Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

ঢাকা সিটি কপের্ারেশন নির্বাচন : মহাজোটে প্রার্থী হবেন কারা

শাহেদ চৌধুরী


ঢাকা সিটি কপের্ারেশন নির্বাচন : মহাজোটে প্রার্থী হবেন কারা
উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই মৃদুমন্দ হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নগরবাসীর ধারণা, শিগগির এ হাওয়া গতিবেগ পাবে। নির্বাচনে সম্ভাব্য মহাজোট প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন-গুঞ্জরণ এখন স্পষ্ট অবয়ব পাচ্ছে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে কিছুদিন ধরে যাদের নাম শোনা যাচ্ছিল তাদের পাশে একাধিক প্রার্থীর নাম যোগ হয়েছে। বিএনপি ডিসিসি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে কি দেবে না তা নিশ্চিত হতে কিছু সময় লাগতে পারে। ইভিএম সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিএনপি সরাসরি প্রার্থী দেবে, নাকি নাগরিক সমাজের ব্যানারে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাঈদ খোকন কিংবা হাজী সেলিম এবং উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অনেকটা নিশ্চিত বলে যারা ভেবেছিলেন তাদের ভাবনায় ছেদ পড়তে পারে। এ দুটি পদে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে যে দু'জনের নাম এখন শোনা যাচ্ছে তাদের একজন হলেন আওয়ামী লীগের বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না। 'সংস্কারপন্থি' হওয়ার 'অপরাধে' তিনি এখন আওয়ামী রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং টিভির একাধিক চ্যানেলের সঞ্চালক হিসেবে সরকারের বিভিন্ন নীতি-অবস্থানের কঠোর সমালোচক। অন্য যে নামটি আলোচনায় এসেছে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। ফিরোজ রশীদ এক সময় ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে কাজী ফিরোজ রশীদকে মহাজোটের দক্ষিণ ঢাকার মেয়র প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাব দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরশাদের সাম্প্রতিক কিছু আচরণ ও উচ্চারণে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মোটেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদকে প্রশমিত করতে ডিসিসি নির্বাচনে একটি মেয়র পদ জাপাকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো বলেই মনে করেন অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় দল সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র পদে
পরাজয়ের পর ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কম চিন্তিত নন। তারা ডিসিসি নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এ কারণেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ এবং স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে তারা।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় নেতিবাচক ভূমিকার কারণে যাদের এখনও দূরে রাখা হয়েছে তাদের অনেকেরই ইমেজ স্বচ্ছ। তাদের মধ্য থেকে কাউকে মেয়র প্রার্থী করা হলে নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে নমনীয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই এসেছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম।
উত্তর ঢাকা
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম উত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মহাজোটের সমর্থন পাচ্ছেন_ এমন প্রচার বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে। বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এইচএম এরশাদের বৈঠকের আলোকে দৃশ্যপট বদলে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে এইচএম এরশাদ কথা বলেছেন_ জাতীয় পার্টির এমন চার নেতা জানিয়েছেন, উত্তর ঢাকায় মহাজোটের প্রার্থী সমর্থনের বেলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার কথা বলেছেন এইচএম এরশাদ।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয়তার বিচারে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার চেয়ে এগিয়ে আছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। রিপোর্ট অনুযায়ী মায়ার ব্যক্তিগত ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ। এ কারণে মান্নার পক্ষে অবস্থান নিতে পারে দলের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ। তারা আগামী ক'দিনের মধ্যেই এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করে, দলের সমর্থন না পেলে মান্না স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিএনপি সুকৌশলে পরোক্ষভাবে তাকে সমর্থন দিলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন চাইবেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। সে ক্ষেত্রে সর্বস্তরের নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির ব্যানারেই নির্বাচনে লড়বেন তিনি। মোট কথা আগামী মেয়র নির্বাচনে মান্না প্রার্থী হচ্ছেনই।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অবশ্য দলীয় সমর্থন না পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তার ভাষায়, তার কাছে সবার আগে দল। সুতরাং আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত স্বাচ্ছন্দ্যে মেনে নেবেন।
মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপি তাকে সমর্থন দিচ্ছে কি-না। এর জবাবে তিনি বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের লোক। কখনও বিএনপিতে যাবেন না। তাই বিএনপির কাউকে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না। তার কৌতুককর মন্তব্য : বিএনপি আমাকে সমর্থন না করে কোথায় যাবে। তাদের কর্মীরা কি এতিমের মতো ঘুরে বেড়াবে।
উত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মহাজোটের সমর্থন পেতে চাইছেন ঢাকা (উত্তর) মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসাইন আখতার, আওয়ামী লীগ নেতা চিত্রনায়ক ফারুক এবং ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. খন্দকার আজহারুল হক। এ ছাড়া মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম জানা-অজানা অনেকের পোস্টার-ব্যানার শোভা পাচ্ছে দেয়ালে, রাজপথে।
দক্ষিণ ঢাকা
দক্ষিণ ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থন চান ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাবেক সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া ও আওলাদ হোসেন। তাদের মধ্যে সাঈদ খোকন এবং হাজী সেলিম আলোচনার পুরোভাগে। এখানে মহাজোটের প্রার্থী হতে চান কাজী ফিরোজ রশীদ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পক্ষে মহাজোটের সমর্থন চেয়েছেন এইচএম এরশাদ। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তবে তিনি বলেছেন, 'কাজী ফিরোজ রশীদ তো আমারও লোক।' এরপর এ নিয়ে আলোচনা বেশিদূর এগোয়নি।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, ডিসিসি নির্বাচনে মহাজোটের সমর্থনের বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ ঢাকার প্রার্থী সমর্থন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কাজী ফিরোজ রশীদ মহাজোটের সমর্থন পেতে পারেন। এ ধরনের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারও। তিনি বলেন, সমঝোতা হলে কাজী ফিরোজ রশীদ দক্ষিণ ঢাকায় মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ ঢাকায় কাজী ফিরোজ রশীদ মহাজোটের প্রার্থী হলে হাজী মোহাম্মদ সেলিম বিগড়ে যেতে পারেন বলে অনেকেই মনে করছেন। হাজী সেলিম বলেছেন, অনেকেই তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন। হাজী সেলিম বলেন, তিনি অবশ্যই দলের সমর্থন পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে নিরাশ করবেন না। তিনি জানতে চান, কেন তিনি সমর্থন পাবেন না? তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে ১৩৭টি মামলার আসামি হয়েছেন। তার মা ও স্ত্রী নির্যাতিত হয়েছেন।
তবে বিদ্রোহীর কাতারে যেতে চাইছেন না মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তার বক্তব্য, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত দুর্নীতিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। তবে তিনি কখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।
দক্ষিণ ঢাকায় মহাজোটের সমর্থন চান জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা বিনির্মাণ তার অঙ্গীকার। তিনি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা দেখতে চান। এ জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষ সবার সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলতে হলে ঢাকার মেয়র নির্বাচনে জয়লাভের বিকল্প কিছু ভাবা উচিত নয় সরকারি দলের। তাই স্বচ্ছ ইমেজের এমন দু'জনকে তাদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত যাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ নয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে