন বছরে আসন সৃষ্টি হয়েছে এক হাজার ৮৪৫টি। এই সময়ে সরকারি মেডিকেলে আসন বেড়েছে ২৬৭টি। বেসরকারি খাতে মোট আসন এখন চার হাজার ২৪৫টি, আর সরকারি মেডিকেলে আসন দুই হাজার ৮১১টি।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি খাত নজরদারি করার মতো সামর্থ্য ও জনবল সরকারের নেই। এ কারণে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এর খেসারত দিতে হবে জাতিকে।
সরকারি নিয়মে একটি মেডিকেল কলেজের অনুমতি পেতে হলে কলেজ ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত জায়গা, নিজস্ব হাসপাতাল, একাডেমিক ভবনে লেকচার থিয়েটার, টিউটোরিয়াল কক্ষ, অডিটোরিয়াম, পরীক্ষার হল, লাইব্রেরি, কমনরুম ও খেলার জায়গা থাকতে হবে। ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেলসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু এসব শর্ত পূরণ না করেই মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পাচ্ছে।
নিয়ম হলো, প্রতিটি মেডিকেল কলেজে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্রাণরসায়ন, ফার্মাকোলজি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলোজি, ফরেনসিক মেডিসিন, মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, সার্জারি এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা—এই বিভাগগুলো থাকতেই হবে।
কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজেই অ্যানাটমির অধ্যাপক নেই। অ্যানাটমি সোসাইটির সূত্র জানায়, এ বিষয়ে দেশে অধ্যাপক আছেন মাত্র ১২ জন। প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসাশিক্ষার মৌলিক বিষয়ের শিক্ষক ছাড়া কলেজগুলো চলছে কীভাবে? এ অবস্থায় আরও নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমতি পাচ্ছে কীভাবে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একই অবস্থা চলছে ফিজিওলজির ক্ষেত্রে।
কীভাবে অনুমোদন পাচ্ছে: চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন পরিচালক শাহ আবদুল লতিফ জানান, মেডিকেল কলেজকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি। কমিটির প্রধান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে।
শাহ আবদুল লতিফ বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শনের পর একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হয়। ভালো বা মন্দ যা আমরা দেখি, তা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।’
মন্ত্রণালয়ের ওই কমিটির একজন সদস্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মনীতি মেনে অনুমোদন দেওয়া সব সময় হয়তো সম্ভব হয় না। তবে মন্ত্রণালয় কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছে।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ মনে করেন, অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পেছনে আর্থিক বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি আছেন। সে কারণে শিক্ষক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও হাসপাতাল ছাড়াই মেডিকেল কলেজ খোলার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে।
পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অনুমোদন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, এনজিও কর্মকর্তারা মূলত মেডিকেল কলেজগুলোর মালিক। রাজনৈতিক দলের প্রভাব থাকলেও রাজনৈতিক নেতা মেডিকেল কলেজের মালিক, এমন নজির খুব কম।
অবহেলিত বরিশাল বিভাগ: বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে একটি। এই বিভাগে কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পায়নি।
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। সরকারি ছয়টি ও বেসরকারি ৩৪টি নিয়ে মোট ৪০টি। শুধু ঢাকা শহরেই আছে ২৬টি মেডিকেল কলেজ। এর মধ্যে ২৩টি বেসরকারি। শুধু ধানমন্ডি এলাকাতেই আছে সাতটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে সরকারি চারটি ও বেসরকারি সাতটি মেডিকেল কলেজ আছে। রাজশাহী বিভাগে মেডিকেল কলেজ সাতটি, এর মধ্যে বেসরকারি চারটি। খুলনা বিভাগে মেডিকেল কলেজ ছয়টি, এর মধ্যে বেসরকারি চারটি। পাঁচটি করে মেডিকেল কলেজ আছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে। এই দুই বিভাগে তিনটি করে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে